দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন
ও ইউরোপের পরাশক্তি জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখাল লাতিন দল কলম্বিয়া। ১৮ বছর
বয়সী লিন্ডা কাইসেদা ও ম্যানুয়েলা ভানেগাস গোল করে কলম্বিয়াকে জেতান।
সিডনিতে আজ রোববার ‘এইচ’
গ্রুপের ম্যাচে ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে গোল করেন ভানেগাস। কাইসাদো
৫২ মিনিটে বাঁকানো শটে দুর্দান্ত এক গোল করে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেয়ার পর ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি
থেকে গোল করে সমতা আনেন জার্মানির অধিনায়ক আলেক্সান্দ্রা পপ। এরপর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা।
লেইসি স্যান্টোসের কর্নারে মাথা ছুঁয়ে গোল করেন ভানেগাস।
১৯৯৫ সালের পর এই প্রথম
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে হারল জার্মানি। মাঝের এই সময় তারা ২০ ম্যাচে অপরাজিত ছিল।
এই হারে খানিকটা বিপাকে
পড়ল জার্মান নারীরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে শেষ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে এক পয়েন্ট চাই
কলম্বিয়ার। অন্যদিকে, নকআউট পর্বে যেতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জিততেই হবে জার্মানিকে।
কলম্বিয়া ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে। সমান ৩ পয়েন্ট জার্মানি ও মরক্কোর। আজ সকালের
ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় মরক্কো।
গত বছর কাতারে পুরুষদের
ফুটবল বিশ্বকাপে আফ্রিকা ও আরবের প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলে ইতিহাস গড়ে মরক্কো।
এবার সেই মরক্কোর নারী ফুটবল দলও বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল। দলটির ডিফেন্ডার নুহাইলা বেনজিনা
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম হিজাব পরে খেলেছেন। এই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ারে হারিয়ে আরেকটি
ইতিহাস গড়েন মরক্কোর মেয়েরা। প্রথম আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটি বৈশ্বিক
আসরে পেল প্রথম জয়ের স্বাদ।
ইবতিসাম জেরাইদির গোলে
অঘটন ঘটিয়েছে মরক্কো। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে গোলটি করেন তিনি। এতে ১৭ র্যাংকধারী দক্ষিণ
কোরিয়াকে হারিয়ে দেয় ৭২ র্যাংকধারী মরক্কো।
প্রথম ম্যাচে সর্বকনিষ্ঠ
খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাসি ফাইর আজ বদলি হিসেবে নামলেও লক্ষ্যভেদ
করতে পারেননি। তার একটি শট বারের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
জয় শেষে বাধাভাঙা আনন্দে
মেতে ওঠেন মরক্কোর খেলোয়াড়রা। গোলদাতা জেরাইদি বলেন, ‘আমাদের পরিশ্রম কাজে এসেছে বলে
আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই জয় মরক্কো ও আরবের। আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল।’
প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে
৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে যাওয়া মরক্কো ঘুরে দাঁড়িয়ে আজ কোরিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ
পারফর্ম করেছে। প্রথমার্ধে দুই দলের মাত্র একটি শট লক্ষ্যে আঘাত হানে, সেটি মরক্কোর।
হানানে আইত এলহাজের ক্রসে হেড নিয়ে গোলটি করেন জেরাইদি। এটা বিশ্বকাপে মরক্কোর প্রথম
গোল। এই গোলটিই তাদের প্রথম জয়ও এনে দেয়।










