স্পেন আর পর্তুগাল—দুই দলই খেলেছে সতর্কতার ফুটবল, ঝুঁকিহীন, আক্রমণে কার্পণ্য করে। বল দখলের লড়াই ছিল, রক্ষণের কাঠিন্য ছিল, কিন্তু চোখ ধাঁধানো ফুটবলের ঝলক দেখা যায়নি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলি মিকেল মেরিনোর গোল ভেঙে দিল দীর্ঘ, ক্লান্তিকর সমতা। আর সেই গোলেই কোয়ার্টার ফাইনালে লা রোজারা। থেমে গেল আরো একটি অধ্যায়—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার, যার শুরু হয়েছিল দুই দশক আগে জার্মানিতে।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলে স্পষ্ট হয় গোলের জন্য তাড়াহুড়ো করবে না স্পেন। খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলার যে সনাতন কৌশল, সেটিকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রূপ দিয়েছিলেন তিনি। রদ্রি নিচ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, কখন গতি বাড়াতে হবে আর কখন প্রতিপক্ষকে দৌড় করিয়ে ক্লান্ত করতে হবে, সে সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তিনিই। তার সামনে পেদ্রি দুই লাইনের মাঝখানে জায়গা খুঁজেছেন, দানি ওলমো কখনো ডানদিকে, কখনো ভেতরে ঢুকে পর্তুগালের রক্ষণকে টানার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পরিকল্পনা যতই নিখুঁত হোক, পর্তুগালের রক্ষণও ছিল প্রায় সমান সংগঠিত।

রবার্তো মার্টিনেজ জানতেন, খোলা মাঠে স্পেনকে জায়গা দিলে বিপদ বাড়বে। তাই তার দল খুব কম সময়ই উঁচু প্রেস করেছে। বরং মাঝমাঠের পর থেকেই জায়গা সংকুচিত করে স্পেনকে পাশের দিকে খেলতে বাধ্য করেছে। রুবেন দিয়াসের নেতৃত্বে চারজনের রক্ষণভাগ প্রায় পুরো ম্যাচেই শৃঙ্খলা ধরে রেখেছে। মাঝেমধ্যে স্পেন বক্সের সামনে পৌঁছলেও শেষ পাস বা শেষ শটের সময় পর্তুগালের কোনো না কোনো খেলোয়াড় সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাও ছিলেন অসাধারণ। লামিনে ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা কিংবা পেদ্রির শট ঠেকিয়ে তিনি বারবার দলকে ম্যাচে রেখেছেন।

পর্তুগালের দুই মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস এবং ভিতিনহা স্পেনের এ আধিপত্যের সামনে একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। পর্তুগিজরা যখনই বলের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছিল, স্পেনের উচ্চগতির প্রেসিং তাদের সামনে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিচ্ছিল, যার ফলে তারা বল নিয়ে পেছনে ফিরতে বাধ্য হচ্ছিল। এ কৌশলগত অবস্থান স্পেনকে পুরো ম্যাচের সিংহভাগ সময় মানসিকভাবে এগিয়ে রেখেছিল।

ফলে রোনালদোকে প্রায়ই একা অপেক্ষা করতে হয়েছে। বল এসেছে কম, আর এলেও সেটি ছিল এমন অবস্থায়, যেখানে তার পক্ষে একা কিছু করে দেখানো প্রায় অসম্ভব।

প্রথমার্ধে অবশ্য পর্তুগালও গোল পেতে পারত। জোয়াও ফেলিক্সের হেড থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে উনাই সিমন দুর্দান্ত সেভ করেন। পরে রোনালদোর ভলি ঠেকিয়েও তিনি স্পেনকে রক্ষা করেন। নুনো মেন্দেসের শক্তিশালী শট পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে আঘাত না করলে গল্পটা অন্য রকমও হতে পারত। কিন্তু সেই সময়টুকু বাদ দিলে ম্যাচের বড় অংশে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের কাছেই।

প্রথমার্ধে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা অবিশ্বাস্য সব সেভ করেছেন। প্রথমার্ধের শুরুতেই মিকেল ওয়ারজাবালের দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে কস্তা নিজের উপস্থিতির জানান দেন। এরপর ম্যাচের ১৬তম মিনিটে ঘটে প্রথমার্ধের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঘটনা। স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণভাবে ভেতরে ঢুকে বাঁকানো শট নেন, যা কস্তা প্রথম দফায় প্রতিহত করেন। কিন্তু ফিরতি বলে অ্যালেক্স বানোর নেয়া ডান পায়ের জোরালো শটটি যখন নিশ্চিত গোলের দিকে যাচ্ছিল, তখন কস্তা শূন্যে শরীর ভাসিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে তা কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। কস্তার অতিমানবীয় পারফরম্যান্স পর্তুগালকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।

তবে বলের দখল মানেই যে আধিপত্য, তা নয়। স্পেন দীর্ঘ সময় বল রেখেছে, কিন্তু ইউরো জয়ের সময়কার মতো ধারালো ছিল না। ইয়ামালকে নুনো মেন্দেস অনেকটা সময় নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। বাঁ দিক থেকেও সেই পুরনো ধার দেখা যায়নি। ফলে স্পেনের আক্রমণ বারবার থেমে গেছে পর্তুগালের রক্ষণভাগে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা ধীর হয়ে আসে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই যেন ক্লান্তি ভর করতে শুরু করে। এ ক্লান্তিই মাঠে কিছুটা বাড়তি জায়গার সৃষ্টি করে, যা স্পেনের ধৈর্যশীল ফুটবলের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছিল। পর্তুগালের রক্ষণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা নুনো মেন্দেস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মেন্দেস যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, তিনি কেবল ইয়ামালকে বোতলবন্দি করেই রাখেননি, বরং পর্তুগালের আক্রমণের মূল উৎসও ছিলেন তিনিই। তার পরিবর্তে যখন নেলসন সেমেদো মাঠে নামেন, তখন পর্তুগালের বাম প্রান্তের সেই ধার অনেকটাই কমে যায়। সেমেদো একজন সহজাত রাইটব্যাক হওয়ায় বাম প্রান্তে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পাচ্ছিলেন, আর এ সুযোগই লুফে নেয় স্পেনের আক্রমণভাগ। ইয়ামাল এবং স্পেনের ডান প্রান্ত মেন্দেসের প্রস্থানের পর অনেক বেশি স্বাধীনভাবে আক্রমণ শানাতে শুরু করে।

এ অবস্থায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দে লা ফুয়েন্তে। শেষ ১৫ মিনিটে ফেরান তোরেস ও মিকেল মেরিনোকে নামিয়ে তিনি বদলে দেন আক্রমণের ছন্দ। ক্লান্ত পর্তুগিজ রক্ষণ তখন আগের মতো দ্রুত জায়গা বদল করতে পারছিল না। স্পেন সেটিই কাজে লাগিয়েছে।

যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে চলেছে এবং রেফারি অ্যান্থনি টেইলর যখন ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়ের ঘোষণা দিলেন, ঠিক তখনই স্পেনের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। স্পেনের আক্রমণভাগের একটি দ্রুত ফ্রি-কিক থেকে নাটকের সূত্রপাত হয়। ফাবিয়ান রুইজ বলটি বাড়িয়ে দেন রদ্রির দিকে, রদ্রি বক্সে ঢুকে পড়া ফেরান তোরেসকে খুঁজে নেন। তোরেস অত্যন্ত নিখুঁত এক থ্রু-বল বাড়ান পর্তুগিজ ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে চলে আসা মিকেল মেরিনোর উদ্দেশে। মেরিনো বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বাম পায়ের নিপুণ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা, যিনি পুরো ম্যাচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনিও মেরিনোর এ আকস্মিক শটের গতিপথ আন্দাজ করতে পারেননি।

মেরিনোর এ গোলটি উদযাপনের ধরন ছিল দেখার মতো। তিনি কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে যান এবং তার চারপাশে বৃত্তাকারে দৌড়াতে থাকেন, ১৯৯১ সালে স্টুটগার্টের বিরুদ্ধে তার বাবা ওসাসুনার হয়ে গোল করার পর যেভাবে উদযাপন করেছিলেন, ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি। গোলের পর পর্তুগাল আর ম্যাচে ফেরার মতো মানসিক বা শারীরিক শক্তি খুঁজে পায়নি। রবার্তো মার্টিনেজ ততক্ষণে রাফায়েল লিয়াও এবং বার্নার্ডো সিলভাকে মাঠে নামিয়ে অলআউট আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু স্পেনের জমাট রক্ষণভাগের সামনে তা ভেস্তে যায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বার্নার্ডো সিলভার একটি হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

শেষ বাঁশি বাজার পর ৭০ হাজারের বেশি দর্শকভর্তি গ্যালারির সামনে রোনালদো দাঁড়িয়ে রইলেন শূন্যদৃষ্টিতে। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। ২০০৬ সালে জার্মানিতে অভিষেকের পর থেকে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার ধারা এখানেই থেমে গেল।

স্পেনের সামনে এখন কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, সৌদি আরবকে ৪-০ ও উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থাকা, শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়া—এ পথ ধরেই স্পেন এখন ২০১০ সালের পর দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়েই জবাব দিল বেলজিয়াম: ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে ফুটবল নয়, ছিল ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেও ফিফার সিদ্ধান্তে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার অনুমতি পান যুক্তরাষ্ট্রের এ ফরওয়ার্ড। সেই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছিল বেলজিয়াম। তাদের আপত্তি, প্রতিবাদ, এমনকি ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে বালোগুনের খেলার যোগ্যতা চ্যালেঞ্জ করেও লাভ হয়নি। কিন্তু মাঠে নেমে বেলজিয়াম যেন সব বিতর্কের জবাব একসঙ্গে দিল। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল রুডি গার্সিয়ার দল। ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোমেলু লুকাকুর গোল উদযাপনের ছবি দিয়ে লেখা হলো, ‘ওভারটার্ন দিস’—অর্থাৎ এবার এটা উল্টে দেখাও।

শুধু জয়ের ব্যবধান নয়, ম্যাচের ধরনও ছিল বেলজিয়ামের স্পষ্ট বার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের দুর্বলতা, গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের বড় ভুল এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানসিক ভেঙে পড়াকে নির্মমভাবে কাজে লাগিয়েছে তারা। চার্লস ডি কেটেলারের দুই গোল ও এক অ্যাসিস্টে বেলজিয়াম ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে রোমেলু লুকাকু যোগ করেন চতুর্থ গোল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।

ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। দোদি লুকেবাকিওর লম্বা ডায়াগোনাল পাস থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রস যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণে জট তৈরি করে। টিমোথি কাস্তানিয়ে বল বাড়িয়ে দেন বক্সে, আর ডি কেটেলারে টিম রিম ও অ্যান্টনি রবিনসনের মাঝখান দিয়ে ঢুকে বল জালে পাঠান। তখনই যুক্তরাষ্ট্র কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো দুই হাত ছড়িয়ে যেন প্রশ্ন করছিলেন—এটা কী হচ্ছে?

৩১ মিনিটে মালিক টিলম্যানের ফ্রি কিকে সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। ব্র্যান্ডন মেখেলে বালোগুনকে ফাউল করলে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে ফ্রি কিক পায় স্বাগতিকরা। টিলম্যানের শট হ্যান্স ভানাকেনের মাথায় লেগে দিক পাল্টে থিবো কোর্তোয়ার নাগালের বাইরে চলে যায়। গ্যালারির ৬৬ হাজার ৯২৫ দর্শকের বড় অংশ তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে। কিন্তু সেই আনন্দ টিকেছিল মাত্র ১ মিনিটের মতো। ৩৩ মিনিটে ট্রোসার্ডের ক্রসে ডি কেটেলারে টিম রিমকে টপকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচ কার্যত শেষ হয়ে যায়। মেখেলের লম্বা বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস দ্বিধায় পড়ে যান। চাপের মুখে তার ক্লিয়ারেন্স ডি কেটেলারের গায়ে লাগে। সেখান থেকে ভানাকেন দূরপাল্লার শটে গোল করেন, যদিও বলটি রিমের গায়ে লেগে দিক বদলায়। এ গোলের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। ৫২ মিনিটে শট নিতে গিয়ে ইউরি তিলেমানসের বুটে আঘাত পেয়ে ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট পান ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। ৭ মিনিট পর তাকে তুলে নিতে হয়। বিশ্বকাপ শেষ করলেন তিনি কোনো গোল ছাড়াই।

শেষ দিকে ক্রিস রিচার্ডসের ভুল থেকে ৯০+৩ মিনিটে লুকাকু নিজের ৯৩তম আন্তর্জাতিক গোল করেন। ১৯৯০ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ৫-১ হারের পর বিশ্বকাপে আর কখনো এত গোল হজম করেনি যুক্তরাষ্ট্র। পচেত্তিনোর ভাষায়, এটি ছিল ‘খুব বাজে দিন’। হতাশ টাইলার অ্যাডামসও বলেন, বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

বালোগুন অবশ্য মাঠে ছিলেন, কিন্তু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সুবিধা দিতে পারেনি। বরং বেলজিয়ামের খেলোয়াড়দের কথায় বোঝা গেল, ঘটনাটি তাদের ভেতরে বাড়তি আগুন জ্বেলে দিয়েছিল। ইউরি তিলেমানস বলেন, খবর শোনার পর তারা বৈঠক করেছিলেন এবং ঠিক করেছিলেন, জবাবটা মাঠেই দিতে হবে। নিকোলা রাসকিন আরো সরাসরি বলেন, জীবনে কোথাও না কোথাও ন্যায়বিচার থাকে। তাদের কাছে সিদ্ধান্তটি ন্যায্য মনে হয়নি, আর এ জয় সেই অন্যায়ের জবাবের মতো।

কোচ রুডি গার্সিয়া বিতর্ককে বড় করে দেখাতে চাননি। তার মতে, বেলজিয়ামের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। ম্যাচ শেষে তিনি বালোগুনের সঙ্গে কথাও বলেছেন এবং বলেছেন, এটি বালোগুনের দোষ নয়।

এ জয়ে টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ১২ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করল তারা। ২০১৪ সালেও একই পর্বে বেলজিয়ামের কাছে হেরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করে বড় স্বপ্ন দেখলেও শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলোতেই থেমে গেল পুলিসিচ-অ্যাডামসদের যাত্রা। ছয় কনকাকাফ দলের সবাই বিদায় নিয়েছে; যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—তিন সহ-আয়োজকই শেষ ষোলো পার হতে পারেনি।

বেলজিয়ামের সামনে এখন আরো বড় পরীক্ষা। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। সেই ম্যাচের জয়ী দল সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স বা মরক্কোর বিপক্ষে।