চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খুব বড় বাজেট পাচ্ছেন না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ এরিক টেন হ্যাগ। কারণ গ্লেজার পরিবার আপাতত বকেয়া পড় দলবদল ফি পরিশোধের চিন্তা করছে। ফুটবল ফাইন্যান্স এক্সপার্ট কিয়েরান মাগুয়ার ফুটবল ইনসাইডারকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, গ্রীষ্মে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের মতো সাদামাটা আকারের বাজেট পেতে পারেন টেন হ্যাগ।
গত মাসে মৌসুমের তৃতীয় অর্থনৈতিক প্রান্তিকের ফল ঘোষণা করে ম্যানইউ। তাতে দেখা যায়, ম্যানইউর আয় ১১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি পাউন্ডে। আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ক্লাবটি ৩০ কোটি ৮ লাখ পাউন্ড দলবদল ফি পরিশোধ করেনি, যা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একটি রেকর্ড। এ প্রতিবেদনের পরই ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুম সামনে রেখে ম্যানইউর গ্রীষ্মকালীন দলবদল ফি হতে পারে মাত্র ১০ কোটি পাউন্ড।
ম্যানইউতে গ্লেজার পরিবারের ব্যয়টা আসলে ‘সুদহীন ক্রেডিট কার্ড’-এর আদলে দলবদল ফিকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করেন মাগুয়ার। ফুটবল ইনসাইডারকে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ক্রেডিট কার্ডের কাছে দেনা থাকেন, তখন আপনি আর বেশি খরচ করতে পারবেন না, অর্থাৎ আপনার ক্রেডিট সীমিত করে দেবে। তেমনটিই ঘটেছে ম্যানইউর ক্ষেত্রে। কারণ তারা ব্যাংকের কাছ থেকে আরো ধার করতে পারছিল, তখন তারা খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে অন্য ক্লাবগুলোকে সুদহীন ক্রেডিট কার্ড হিসেবে ব্যবহার করে। ওইসব চুক্তির ক্ষেত্রে কতজন মাঠে সফল হয়েছেন, সেটি নিয়ে অবশ্য বিতর্ক থাকতেই পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সামগ্রিক বিষয়টি ক্লাবের গ্রীষ্মকালীন ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরেছে। এখনো ম্যানইউর বাজেট সাদামাটা, তবে তারা যদি বকেয়া অর্থের বড় একটি অংশ পরিশোধ করে, তবে সেটি পরবর্তী এক বা দুই বছর তাদের খেলোয়াড় কেনার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।’
অবশ্য এর মধ্যেও ৬ কোটি পাউন্ডে চেলসি স্টার ম্যাসন মাউন্টকে দলভুক্ত করেছে রেড ডেভিলরা। প্রথমেই দিতে হবে ৫ কোটি ৫০ লাখ, পরে পারফরম্যান্স বোনাস হিসেবে চেলসি পাবে আরো ৫০ লাখ পাউন্ড। খেলোয়াড়টির সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ক্লাবটি। চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকছে চুক্তিতে।
২৪ বছর বয়সী মাউন্ট বলেছেন, টেন হ্যাগের ব্লুপ্রিন্টই তাকে ম্যানইউতে নাম লেখাতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, ‘ম্যানইউ ম্যানেজারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার পর পরবর্তী মৌসুম নিয়ে রোমাঞ্চিত না হয়ে পারিনি। সবাই দেখতেই পাচ্ছেন যে এরিকের অধীনে ক্লাবটি সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং জানি বড় শিরোপা জেতার অনুভূতি কেমন ও এটি কীভাবে করতে হয়। ম্যানইউতে আমি আমার অভিজ্ঞতার সবটুকুই দেয়ার চেষ্টা করব।’
ম্যাসন মাউন্টকে অবশ্য খুব সহজে জিততে পারেনি ম্যানইউ। তাদের প্রথম তিনটি প্রস্তাবই ফিরিয়ে দেয় চেলসি। অবশেষে চতুর্থ প্রস্তাবে রাজি হয় ব্লুজরা। ইংলিশ তারকাকে বিক্রি করার কারণও রয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) নীতিমালা প্রতিপালনেই তারা খেলোয়াড়টিকে বিক্রি করেছে। গত মৌসুমে লন্ডন জায়ান্টরা ৬০ কোটি পাউন্ড খরচ করে দল গোছায়। কাজেই এখন কিছু খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় বাড়াতে না পারলেই বিপদ আসন্ন।
ছয় বছর বয়সে চেলসিতে যোগ দেন ম্যাসন মাউন্ট। এমন খেলোয়াড়টিকে হারাতে চায়নি ব্লুজরা। কিন্তু তাকে রাখাও কঠিন ছিল। আগামী বছর চুক্তির মেয়ার শেষ হবে, কিন্তু চুক্তি নবায়ন নিয়ে সমঝোতা আসেনি। তাই এখন বিক্রি না করলে পরের গ্রীষ্মে তাকে বিনা ফিতে ছেড়ে দিতে হতো। এ কারণেই তাকে ছেড়ে দেয় ব্লুজরা।
মাউন্ট বলেন, ‘যে ক্লাবে বেড়ে উঠেছেন সেই ক্লাব ছাড়া খুব সহজ ছিল না, কিন্তু ম্যানইউ আমার ক্যারিয়ারে রোমাঞ্চকর এক অধ্যায় যুক্ত করতে চলেছে। জানি এ ক্লাবটিতে আমাকে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে, কেননা এখানে রয়েছে একঝাঁক মেধাবী খেলোয়াড়। এ দলটির হয়ে বড় শিরোপা জিততে খুব শিগগির মাঠে নামতে মরিয়া আমি।’
গত মাসে ম্যানসিটির কাছে এফএ কাপ ফাইনালে হারের পর এরি টেন হ্যাগ বলছিলেন, ‘আমার একটাই পরিকল্পনা তা হলো এ ক্লাব ও দলটির উন্নতি করা এবং আমি এজন্য লড়ব। আমার নিজের কিছু পরিকল্পনা তো আছেই, সঙ্গে আমার কোচিং স্টাফ আর খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে।’
কিছু খেলোয়াড় বিক্রির পরিকল্পনা আছে এরিকের। এ সংখ্যাটি প্রায় ১২। তাদের সবাইকে বিক্রি সম্ভব না হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদায় নেবেন।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ছাড়া লাগতে পারে ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস, এরিক বেইলি, অ্যালেক্স টেলেস, অ্যান্থনি এলাঙ্গা ও ডনি ফন ডি বিককে। আলোচনায় থাকবেন ফ্রেড আর স্কট ম্যাকটোমিনে। ডিন হেন্ডারসন ও হানিবাল মেজব্রি ধারে খেলতে গিয়ে ভালো করায় তারা নিশ্চিতভাবেই ভালো ক্লাব পাবেন।










