ইউরোপা লিগ ফাইনালে স্বদেশী ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার্সের কাছে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এ হারের ফলে যে বিশাল আর্থিক ক্ষত তৈরি হবে তা বেশ কয়েক বছর ভোগাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে।
ইউরোপা লিগ ফাইনালটা ছিল ‘জিরো-সাম’ ম্যাচ। মানে বিজয়ী দল চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট পাবে, আগামী আগস্টে খেলবে উয়েফা সুপার কাপ ম্যাচ। আর পরাজিত দলটি আগামী মৌসুমে ইউরোপ থেকে ছিটকে পড়বে এবং কিছুই পাবে না।
স্পার্সদের চেয়ে ধনী ক্লাব হয়েও এবং খেলোয়াড়দের পেছনে ৬৪ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করেও পরাজিত দলের নাম ম্যানইউ। এ মৌসুমের আগে বেশকিছু ব্যয়বহুল খেলোয়াড় কেনায় ব্যয় বেড়েছে তাদের। প্রথমত দলবদল ফি, এরপর ছিল বেতন। যদিও মৌসুম শেষ হলো তাদের রিক্ত হাতে। ইউরোপা লিগ ছাড়াও এ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দুবার ও ঘরোয়া লিগ কাপে একবার স্পার্সদের কাছে হেরেছে ম্যানইউ।
আমেরিকান ধনকুবের গ্লেজার পরিবার আর ব্রিটিশ বিলিয়নেয়ার জিম র্যাটক্লিফের মালিকানাধীন ম্যানইউ ক্লাবটি ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম প্রাচীন ও সফলতম ক্লাব। যদিও এখন ক্লাবটি বিবর্ণ। সাম্প্রতিক মাঠের ব্যর্থতা তাদের আর্থিকভাবে বিরাট দুর্দশার মধ্যে ফেলতে পারে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের পরের মৌসুমে খেলার সুযোগ হারানোয় ন্যূনতম ৮ কোটি ইউরো লোকসান হলো ম্যানইউর। সেই সঙ্গে গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট পর্বে ওঠা দলের আরো ১৫ কোটি ইউরো নিশ্চিত হয়ে যায়। এর কোনোটিই পাচ্ছে না রেড ডেভিলরা। এছাড়া ইউরোপা লিগজয়ী দল টটেনহ্যাম চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ী দলের সঙ্গে খেলবে সুপার কাপ ম্যাচ, যা থেকে তারা পাবে ৪০ লাখ ইউরো। ইউরোপা লিগ জিতলে এই ৪০ লাখ ডলারও পেতে পারত রুবেন আমোরিমের দল। সুপার কাপ বিজয়ী দল বোনাস হিসেবে পাবে ১০ লাখ ইউরো।
এখানেই শেষ নয়, ১০০ কোটি ডলার প্রাইজমানির আসর ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও খেলার টিকিট পায়নি ম্যানইউ। সেখানে বিজয়ী দলের ১০ কোটি ডলার আয়ের সুযোগ রয়েছে। ২০২৯ সালের পরের আসরেও তাদের খেলার সম্ভাবনা কম। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে কিংবা ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই ফিফার আসরে সুযোগ পায় ইউরোপের ক্লাবগুলো। ২০২৪-২৮ কোয়ালিফাইং পর্বের প্রায় অর্ধেকটা সময় হারিয়েছে ম্যানইউ এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করা কিংবা ইউরোপিয়ান মুকুট জয় করার সম্ভাবনা তাদের ক্ষীণই বলা যায়। গত ১২ বছরে তারা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেনি।
আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ম্যানইউকে দ্রুতই তাদের কিছু উচ্চ বেতনের খেলোয়াড়কে বিক্রি করে দিতে হবে। যেমন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস কিংবা দলে ব্রাত্য হয়ে পড়া ফরোয়ার্ড মার্কাস র্যাশফোর্ড। তাদের উচ্চ বেতন এরই মধ্যে ক্লাব ম্যানেজমেন্টের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিজস্ব একাডেমি থেকে উঠে আসা কিছু খেলোয়াড়কেও বিক্রি করতে পারে তারা।
মাঠে ও মাঠের বাইরের এ ব্যর্থতার কারণ ম্যানইউর পাইপলাইনে খেলোয়াড় কম থাকা। রুবেন আমোরিম যদি দ্রুতই তার স্কোয়াডকে শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হন তাহলে অচিরেই মাঠের সাফল্য আনা কঠিন হবে।
এর পরও এখনো ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ আয়কারী ক্লাব ম্যানইউ, যারা গত বছর ৮৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছে। ইউরোপের ক্লাবগুলোর কভিড-পূর্ব সময় থেকে কভিড-পরবর্তী সময় পর্যন্ত (২০১৯ থেকে ২০২৪) রাজস্ব আহরণের হার কেমন ছিল, তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উয়েফার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময় ইউরোপের বড় প্রতিদ্বন্দ্বীগুলোর তুলনায় সবচেয়ে শ্লথগতি ছিল ম্যানইউর। রাজস্ব আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে শেষ রাউন্ডের আগ পর্যন্ত তারা রয়েছে ১৬ নম্বরে। এক বছরের মধ্যে অষ্টম স্থান থেকে ১৬তম স্থানে নেমে যাওয়া মানে ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার হারানো।
এমনিতেই গত মৌসুমে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার লোকসান গুনেছে রেড ডেভিলরা। গত তিন মৌসুম মিলে তারা লোকসান করেছে ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। প্রিমিয়ার লিগের প্রফিট অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি রুলস (পিএসআর) অনুসারে, একটি ক্লাব তিন বছর সময়ের চক্রে সর্বোচ্চ ১৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার লোকসান দিতে পারে। যদিও ম্যানইউ এখানে বিশেষ অব্যাহতি পাচ্ছে।
কিয়দংশ শেয়ারের মালিক হয়েও ম্যানইউর মূল কর্তৃত্ব এখন র্যাটক্লিফের হাতে। যদিও তার সব ভূমিকা এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তিনি অনেককে চাকরিচ্যুত করেছেন, স্টাফদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়েছেন আর বাড়িয়েছেন টিকিটের দাম। সবগুলোই ক্ষোভের কারণ হয়েছে। —বিবিসি, এপি










