দুই টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে শ্রীলংকা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শ্রীলংকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে চড়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উড়াল দিয়েছেন ১০ জন, বাকিরা যাবেন শুক্রবার। এই সফরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে চান বাংলাদেশ টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেছেন, চলতি ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে আগেরবারের চেয়ে ২-৩টা টেস্ট বেশি জিততে চান তারা।

আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে সিংহলিজদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গ তুললে শান্ত বলেন, ‘হোক না, হলে তো ভালোই, খারাপ কী, হোক।’

শ্রীলংকার সঙ্গে টেস্টে ২৬ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলংকার মাটিতেই এসেছিল জয়টি। আগে-পরে আর কখনো জিততে পারেনি বাংলাদেশ। গত বছর ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এবারের সিরিজ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘প্রস্তুতি মোটামুটি ভালোই হয়েছে। এটা বলব যে আরেকটু ভালো হতে পারতো। পাকিস্তান সিরিজটা একটু দেরি হলো, যার কারণে সময়টা একটু কম পাওয়া গেছে কিছু ক্ষেত্রে। কিন্তু অজুহাত হিসেবে এটা দিতে চাই না। শ্রীলংকায় আমরা আগেও টেস্ট জিতেছি। আশা করি এবারও ভালো হবে।’

আনঅর্থডক্স অ্যাকশনের মিলন রত্মায়েকে, কামিন্দু মেন্ডিস, আকিলা দনাঞ্জয়া, মাতিশা পাতিরানার মতো বোলারদের মুখোমুখি হতে হবে শান্তদের। এ নিয়ে প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ রকম ধরনের বোলার তো আমাদের দেশে নেই। প্রস্তুতি যদি ওভাবে নিতে চাই, সম্ভব না। কারণ আমাদের দেশে নেই। আমাদের যে রিসোর্সগুলো আছে, প্রস্তুতিতে যে বোলারগুলো আছে, ওদের ফেস করেই আসলে প্রস্তুতি নিতে হয়। অন্যান্য প্রস্তুতি আমি বলব যে অনেক দিন ধরে অনেক খেলোয়াড় খেলছে, অভিজ্ঞ দল, তাদের কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে, (এই প্রস্তুতি) মানসিকভাবে নেওয়া যায়, ভিডিও দেখে হতে পারে।’

শ্রীলংকা সিরিজের দল নিয়ে বেশ খুশি বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক, ‘দল নিয়ে আমি খুবই খুশি। দলে যেসব ক্রিকেটারদের চেয়েছি, শতভাগ পেয়েছি। তাই অধিনায়ক হিসেবে দল নিয়ে আমি খুশি। যখন খেলা শুরু হবে, তখনই বুঝতে পারবেন আমরা কী চিন্তা করে দলটা বানিয়েছি। ওই বিষয়গুলো বুঝতে পারবেন কেন দলে একটা ওপেনার কম। কম্বিনেশনটা দেখলে সবার পক্ষে আরও ভালোভাবে বুঝতে সুবিধা হবে। আমাদের দলে ৪ জন করে পেসার ও স্পিনার আছে। মানে ভারসাম্য আছে। আমরা কন্ডিশন দেখে দুই ধরনের কম্বিনেশনেই যেতে পারি। দল নিয়ে আমি খুশি। ভারসাম্য করার মতোই দল।’

২০১৯ সালে শুরু হওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রে সাত ম্যাচে কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। পরের চক্রে ১২ ম্যাচে ১টি জিতলেও তলানিতে ছিল তারা। সবশেষ ২০২৩-২৫ চক্রে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করে চমক উপহার দেয় বাংলাদেশ। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েও একটি ম্যাচ জেতে তারা। আর ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডকে হারায় শান্তর দল।

সব মিলিয়ে ১২ ম্যাচে ৪টি জিতে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপরে ৭ নম্বরে থেকে এবারের চক্র শেষ করে বাংলাদেশ। ধারাবাহিক উন্নতির এই পথে থেকে ধীরে ধীরে বড় স্বপ্নের দিকে এগোতে চান শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ) শুরু করেছিলাম, এর আগের চক্রে ১টি ম্যাচ জিতেছি। পরের চক্রে আমরা ৪টা জিতেছি। তার মানে একটু উন্নতি হয়েছে। এই চক্রে লক্ষ্য থাকবে কীভাবে আমরা ২-৩টা ম্যাচ বেশি জিততে পারি। যদি এভাবে ছোট ছোট চিন্তা করে এগোতে পারি, কেন নয়? একটা সময় হয়তো বাংলাদেশ ফাইনাল খেলবে। এই দুই বছরের মধ্যে আমরা কীভাবে আরও ভালো ফল পেতে পারি, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

২০২৫-২৭ চক্রে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা গত বছর (চক্রে) ৭ নম্বরে শেষ করেছি। এই বছর তো অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে যেন ৪-৫-৬ নম্বরের মধ্যে আসতে পারি। তাহলে খুব ভালো হয়। গত বছর (চক্রে) জয়ের হার সম্ভবত ৪৫ শতাংশ (আসলে ৪৫ পয়েন্ট ও ৩১.২৫ শতাংশ) ছিল। এখান থেকে যদি বাড়াতে পারি, ৫০-৫৫ বা ৬০ শতাংশ হলে, একজন অধিনায়ক হিসেবে আমার মনে হয়, ভালো একটা ফল হবে আমাদের।’