ঠিক এক বছর পর শ্রীলংকার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে পাকিস্তান। গত বছর ১৬ জুলাই গলে শুরু হয়েছিল প্রথম টেস্ট, যেটিতে জিতেছিল পাকিস্তান। আজ ১৬ জুলাই সেই মাঠেই আবার খেলতে নামছে বাবর আজমের দল। এবারো দুই টেস্টের সিরিজ। পরেরটি কলম্বোয়। গত বছর গলেই হয়েছিল দুটি টেস্ট। ২৪ জুলাই শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্ট জিতেছিল স্বাগতিকরা (১-১)। এবারো সেই ২৪ জুলাই শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এবার কী ফল হবে দুই টেস্টের সিরিজে?
উপমহাদেশের এ দুটি দেশ টেস্ট লড়াইয়ে প্রায় সমানে সমান। শ্রীলংকা ও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ৫৭টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে পাকিস্তান ২১টি ও শ্রীলংকা ১৭টিতে জিতেছে। ড্র হয়েছে ১৯টি। শ্রীলংকার মাঠে অবশ্য এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। দ্বীপদেশে এখন পর্যন্ত এ দুটি দল ২৫ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে শ্রীলংকা আটটি ও পাকিস্তান নয়টি জিতেছে, ড্র হয় আটটি।
১৯৮২ সালে পাকিস্তান ও শ্রীলংকার টেস্ট দ্বৈরথের সূচনা। প্রথম দেখাতেই শ্রীলংকাকে ২০৪ রানে হারায় পাকিস্তান। তখন ছিল পাকিস্তানের দাপট। তাদের প্রথম হারের স্বাদ দিতে সিংহলিজদের লেগেছিল চার বছর, খেলতে হয়েছিল আটটি ম্যাচ।
এ সিরিজে শ্রীলংকার জন্য চিন্তার কারণ হতে পারেন পাকিস্তান দলনায়ক বাবর আজম। শ্রীলংকার বিপক্ষে মাত্র ছয়টি টেস্ট খেলে ৬৩.৫৫ গড়ে ৫৭২ রান করেছেন তিনি। সমান তিনটি সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি তার। শ্রীলংকার বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক সাবেক অধিনায়ক ইউনুস খান। তিনি ২৯ টেস্টে ৫১.৯৫ গড়ে ২ হাজার ২৮৬ রান করেছেন; সেঞ্চুরি করেন আটটি, হাফসেঞ্চুরি ছয়টি।
বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৬ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাবেক ডানহাতি অফ স্পিনার সাঈদ আজমল। তিনি শ্রীলংকার মাঠে আট টেস্টে নিয়েছেন ৩৮ উইকেট। তবে শ্রীলংকার মাঠে মাত্র পাঁচ টেস্টে ৩৩ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ।
এবার পাকিস্তানের ভরসার নাম ফাস্ট বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি, এখন পর্যন্ত শ্রীলংকার বিপক্ষে তিনটি টেস্ট খেলে নিয়েছেন ১২ উইকেট। চোট কাটিয়ে এক বছর পর টেস্ট খেলতে নামছেন তিনি। সেই সঙ্গে টেস্টে ‘১০০’ উইকেট শিকারের হাতছানি। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘যে দেশে চোটে পড়েছিলাম সেখানেই টেস্টে প্রত্যাবর্তন করছি বলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চোট অ্যাথলিটের জীবনের অংশ। কিন্তু ফেরাটা আনন্দের। আমি লাল বলের ক্রিকেট অনেক উপভোগ করি এবং টেস্টে উইকেটের সেঞ্চুরি থেকে মাত্র একটি উইকেট দূরে আমি, যা আমার জন্য বড় এক অর্জন হতে চলেছে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলংকার সফলতম ব্যাটার কিংবা বোলাররা এখন সবাই ‘সাবেক’। কুমার সাঙ্গাকারা ২ হাজার ৯১১ রান, মাহেলা জয়াবর্ধনে ১ হাজার ৬৮৭ রান, সনাথ জয়সুরিয়া ১ হাজার ৪৯০ রান ও অরবিন্দ ডি সিলভা ১ হাজার ৪৭৫ রান করেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। আর বোলিংয়ে ১০৬ উইকেট নেয়ার কীর্তি আছে রঙ্গনা হেরাথের, যিনি এখন বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ। এছাড়া মুত্তিয়া মুরালিধরন ৮০ উইকেট নিয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারির পর এ প্রথম টেস্ট খেলতে নামছে পাকিস্তান। তখন ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দুটি টেস্টেই ড্র করে বাবর আজমের দল। সেই তুলনায় শ্রীলংকার প্রস্তুতিটা দুর্দান্তই। গত এপ্রিলে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডকে দুই টেস্টের সিরিজে দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হারায় তারা। এরপর সদ্যই জিম্বাবুয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছে। আত্মবিশ্বাসী এক শ্রীলংকার সামনেই পড়তে যাচ্ছে পাকিস্তান।










