গত বছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সেটাই ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের প্রথম কোনো টেস্ট ম্যাচে জয় এবং পাকিস্তানের মাঠে তো বটেই। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরেকবার পাকিস্তান সফরে যায় টাইগাররা। এবার ছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন। দুবাইতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর, রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর, ফিল সিমন্সের শিষ্যদের খেলার কথা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। যদিও পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সেই ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। এক বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চলতি মাসের শেষদিকে শুরু হয়ে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাকিস্তানের মাটিতে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবেন মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেনরা।

আসন্ন পাকিস্তান সফরে সমান তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলার কথা ছিল দুই দলের। যদিও সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে এখন শুধুই পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বছর ভারত ও শ্রীলংকায় বসছে পরবর্তী আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। এটা সামনে রেখেই ওয়ানডে বাদ দিয়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। দুই দেশের বোর্ড এ ব্যাপারে একমত হয়েছে।

27

ফয়সালাবাদে ২৫ মে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এ সিরিজ। একই ভেন্যুতে ২৭ মে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। এরপর ৩০ মে, ১ ও ৩ জুন লাহোরে সিরিজের শেষ তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে শারজায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। শারজায় ১৭ ও ১৯ মে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নেবে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে ১৭ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে ফয়সালাবাদে। ইকবাল স্টেডিয়ামে ২৪টি টেস্ট ও ১৬টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও এই প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

বাকি তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সংস্কারের পর নতুন রূপ পাওয়া লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। সংস্কারের পর এ প্রথম গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে পাকিস্তান। ম্যাচ শুরুর সময় এখনো চূড়ান্ত না হলেও জানা গেছে, গ্রীষ্মের উচ্চ তাপের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরু হতে পারে প্রতিটি ম্যাচ।

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলংকান ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসনে যায়। প্রায় এক দশক পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে সবকিছু। ওই ঘটনার পর পাকিস্তানের পঞ্চম ভেন্যু হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়াম। লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, করাচি ও মুলতানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ফয়সালাবাদ।

শারজায় স্বাগতিকদের সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলার পর ২১ মে পাকিস্তানে পৌঁছবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এ সিরিজ খেলে আসার পরই পাকিস্তানের সঙ্গে হোম সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ফিরতি সিরিজে চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দেশ। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

পাকিস্তান সুপার লিগ শেষ হবে ১৮ মে। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে হোম সিরিজ শুরু হবে আগা সালমানদের। গত বছর অক্টোবরে ইংল্যান্ড দলের সফর থেকে শুরু করে ঘরের মাঠে একের পর এক সিরিজ খেলে যাচ্ছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আসরও। এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সদ্যই জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ করেছে। সিলেটে প্রথম টেস্ট হারলেও চট্টগ্রামে মেহেদী হাসান মিরাজের বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ দল। সিরিজটা ১-১-এ ড্র করার সুখস্মৃতি নিয়ে পাকিস্তান সফর করতে পারছে টাইগাররা।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৯ ম্যাচের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনটি, বাকি ১৬ ম্যাচ জিতেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের মাটিতে হয়েছে তিনটি ম্যাচ, যার সবগুলোয় হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে করাচিতে ১০২ রানে এবং ২০২০ সালে লাহোরে যথাক্রমে ৫ উইকেটে ও ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।

২০০৬ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১৮২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৭১টি জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে ১০৭টি। পাকিস্তান ২৫৮ ম্যাচ খেলে ১৪৫টি জিতেছে, হেরেছে ১০২টি। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করে পাকিস্তান।

এদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে আসন্ন দুই ম্যাচের হোম সিরিজ নিয়ে এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের সিওও সুবহান আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে আরেকটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন নিয়ে আমরা শিহরিত। মানসম্মত দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলাকে সব সময়ই অগ্রাধিকার দেয় এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড। গত তিন বছরে আমরা নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের মতো আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের সঙ্গে খেলেছি। সেই সঙ্গে তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হতে যাচ্ছে। আসন্ন এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজটা দারুণ সহায়ক হবে এবং এজন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই। শারজাহ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য আদর্শ একটি ভেন্যু, আমরা দুটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের অপেক্ষায় আছি।’

বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজন করায় এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। এশিয়া কাপসহ আসন্ন ব্যস্ত সূচিতে এ দুটি ম্যাচ দারুণ ভূমিকা রাখবে। আমি বিশ্বাস করি, এ দুটি ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিসিবি ও ইসিবির মধ্যকার সম্পর্ক আরো মজবুত হবে এবং দর্শকরা ম্যাচ দুটি উপভোগ করতে পারবেন।’