তবে সেখান থেকে মাত্র দুটি উঠেছে শেষ ষোলোয়। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো আগেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে, যারা গতকাল রাতে কানাডার মুখোমুখি হয়। এছাড়া সর্বশেষ শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে মিসর। মোহাম্মদ সালাহর দল শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে। ফারাওদের রেস এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে, কেননা তাদের সামনে এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টে জিতলেও মিসরের বিপক্ষে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন লিওনেল মেসিরা।
মেসিদের বিপক্ষে ম্যাচে কী ঘটবে, সেটি পরের ব্যাপার। আপাতত ইতিহাস গড়ার আনন্দে মাতোয়ারা সালাহ, সাবের, আসুররা। নিজেদের ইতিহাসে এ প্রথম বিশ্বকাপের নকআউটে কোনো ম্যাচ জিতল ফারাওরা।
পেনাল্টি শুটআউটে মিসরের চতুর্থ শট বল জালে পাঠিয়েই জার্সি খুলে ফেললেন হোসাম আব্দেলমাজিদ। বাঁধভাঙা আনন্দের কারণ—এ গোলেই মিসরীয় ফুটবলে লেখা হলো নতুন ইতিহাস। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে প্রথম জয় পেল ফারাওরা। শুক্রবার রাতে ডালাসে শেষ বত্রিশের ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা শেষে ১-১ গোলে সমতায় থাকে দুই দল। এরপর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতেছে মিসর।
১৯৩৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসরে খেলেছে মিসর। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে তারা বিশ্বকাপে ফিরে আসে ১৯৯০ সালে। এরপর আবার ছয় আসরের বিরতি। রাশিয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় ঘটে। কাতারে সর্বশেষ আসরে কোয়ালিফাই করেনি সালাহদের দল। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আসরে ফিরেই ইতিহাস গড়ল হোসাম হাসানের দল। ৯২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে জয়ও পেল ‘ফারাও’রা।
মিসরের হয়ে সালাহর ক্যারিয়ার কখন থামবে, সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ের হাতেই তোলা থাক। আপাতত এটা নিশ্চিত হলো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিসরের প্রথম জয়ের সময় অধিনায়ক ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী সালাহ। আর একটি গোল করলেই মিসরের বর্তমান কোচ হোসাম হাসানকে ছুঁয়ে ফেলবেন সালাহ। মিসরকে শেষ ষোলোয় তোলার পর তিনি বলেন, ‘আজ আমার অনুভূতি অবিশ্বাস্য। আমি সবসময়ই ছেলেদের খুশি থাকতে ও হাসতে দেখতে চেয়েছি। এর সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। আজ আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন।’
১৯৩৪ সালে হাঙ্গেরির কাছে শেষ ষোলোয় ৪-২ গোলে হেরেছিল মিসর। ১৬ দলের সেই আসরে কোনো গ্রুপ পর্ব ছিল না, সবাই সরাসরি নকআউটে খেলেছে। এবার গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে জিতল সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা। এছাড়া ৯২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে গোল পেল দলটি। বিশ্বকাপের এ ধাপে কোনো দেশের দুই গোলের মাঝে দীর্ঘতম সময়ের ব্যবধান এটিই। আগের দীর্ঘতম ব্যবধান ছিল নরওয়ের ৮৮ বছর।
মিসর ইতিহাস গড়লেও অস্ট্রেলিয়া হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। এর আগে দুইবার শেষ ষোলোয় হেরেছিল তারা—২০০৬ সালে ইতালির কাছে ১-০ গোলে ও ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে।
মূল ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। মিসর এগিয়ে যায় শুরুতেই। ১৩ মিনিটে ইমাম আসুর গোল করেন। ৫৫ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করেন মিসরের মোহাম্মদ হানি। সেই স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে অতিরিক্ত সময়েও। এরপর টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ। অস্ট্রেলিয়ার চার শটের দুটি ব্যর্থ হয়—একটি উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে, একটি লাগে ক্রসবারে। মিসরের চার শটের সবক’টিই খুঁজে পায় ঠিকানা। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে গোল না পেলেও টাইব্রেকারে পানেনকা শটে বল জালে পাঠান মিসর ফুটবলের পোস্টার বয় সালাহ।
জয়ের পর ইতিহাস গড়ার আনন্দে মেতে ওঠেন সালাহ ও তার সতীর্থরা। সালাহর চোখে দেখা যায় আনন্দাশ্রু।
নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে কোনো জয়ই ছিল না মিসরের। অথচ এখন তারা নকআউটেও জয় পেল। গতকাল দলের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর কোচ হাসান বলেন, ‘আমি কেবল মিসরের সমর্থকদের কথাই ভাবছি। ম্যাচের গোটা সময় ও টাইব্রেকারের সময় আমি প্রার্থনা করছিলাম। সৃষ্টিকর্তা, দয়া করে মিসরের মানুষকে আনন্দিত করো। পেনাল্টি শুটআউটের আগেও আমি এটা করে গেছি।’
মিসরের হয়ে টাইব্রেকারে গোল করেন মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, সালাহ ও হোসাম আব্দেলমাজিদ। তাদের কেউই পেনাল্টি মিস করেননি। অন্যদিকে সকারুদের দুজন মিস করেন। টাইব্রেকারের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত নিয়ে মিসর কোচ হোসাম হাসান বলেন, ‘আমি তাদের কাছে গিয়ে চাপমুক্ত করার চেষ্টা করেছি। বলেছি, চাপের কথা ভুলে যাও। কোনো কিছুর কথা না ভেবে, ঠিক নিজের কাজটি করো। কেবল পেনাল্টির দিকে মনোযোগ দাও। কেবল গোলকিপারের কথা ভাবো।’









