যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরের ১২টি ভেন্যুতে আজ শুরু হয়েছে ৩২ দলের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ২১তম আসর। ১০০ কোটি ডলার (১২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা) বাজেটের এ আসরে বিশ্বের ছয়টি কনফেডারেশনের সফল ক্লাবগুলো অংশ নিচ্ছে।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় উদ্বোধনী ম্যাচ, যাতে লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির প্রতিপক্ষ মিসরের আল আহলি। আজ রাত ১০টায় জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের দল অকল্যান্ড সিটি। আগামী ১৩ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে ২১তম ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ আসরের।

এ আসরে চ্যাম্পিয়ন দল সব মিলে পাবে ১২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার (১ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা)। ঈর্ষণীয় প্রাইজমানির কারণেই এবার খেলার সুযোগ না পাওয়া ক্লাবগুলো পরের আসরে খেলতে চায়। তাই তো ২০২৯ সালের আসরটি ৪৮ দলের করা যায় কিনা তা ভাবছে ফিফা।

বার্সেলোনা, আর্সেনাল, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এসি মিলানের মতো বিশাল সমর্থকপুষ্ট ক্লাব এবারের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি। ইউরোপ থেকে খেলছে ১২টি ক্লাব। ৪৮ দলের আসর না করলে ইউরোপ থেকে জনপ্রিয় দলগুলোর অংশগ্রহণও সম্ভব নয়। আগামী বছরের ছেলেদের ফিফা বিশ্বকাপ ও ২০৩১ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপে ৪৮টি করে দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফিফার নতুন টুর্নামেন্ট মডেলে ক্লাব বিশ্বকাপেও ৪৮ দল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এএফসি থেকে সৌদি আরবের আল হিলাল, জাপানের উরায়া রেড ডায়মন্ডস, আরব আমিরাতের আল আইন ও দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান এইচডি; আফ্রিকা থেকে মিসরের আল আহলি, মরক্কোর উইদাদ এসি, তিউনিসিয়ার এস্পের‍্যান্স ডি তিউনিস ও দক্ষিণ আফ্রিকার মামেলোদি সানডাউনস; কনকাকাফ থেকে মেক্সিকোর মন্তেরেই, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল সাউন্ডার্স এফসি, লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি ও মেক্সিকোর পাচুয়া; দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ব্রাজিলের পালমিরাস, ফ্লামেঙ্গো, ফ্লুমিনেন্স ও বোটাফোগো, আর্জেন্টিনার বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেট; ওশেনিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটি এবং ইউরোপ থেকে ইংল্যান্ডের চেলসি ও ম্যানসিটি, স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, ফ্রান্সের পিএসজি, ইতালির ইন্টার মিলান ও জুভেন্টাস, পর্তুগালের পোর্তো ও বেনফিকা, অস্ট্রিয়ার রেড বুল সলজবুর্গ।

এছাড়া ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে সুযোগ পেয়েছে লিওনেল মেসিদের ইন্টার মায়ামি, যারা ২০২৪ সালের এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ড জিতে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে।

ইউরোপ থেকে এ প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পায় ১২টি দল। তিনটি দল সরাসরি জায়গা করে নেয়ায় বাকি ছিল নয়টি স্থান। আর এ নয় দলের জায়গা নিশ্চিত হয়েছে উয়েফার অধীন ক্লাবগুলোর র‍্যাংকিং সিস্টেম অনুযায়ী, যেখানে মূলত বিবেচনায় নেয়া হয় গত চার মৌসুমের পারফরম্যান্স। পাশাপাশি ক্লাব বিশ্বকাপে প্রতিটি দেশ থেকে দুটি দল অংশ নিতে পারার নিয়মও করা হয়েছে। স্পেন থেকে রিয়াল যেহেতু সরাসরি জায়গা পেয়েছে, তাই এ দেশ থেকে বাকি ছিল আর একটি দলের জায়গা। বার্সাকে সেখানে পেছনে ফেলে জায়গাটি পেয়েছে আটলেতিকো মাদ্রিদ। কারণ চার বছরের ইউরোপিয়ান পারফরম্যান্স অনুযায়ী র‍্যাংকিংয়ে বার্সার চেয়ে এগিয়ে ছিল আটলেতিকো।

ক্লাব বিশ্বকাপে ৩২ দলের মধ্যে এক ব্রাজিল থেকেই খেলছে চারটি দল! এগুলো হলো পালমেইরাস, ফ্লামেঙ্গো, ফ্লুমিনেন্স ও বোটাফোগো। তারা সবাই লাতিন শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা লিবার্তাদোসের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ক্লাব বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে। পালমেইরাস ২০২১ সালে, ফ্লামেঙ্গো ২০২২ সালে, ফ্লুমিনেন্স ২০২৩ সালে ও বোটাফোগো ২০২৪ সালের লাতিন চ্যাম্পিয়ন। আর কোনো দেশ থেকে এত বেশি ক্লাব এবার সুযোগ পায়নি।

‘এ’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের এফসি পোর্তোর মুখোমুখি হবে পালমেইরাস। পালমেইরাসের বাকি গ্রুপ প্রতিপক্ষ মিসরের আল আহলি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামি। লাতিন ও ব্রাজিলের সব ধরনের ট্রফি জেতা পালমেইরাসের সামনে এবার বৈশ্বিক শিরোপা জয়ের চ্যালেঞ্জ।

কোচ আবেল ফেরেইরার অধীনে ২০২০ সাল থেকে দুটি কোপা লিবার্তাদোরেস (লাতিন মহাদেশের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার ট্রফি) ও ব্রাজিলিয়ান লিগ, কাপ ও রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছে পালমেইরাস। এমনকি ফেরেইরার আগেও ক্লাবটি একবার লাতিন মুকুট ও ১১ বার লিগ শিরোপা জিতেছে। একমাত্র যে শিরোপাটির স্বাদ তারা পায়নি তা হলো ক্লাব বিশ্বকাপ।

ফ্লুমিনেন্স ও বোটাফোগো আগে কখনো ক্লাব বিশ্বকাপ জেতেনি। তবে ১ কোটি ৬০ লাখ সমর্থকপুষ্ট দল পালমেইরাসের সমস্যা মূলত তিন স্থানীয় ক্লাব করিন্থিয়ান্স, সাও পাওলো ও স্যান্টোসকে নিয়ে, যারা প্রত্যেকেই অন্তত দুবার করে এ শিরোপাটি জিতেছে। এর ফলে গত দুই দশক ধরে অনেক ঠাট্টা-মশকরা ও অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।