সংযুক্ত আরব আমিরাতে আর ছয়দিন পরই শুরু হবে এশিয়া কাপ টি২০। আইসিসি টুর্নামেন্টের বাইরে অংশগ্রহণকারী দল সংখ্যার বিচারে এশিয়া কাপ সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ২৭ আগস্ট শুরু হবে এশিয়ার সর্বোচ্চ এ ক্রিকেট আসর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ নিয়ে চতুর্থবার বসছে এ ক্রীড়াযজ্ঞ। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে এবারের এশিয়া কাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ।
আজ থেকে ৩৮ বছর আগে শারজায় বসেছিল এশিয়া কাপের প্রথম আসর, যাতে অংশ নিয়েছিল ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। সেবার সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বে শিরোপা জিতে নিয়েছিল ভারত। এরপর আরো ছয়বার এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এশিয়ার পরাশক্তিরা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও ভারত। ২০১৮ সালে এ আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালে তারা বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারিয়েছিল।
এশিয়া কাপে ভারতের পর দ্বিতীয় সফলতম দল শ্রীলংকা। তারা মোট পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুবার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন তিনবার রানার্সআপ পজিশন। ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৮ আসরে কাছাকাছি গিয়ে শিরোপাবঞ্চিত হয় টাইগাররা। ২০১৬ সালে টি২০ সংস্করণের ফাইনালে ভারতের কাছে হার ৮ উইকেটে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২০১২ আসরের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায় বাংলাদেশের। আরব আমিরাতে ২০১৮ এশিয়া কাপ ফাইনালে তামিম ইকবালদের হার ৩ উইকেটে।
আরেকটি এশিয়া কাপ দুয়ারে। এবারের আসরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল শ্রীলংকায়। তবে দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে তারা আসরটি আয়োজনে অপারগতা জানায়। ফলে এটি আরব আমিরাতে স্থানান্তরিত হয়।
এশিয়া কাপ কখনই ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হয়নি। যদিও ২০০৮ সাল থেকে এটি বিশ্বকাপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, এমন বছরে নিয়মিত হয়ে আসছিল। যদিও কভিড-১৯ মহামারীতে এটি আবার বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ২০২০ সালের আসরটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।
এবারের আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৬টি দল। ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বাইরে একটি দল আসবে বাছাইপর্ব খেলে। গতকাল ওমানে শুরু হয়েছে চার দলের বাছাইপর্ব, যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে আরব আমিরাত, হংকং, সিঙ্গাপুর ও কুয়েত। বাছাইপর্বের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আল এমারাত স্টেডিয়ামে। দলগুলো প্রত্যেকেই একে অন্যের বিপক্ষে দুবার করে খেলবে এবং বিজয়ী দলটি মূল পর্বে যোগ দেবে।
ছয়টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে খেলবে বাছাইপর্বের বিজয়ী দল এবং ‘বি’ গ্রুপে লড়াই হবে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের। গ্রুপে প্রত্যেক দল একে অন্যের বিপক্ষে একবার করে খেলবে এবং গ্রুপের শীর্ষ দুই দল ‘সুপার ফোর’-এ উঠবে। সেখানে প্রতিটি দল অন্য সব দলের বিপক্ষে একবার করে খেলবে এবং শীর্ষ দুই দল উঠবে ফাইনালে।
এটি এশিয়া কাপের ১৫তম আসর। আগের ১৪ আসরের মধ্যে একটি ছিল টি২০ সংস্করণের। ২০১৬ সালেও টি২০ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে এশিয়া কাপ আসরটি ২০ ওভারের ছিল। এশিয়া কাপ ফাইনালের দুদিন পর শুরু হয় টি২০ বিশ্বকাপ।
এশিয়া কাপ কোন ফরম্যাটে হবে, তা নির্ভর করছে কোন বছর অনুষ্ঠিত হয় তার ওপর। যেমন আগামী বছর পাকিস্তানে এশিয়া কাপ হবে ওয়ানডে সংস্করণে, কেননা ওই বছরই ভারতের মাটিতে বসবে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসর।
দুই চিরবৈরী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের কারণেই বারবার ক্রিকেট আসর বসেছে আরব আমিরাতের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এ নিয়ে চতুর্থবার এশিয়া কাপ আসর বসছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে।
মরুর দেশে আগস্টে থাকবে প্রচণ্ড গরম, আর্দ্রতাও থাকবে বেশ। এরই মধ্যে বসছে ক্রিকেট আসর। এ কারণেই সব ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা)।
খেলাধুলার ‘আধ্যাত্মিক বাড়ি’
হয়ে ওঠা আরব আমিরাত ক্রিকেটারদের কাছে নতুন কিছু নয়, যেন আরেকটি বাড়ি। নিকট অতীতে এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৮ সালের এশিয়া কাপ, পিএসএল, আইপিএল ও গত বছরের টি২০ বিশ্বকাপ। কাজেই ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেয়া কঠিন কিছু হবে না।
২৭ আগস্ট শ্রীলংকা-আফগানিস্তান ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে এশিয়া কাপের। বাংলাদেশের মিশন শুরু হবে ৩০ আগস্ট আফগানিস্তান ম্যাচ দিয়ে।










