তার কারণেই প্রথমার্ধে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যেতে পেরেছে বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধেও চলছিল তার বীরত্ব। তাতে ‘স্প্যানিশ আর্মাডা’র আক্রমণগুলো একের পর এক নস্যাৎ হচ্ছিল। এরপর কোর্তোয়া চোটে পড়ায় ‘রেড ডেভিল’দের সবকিছু এলোমেলো হতে শুরু করে। চোটটা তার পায়ের পেশিতে। জোরে শট নিতে পারছিলেন না। বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়াকে তাই কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতেই হলো। তিনি ম্যাচের ৭১ মিনিটে সানে লামেন্সকে বদলি হিসেবে নামিয়ে দিলেন। এরপর লামেন্সের একটি ভুলে গোল হজম করে ম্যাচেই হেরে যায় বেলজিয়াম। ম্যাচশেষে চাপে থাকা লামেন্সের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোর্তোয়া, আর গোলকিপার বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন কোচ গার্সিয়া।
একজন কোচকে নিতে হয় নানা সিদ্ধান্ত। তবে দল হেরে গেলে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ওঠে। বেলজিয়ামের হারের অন্যতম কারণ হিসেবে এখন দেখা হচ্ছে গোলকিপার বদলের ঘটনাকে। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা লামেন্সের ভুল কাজে লাগিয়ে স্পেনকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন তাদের বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। নকআউট ম্যাচটি হেরে বিদায় নেয় বেলজিয়াম। এ বিদায়ের ফলে বেলজিয়ানদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা অধরাই থাকল, অপেক্ষাও দীর্ঘ হলো।
কোর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুরা হলেন বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের প্রতিনিধি। তাদের ঘিরে বড় স্বপ্ন ছিল ইউরোপের অন্যতম সেরা দলটির। ‘সোনালি প্রজন্মে’র শেষ সুযোগটা কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ হয়ে যাওয়ার পর গার্সিয়ার গোলকিপার বদলের সিদ্ধান্তটি বেশ আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে নিজের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বেলজিয়াম কোচ।
কোর্তোয়াকে কি আরেকটু সময় দেয়া যেত না? এ প্রশ্নের উত্তরে গার্সিয়া বলেন, ‘কোর্তোয়াকে বদল করা নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। সবদিক থেকেই কোর্তোয়া দুর্দান্ত। আমরা চাইনি তার চোট পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাক। সে পেশিতে চোট পেয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। সে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। আবার সেখানে চোট পেলে খুব বাজে হতো।’
দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের সময় থেকে পায়ে অস্বস্তিবোধ করেন কোর্তোয়া। মাঠে কিছু সময় শুয়ে ও বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে কোর্তোয়া জানান, তার মনে হচ্ছিল পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে। তাই তিনি শুয়ে পড়েছিলেন যেন চিকিৎসকরা তাকে দেখতে পারেন। তার কথায়, ‘আমি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমি বলে শট নিতে পারছিলাম না। আরো পাঁচ মিনিট হয়তো খেলতে পারতাম কিন্তু যেহেতু আমি শতভাগ ফিট নই তাই কোচ আমাকে বদল করার কথা বলেন। এটা ঠিক আছে, এটা ওনার সিদ্ধান্ত।’
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া। চোখের জল মুছতে দেখা যায় ৩৪ বছর বয়সী এ গোলকিপারকে। বিশ্বকাপে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শেষ না করেই মাঠ ছাড়ায় তিনি মর্মাহত ছিলেন। পরে লামেন্সের ভুল দেখে আক্ষেপ বেড়ে যায় তার। স্পেনের তরুণ খেলোয়াড় পাউ কুবারসির শট গ্লাভসে জমাতে পারেননি লামেন্স। ফিরতি বল জালে পাঠান মেরিনো। লামেন্সের পাশে দাঁড়িয়ে কোর্তোয়া বললেন, ‘আসলে এটা ছিল দুর্ভাগ্য। আমাদের তাকে ক্রুশে বিদ্ধ করা উচিত নয়। এটা ফুটবল, এখানে এমন হয়। সে ইউনাইটেডে চমৎকার একটি মৌসুম কাটিয়ে এসেছে। এটা তার প্রাপ্য নয়।’
কোর্তোয়ার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার কারণ, এটা হতে পারে বেলজিয়ামের হয়ে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। ভবিষ্যৎ নিয়ে রিয়ালের নাম্বার ওয়ান গোলকিপার বলেন, ‘দেখতে হবে এমআরআই রিপোর্টে কী আসে। আশা করি, গুরুতর কিছু নয়। গুরুতর কিছু বলে মনে করছি না।’
এখন পর্যন্ত বেলজিয়ামের হয়ে ১১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন কোর্তোয়া। আর ইউরোপের অন্যতম সেরা দল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন ২৩২ ম্যাচ। এর আগে খেলেছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, চেলস ও গেঙ্কের হয়ে।
নিজেরা স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিলেও কোর্তোয়াকে উত্তর দিতে হলো বিশ্বকাপের বাকি অংশ নিয়ে। তিনি মনে করেন, ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার সেমিফাইনালের বিজয়ী দলই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে স্পেনকেই ফেভারিট মানছেন বেলজিয়ামের গোলকিপার। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স ও স্পেনের সেমিফাইনালের জয়ী দলই এবার চ্যাম্পিয়ন হবে বলে মনে করি। তবে শিরোপা জয়ের জন্য স্পেনই ফেভারিট। তারা ফ্রান্স ও অন্য যেকোনো দলকে হারাতে পারে, সেটা তারা প্রমাণ করেছে। আমরা তাদের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি এবং মানুষ যেমন মনে করেছিল এর চেয়ে বেশি লড়াই করেছি।’









