রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে জমছে অস্বস্তি। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার দাবি, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনে ক্ষুব্ধ ক্লাবটির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগো রিয়ালের জার্সিতে আর কোনো ম্যাচ খেলতে চান না। এমনকি তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন নিজ বাড়ির চার দেয়ালে। খবর গোল ডটকম।

সম্প্রতি বার্সেলোনার বিপক্ষে লা লিগার মহাগুরুত্বপূর্ণ এল ক্লাসিকোতে ৪–৩ গোলে পরাজয়ের ম্যাচে স্কোয়াডেই ছিলেন না রদ্রিগো। সতীর্থদের সঙ্গে তার সম্পর্কেরও অবনতি ঘটেছে। ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন নাকি গ্রীষ্মকালীন দলবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রদ্রিগোর ক্ষোভের মূল কারণ জুড বেলিংহ্যাম ও কিলিয়ান এমবাপেকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘মিডিয়া হাইপ’। ক্লাবের সব আলোচনার কেন্দ্রে এখন এই দুই সুপারস্টার। এক সময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকা রদ্রিগো ও তার স্বদেশী ভিনিসিউস জুনিয়র যেন ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যাচ্ছেন।

এদিকে দ্য সানের দাবি, রিয়ালে এমবাপের যোগ দেয়াও ভালোভাবে নেননি রদ্রিগো। একাদশে ‘অটোমেটিক চয়েস’ হওয়ার সুযোগও তখন কমে যায় এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের। তাছাড়া, ক্লাব কর্মকর্তারাও নাকি রদ্রিগোকে আর রাখতে চাচ্ছেন না।

বলা হয়েছে, ভিনিসিউসও নাকি হঠাৎ এই পরিবর্তনে বেশ অসন্তুষ্ট। ক’দিন আগেও রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান মুখ থাকা ভিনিসিউসও এখন সরে যাচ্ছেন পাদপ্রদীপের আলো থেকে।

রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি শিগগিরই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আসতে যাচ্ছেন রিয়ালের সাবেক মিডফিল্ডার ও বুন্দেসলিগা জয়ী কোচ জাবি আলোনসো।

তবে নতুন দায়িত্বে এসেই আলোনসোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে রদ্রিগোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ। ২০১৯ সালে সান্তোস থেকে রিয়ালে পা রাখা রদ্রিগো এখন পর্যন্ত ২৫০ এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন, জিতেছেন লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ। রিয়ালের সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তি থাকলেও মাঠের বাইরের অসন্তোষ সবকিছুই অনিশ্চিত করে তুলেছে।

রদ্রিগোর বর্তমান অবস্থার দিকে নজর রাখছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের তিন হেভিওয়েট ক্লাব—লিভারপুল, আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও এই ক্লাবগুলো রদ্রিগোর সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে বলে দাবি মার্কার।

রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ ও ক্লাব ম্যানেজমেন্ট কীভাবে সামাল দেন এই ‘ড্রেসিংরুম দ্বন্দ্ব’, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।