ভারতের মুকেশ আম্বানিসহ বিশ্বের শীর্ষ ২০ জন ক্রীড়া ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকের সম্মিলিত সম্পদ ৫০৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ১০ জনই ৩৯৬ বিলিয়ন ডলারের মালিক, যা আগের বছরের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। মূলত ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী রব ওয়ালটন শীর্ষ দশে যোগ দিয়েছেন বলেই ব্যবধান বেড়েছে। তিনি ৫৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ২০২২ সালে রেকর্ড ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে ডেনভার ব্রঙ্কোস কিনে নেয়ার মধ্য দিয়ে তিনি ক্লাব মালিক হিসেবে নাম লেখান। 

ক্লাব মালিকদের মধ্যে বেশির ভাগই ফুটবলভিত্তিক এবং তাদের মধ্যে আটজন ১০টি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। মালিকদের মধ্যে পাঁচজনই যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে বিলিয়নেয়ারদের বিনিয়োগের স্বর্গে রূপ নিয়েছে মেজর লিগ সকার। ফোর্বস জানিয়েছে, অন্তত ১৯ জন বিলিয়নেয়ার কিংবা বিলিয়নেয়ার পরিবারের সদস্য মেজর লিগ সকারের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত। এ বছরই লসঅ্যাঞ্জেলেস ফুটবল ক্লাব লিগটির প্রথম বিলিয়ন ডলারের ফ্র্যাঞ্চাইজি হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেখানে ফুটবল ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। এছাড়া এনএফএলে শীর্ষ বিশের সাতজন মালিক ও এনবিএতে পাঁচজন মালিক রয়েছেন। 

মুকেশ আম্বানি

দেশ: ভারত। দল: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। সম্পদের উৎস: বিবিধ। মোট সম্পদ: ৮৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। 

ক্রীড়া ক্লাবের মালিকদের মধ্যে শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি। তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালিক। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (বার্ষিক রাজস্ব ১০৪ বিলিয়ন ডলার) মাধ্যমে তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালিক হয়েছেন। ফোর্বসের তথ্যমতে, ১০৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি। সম্প্রতি নারী প্রিমিয়ার লিগেও একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে রিলায়েন্স। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০ লিগেও তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েছে।

এ বছর মার্চে ফোর্বসের দেয়া হিসাব অনুযায়ী, আম্বানির সম্পদ ৮৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের। ক্লাব মালিকদের মধ্যে শীর্ষ ধনীর জায়গাটি তিনি দখল করেন লসঅ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্স মালিক স্টিভ বলমারকে হটিয়ে। আম্বানির রিলায়েন্স কোম্পানির শেয়ারের ৩ শতাংশ দরপতন হলেও তা মাইক্রোসফটের মতো নয়। ২০০০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাইক্রোসফটের সিইও ছিলেন বলমার। মাইক্রোসফটের শেয়ারের ১৩ শতাংশ দরপতন ঘটলে বলমার ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সম্পদ হারান। তার সম্পদ ৮০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে যাওয়ার কারণেই ধনী ক্লাব মালিকদের তালিকায় তাকে টপকে ১ নম্বরে উঠে যান আম্বানি। 

স্টিভ বলমার

দেশ: যুক্তরাষ্ট্র। দল: এলএ ক্লিপার্স। সম্পদের উৎস: মাইক্রোসফট। মোট সম্পদ: ৮০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। 

মাইক্রোসফটের সাবেক সিইও ২০১৪ সালে ২ বিলিয়ন ডলার খরচ করে লসঅ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্স কিনে নেন। সেই থেকে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পেছনে অঢেল অর্থ খরচ করে গেছেন। তার পরবর্তী পদক্ষেপ হলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে দলটির জন্য ২ বিলিয়ন ডলারে একটি নতুন অ্যারেনা তৈরি করা। 

রব ওয়ালটন

দেশ: যুক্তরাষ্ট্র। দল: ডেনভার ব্রঙ্কোস। সম্পদের উৎস: ওয়ালমার্ট। মোট সম্পদ: ৫৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। 

গত বছর জুনে ক্রীড়া ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে ডেনভার ব্রঙ্কোস কিনে নেন ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী রব ওয়ালটন। যদিও দলটির হয়ে প্রথম মৌসুমটি তার ভালো যায়নি।

ফ্রাঁসোয়া পিনো ও পরিবার

দেশ: ফ্রান্স। দল: স্তাদে রেনেঁ এফসি। সম্পদের উৎস: অভিজাত পণ্য। মোট সম্পদ: ৪০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। 

১৯৯৯ সালে বৃহদংশ শেয়ার কিনে গুচির নিয়ন্ত্রণ নেন ফ্রাঁসোয়া পিনো। এরও এক বছর আগে অভিজাত পণ্যের ব্র্যান্ড কেরিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঁসোয়া পিনো কিনে নেন ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ফুটবল দল স্তাদে রেনেঁ এফসি। যদিও ক্লাবটি লিগে কখনই শীর্ষ তিনে যেতে পারেনি। 

মার্ক ম্যাটেশিট

দেশ: অস্ট্রিয়া। দল: নিউইয়র্ক রেড বুলস, রেড বুল রেসিং ও আরবি লিপজিগ। সম্পদের উৎস: রেড বুল। মোট সম্পদ: ৩৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

গত বছর অক্টোবরে মারা যান রেড বুলের প্রতিষ্ঠাতা ডিয়েট্রিচ ম্যাটেশিট। তখনই কোম্পানির ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক হয়ে যান ৩০ বছর বয়সী মার্ক। এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক রেড বুলস, আরবি লিপজিগ ও ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের দল রেড বুল রেসিং ও স্কুদেরিয়া আলফা তাউরির কর্তৃত্ব পান।

জেমস র‍্যাটক্লিফ

দেশ: যুক্তরাজ্য। দল: ওজিসি নিস। সম্পদের উৎস: কেমিক্যালস। মোট সম্পদ: ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

ইনেওসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জিম র‍্যাটক্লিফ তার কেমিক্যাল কোম্পানিকে পরবর্তী সময়ে নানাবিধ ব্যবসায় রূপ দিয়েছেন। ২০১৯ সালে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের দল ওজিসি নিস কিনে নেয় তার মালিকানাধীন কোম্পানি। বর্তমানে তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিনে নেয়ার চেষ্টা করছেন। 

মাসাইয়োশি সন 

দেশ: জাপান। দল: ফুকুওকা সফটব্যাংক হকস। সম্পদের উৎস: ইন্টারনেট, টেলিকম। মোট সম্পদ: ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

মাসাইয়োশি সন সফটব্যাংক গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি এটিকে টেলিকম ও বিনিয়োগ ফার্মে রূপ দেন। একই সময় তিনি জাপানি বেজবল দল ফুকুওকা সফটব্যাংক হকস ক্লাবের দায়িত্ব নেন। তার সময় ক্লাবটি সাতটি চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে, যার মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা চারটি। মেজর লিগ সকারের দল মায়ামি ইন্টারেও বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি, যদিও ২০২১ সালে এটি ছেড়ে দেন এ ধনকুবের। 

ডেভিড টপার 

দেশ: যুক্তরাষ্ট্র। দল: ক্যারোলিনা প্যানথার্স, শারলট এফসি। সম্পদের উৎস: হেজ ফান্ড। মোট সম্পদ: ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

গোল্ডম্যান স্যাকসের এক সময়কার শীর্ষ কর্মকর্তা ডেভিড টপার ১৯৯৩ সালে আপালুসা ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার সেরা সময়ে ২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। পরে তিনি খেলাধুলায় নাম লেখান। ২০১৮ সালে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে ক্যারোলিনা প্যানথার্স কিনে নেন। তখনই তিনি এর জেনারেল ম্যানেজার ও হেড কোচ পরিবর্তন করেন। 

ড্যানিয়েল গিলবার্ট 

দেশ: যুক্তরাষ্ট্র। দল: ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্স। সম্পদের উৎস: কুইকেন লোনস। মোট সম্পদ: ১৮ বিলিয়ন ডলার।

মর্টগেজ ইন্ডাস্ট্রিতে শীতনিদ্রার কারণে ২০২১ সালে কুইকেন লোনস ও স্টকএক্সেরসহ প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল গিলবার্টের সম্পদ ৫১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশ কমে যায়। তবু ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সে তার বিনিয়োগ চলছিল। ২০০৫ সালে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কেনেন তিন, যার বর্তমান মূল্য ২০৫ কোটি ডলার। 

স্টিভ কোহেন

দেশ: যুক্তরাষ্ট্র। দল: নিউইয়র্ক মেটস। সম্পদের উৎস: হেজ ফান্ড। মোট সম্পদ: ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

দুই হাত ভরে খরচ করে ক্রীড়া দুনিয়ায় আলোচনায় আসেন স্টিভ কোহেন। এর আগে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের একজন ট্রেডার ছিলেন। তার ২৭ বিলিয়ন ডলারের পয়েন্ট৭২ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ২০১৭ সালে রাজধানীর বাইরেও সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজ করছিল। এটি গত বছর ২.৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করে।