এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ‘ই’ গ্রুপে তিনটি দলই ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে উপরে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানের কাছে হেরেছে জামাল ভূঁইয়ারা। তাতে বাছাইপর্বের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত। এখন শুধু যদি-কিন্তুর সমীকরণে ক্ষীণ আশা টিকে আছে। তবু ছাড় দিতে চায় না হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। লড়াই করতে চায় শেষ পর্যন্ত। আজ মঙ্গলবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচটি শুরু হবে। ম্যাচটি সরাসরি দেখাবে টি স্পোর্টস।

 

বাংলাদেশের বড় পুঁজি এখন আত্মবিশ্বাস। লড়াকু মনোভাবে বড় দলগুলোর বিপক্ষে যে গোল পাওয়া যায়, তার বড় উদাহরণ তুর্কমেনিস্তান ম্যাচ। বিপলু-বাদশারা যে কয়টি গোলের সুযোগ পেয়েছিল, তা কাজে লাগাতে পারলে তিন পয়েন্টও পাওয়া যেত। এই দুই দিনে তাই আগের ভুলগুলো শুধরে নেয়ার চেষ্টা চলেছে। কোচ কাবরেরা জোনাল মার্কিং, ম্যান মার্কিংয়ের সঙ্গে কীভাবে প্রতি আক্রমণে উঠে গোল করতে হবে, সেগুলো নিয়েও কাজ করেছেন।

 

তবে বাছাইয়ে প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়ার প্রাপ্তি কম নয়। আগের দুই ম্যাচের একটিতে জিতেছে তারা, হেরেছে অন্যটি। বাহরাইনের কাছে ২-১ গোলে হারলেও তুর্কমেনিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। বাহরাইন ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে। আজ বাংলাদেশকে হারাতে পারলে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়া প্রায় নিশ্চিত হবে মালয়েশিয়ার। আর আজ আরেক ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের কাছে বাহরাইন হারলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হতে পারে স্বাগতিকরা।

 

মালয়েশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ কিম প্যান গন বাংলাদেশকে সমীহই করছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভালো খেলছে। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেয়ারও চেষ্টা করছে। তাদের প্রতি সমীহ আছে। তবে নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে আমরাই জিতব।

 

এখন পর্যন্ত দুই দল ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। তাতে মালয়েশিয়ার জয়ের পাল্লাই বেশি ভারী। তারা জিতেছে ৬টিতে, বাংলাদেশ একটিতে। ড্র হয়েছে দুটি। ১৯৭৫ সালে মারদেকা কাপে প্রথম মুখোমুখি হয় দুই দল। প্রথম ম্যাচেই লাল-সবুজ দলকে ৩-০ গোলে হারতে হয়েছে। পরের বছর কিংস কাপে ৬-০ গোলে সবচেয়ে বড় লজ্জার হার দিয়েছে মালয়েশিয়া। জয় বলতে ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসে ২-১ গোলে। আশিষ ভদ্র ও প্রয়াত বাদল রায় গোল দুটি করেছিলেন। আর ২০১২ ও ২০১৫ সালে সবশেষ দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল।

 

দীর্ঘ ৭ বছর পর পুরনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি বাংলাদেশ। জামালদের হারানোর কিছু নেই। দুই ম্যাচ হেরে চূড়ান্ত পর্বের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তার পরেও বিদায় নেয়ার আগে দলের কোচ ও অধিনায়ক দেশবাসীকে কিছু একটা উপহার দিতে চাইছেন।