তেমনি তুমুল আলোচনা লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের ডুয়াল নিয়েও। বার্সেলোনার সাবেক সুপারস্টার ও বর্তমান সুপারস্টারের মধ্যে শিরোপার লড়াই হবে নিউ জার্সিতে। ইয়ামাল প্রতীক্ষিত এ ফাইনালে খেলবেন কিনা, তা নিয়ে কিছুটা ‘গুঞ্জন’ তৈরি হয়। যদিও পরে জানা গেল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার খেলা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দল থেকে আলাদা হয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করেছেন স্পেনের তারকা উইঙ্গার ইয়ামাল ও সেমিফাইনালের গোলদাতা পেদ্রো পোরো। দলের বাকিরা যখন একসঙ্গে ফাইনালের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন, এ দুজন তখন আলাদাভাবে এমএলএসের ক্লাব রেড বুল নিউইয়র্কের অনুশীলন সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন। ইএসপিএন
আলাদা অনুশীলন করলেও খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ দুই ফুটবলারের ফাইনাল খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। স্রেফ সতর্কতাবশত ও দুজনের ওয়ার্কলোড কমিয়ে সতেজ রাখার জন্যই অনুশীলনের ব্যবস্থা। সেমিফাইনালে স্পেনের দ্বিতীয় গোলটি করেছেন পোরো।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছিলেন, ফুলব্যাক পেদ্রো পোরো সামান্য চোট নিয়েই খেলছেন। রয়টার্সের তথ্যমতে, এ টটেনহাম ফুলব্যাকের হ্যামস্ট্রিংয়ে কিছুটা চোটের সমস্যা রয়েছে, যদিও সেটা তেমন গুরুতর কিছু নয়।
ইয়ামালের পরিস্থিতি এতটাও গুরুতর কিছু নয়। পোরোর মতো কোনো চোট বহন করছেন না তিনি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের লুকাস দিনিয়ে ও থিও হার্নান্দেজের মতো দুই শক্তিশালী ডিফেন্ডারের মোকাবেলা করতে হয়েছে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালকে। একপর্যায়ে দিনিয়ের লাথি আঘাত হানে ইয়ামালের উরুতে। এতে তিনি মারাত্মক চোটেও পড়তে পারতেন। সেমিফাইনাল শেষে দেখা যায়, ইয়ামালের শরীরে সামান্য ব্যথা রয়েছে। ফাইনালের আগে দলের সবচেয়ে প্রতিভাবান তারকাকে সতেজ রাখার জন্যই তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন দলের ম্যানেজমেন্ট।
চলতি বিশ্বকাপে ইয়ামাল মাত্র একটি গোল করলেও স্পেনকে ফাইনালে তুলতে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। সেমিফাইনালে ২২ মিনিটে পেনাল্টি স্পট থেকে মিকেল ওয়ারজাবাল যে গোলটি করেছেন, সেটি ইয়ামালেরই আদায় করে নেয়া। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচেই তিনি ডান উইং নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে গেছেন, যা বাম উইং অনেকটা অরক্ষিত রাখতে সাহায্য করেছে কিংবা স্পেনের ফরওয়ার্ডের কাজটা অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। তার নামের পাশে হয়তো গোলসংখ্যা একটি, তবে প্রতিটি আক্রমণ তৈরির পেছনে নিউক্লিয়াস হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
এদিকে ইয়ামাল আর পোরো আলাদা অনুশীলন করলেও স্পেন দলের বাকি খেলোয়াড়রা নিউইয়র্কের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পুরোদমে অনুশীলন করেছেন। নিউইয়র্কের এ গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তিনদিন সময় পাচ্ছেন ‘লা রোজা’রা।















