জুনিয়র হকিতে বিদেশের মাঠে গৌরবোজ্জ্বল এক জয় তুলে নিল বাংলাদেশের মেয়েরা। গতকাল চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে হকি জুনিয়র এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। আজ একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে দাঁড়াতেই দেননি বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম কোয়ার্টারে গোলের দেখা পাননি রিয়ারা। এরপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় লাল-সবুজরা। শেষ তিন কোয়ার্টারে তারা গুনে গুনে সাত গোল দেন প্রতিপক্ষের জালে।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে গোল করেছেন সারিকা রিমন, আইরিন আক্তার রিয়া ও নাদিরা এমা। কনা আক্তার করেন একটি গোল।

ফিল্ড গোল করে ম্যাচের ২০ মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন কনা আক্তার। তৃতীয় কোয়ার্টারে প্রতিপক্ষকে প্রচণ্ড চাপে রেখে চারটি গোল আদায় করে নেন বাংলাদেশের মেয়েরা। নাদিরা এমা ও আইরিন আক্তার রিয়া দুটি করে ফিল্ড গোল করেন এ সময়। চতুর্থ কোয়ার্টারে আরো দুটি গোল পায় বাংলাদেশ। চাইনিজ তাইপের রক্ষণে প্রথম আঘাত হানেন সারিকা। তিনি ৫১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে বাংলাদেশকে ষষ্ঠ গোল এনে দেন। এর ৬ মিনিট পর পেনাল্টি কর্নার থেকে আরেকটি গোল করেন সারিকা। এটা তার দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোল।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জুনিয়র এশিয়া কাপ খেলতে নামা বাংলাদেশ দুর্দান্ত সূচনা পেল। ২০২৪ সালে প্রথমবার অংশ নিয়ে নবম হয় লাল-সবুজের মেয়েরা। মেয়েদের জুনিয়র এশিয়া কাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।

মোকিতে ১০ দলের এবারের টুর্নামেন্টে চ্যালেঞ্জার পুলে বাংলাদেশ ছাড়াও খেলছে কাজাখস্তান, পাকিস্তান, চাইনিজ তাইপে ও হংকং। এলিট পুলে খেলছে স্বাগতিক চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে চ্যালেঞ্জার পুলের শীর্ষ তিন দল এবং এলিট পুলের পাঁচ দল। আর চ্যালেঞ্জার পুলের চতুর্থ ও পঞ্চম হওয়া দল নবম-দশম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে।

জয় দিয়ে মাঠ ছাড়লেও দলের ফিনিশিং ও প্রথমার্ধের খেলায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দলের হেড কোচ আরিফ আলী। ম্যাচ শেষে নিজের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, জয় ও ৩ পয়েন্ট পেয়ে খুশি হলেও এ ম্যাচ নিয়ে তার প্রত্যাশা ছিল আরো অনেক বেশি।

প্রতিটি কোয়ার্টারে আধিপত্য বজায় রেখে খেলে বাংলাদেশ। ম্যাচের কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ বলেন, ‘প্রতিটি কোয়ার্টারে খেলোয়াড়দের জন্য আমরা আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। প্রথম দুই কোয়ার্টারে আমরা বেশকিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলাম, কিন্তু ফিনিশিংটা ভালো হয়নি। বিশেষ করে ফরওয়ার্ডদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব ছিল দৃশ্যমান।’

প্রথমার্ধের সুযোগ নষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে বিরতিতে (হাফটাইম) যাওয়ার আগেই আমাদের ৫-৬ গোলে এগিয়ে থাকা উচিত ছিল।’ তবে হাফটাইমের পর খেলোয়াড়দের ঘুরে দাঁড়ানোকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বাংলাদেশ কোচ। দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, ‘হাফটাইমে আমরা আবার একসঙ্গে বসে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিই এবং যেসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল, সেগুলো মনে করিয়ে দিই। দ্বিতীয় অর্ধে সেটিরই প্রতিফলন দেখা গেছে। খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া ফিরে আসে এবং আমরা প্রথমার্ধের চেয়ে অনেক ভালো খেলি। ম্যাচ চলাকালেই দলের এ ধারাবাহিক উন্নতিতে আমি সন্তুষ্ট।’

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ আইরিন আক্তার রিয়ার চোখে পরিকল্পনার ৬০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। পরের ম্যাচে আরো ভালো করার প্রত্যয় তার। জয় শেষে তিনি বলেন, ‘আজকের ম্যাচটা কঠিনই ছিল। আমরা যদি বেসিক অনুযায়ী ভালো খেলতে পারতাম তাহলে হয়তো প্রথমেই গোল বের করতে পারতাম। কিন্তু প্রথমে আমরা অনেক ভুল করেছি, যদিও পরে আমরা কামব্যাক করতে পেরেছি, এজন্য আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের টার্গেট ছিল একেকটা কোয়ার্টারে তিনটি করে গোল দেয়া, পাঁচটা পিসি বানাব, তবে সেটা হয়নি। নেক্সট ম্যাচে ইনশা আল্লাহ হবে।’

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে রিয়া বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছি, এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। আমরা ধরে খেলতে পেরেছি, এটাই আনন্দের।’