র‍্যাংকিংয়ের ১৫ নম্বরের দল সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-২-এ হেরে বসেছে বাংলাদেশ। অথচ এটি ছিল লিটন দাস-তাওহীদ হৃদয়দের জন্য পাকিস্তান সফরের ‘প্রস্তুতি সিরিজ’। সেই সিরিজটায় তারা আত্মসমর্পণ করে বড় লজ্জার মুখে পড়েছেন। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এবার সামনে আরো বড় পরীক্ষা। এবার পাকিস্তানের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বুধবার লাহোরে শুরু হবে তিন ম্যাচের এ সিরিজ। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল পাকিস্তানের সঙ্গে এ চ্যালেঞ্জে পেরে উঠবে কি বাংলাদেশ?

সিরিজটা প্রথমে ছিল পাঁচ ম্যাচের। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্রিকেট ফেরার কথা ছিল ফয়সালাবাদে। সেখানে দুটি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। যদিও ভারত-পাকিস্তান সংঘাত এই সিরিজটাকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। পরে ম্যাচ কমিয়ে ছোট করা হয় সিরিজ। নিরাপত্তার কারণে ফয়সালাবাদের দুটি ম্যাচ বাদ দিয়ে শুধু লাহোরে তিন ম্যাচের সিরিজ আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

এ সিরিজ খেলতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? বিশেষ করে নিচের সারির দল আরব আমিরাতের কাছে হারের ধাক্কা কি আদৌ সেরে উঠতে পারবেন লিটন ও তার সতীর্থরা? সেই প্রশ্নই এখন উঠছে।

গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আইসিসির কোনো সহযোগী সদস্য দেশের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারল লাল-সবুজরা। বাংলাদেশ দলনায়ক লিটন দাস অবশ্য এ হারে ভেঙে পড়তে নারাজ। আরব আমিরাতের কাছে হারের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘যখন এখানে এসেছি, সবসময় ম্যাচ জেতার কথাই ভেবেছি। এটা (সিরিজ হেরে যাওয়া) জীবনের অংশ। যখন আপনি ক্রিকেট খেলবেন, প্রতিপক্ষ ভালো খেলবে, তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।’

তৃতীয় ম্যাচে বাজে ব্যাটিংয়ের পর বিবর্ণ বোলিং। লিটন এ নিয়ে বলেছেন, ‘আজ (শেষ ম্যাচ) আমরা ব্যাটিংয়ে কিছু ভুল করেছি। আমার মনে হয় এমন কিছু আমরা এই উইকেট, কন্ডিশনে করতে চাইনি। তিন ম্যাচেই আমরা পরে ব্যাট করেছি, শিশিরই মেইন ফ্যাক্টর ছিল।’

আরব আমিরাত এ সিরিজে একাধিক রেকর্ড গড়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে দুইশর বেশি রান তাড়া করে জিতেছে তারা, যা আরব আমিরাতের মাঠে যেকোনো দলেরই প্রথম দুইশ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এছাড়া এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে আরব আমিরাত। আগেরটি ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২১ সালে।

সিরিজ জেতায় আমিরাতকে কৃতিত্ব দিয়েছেন লিটন। সেই সঙ্গে শিশিরকে বড় ফ্যাক্টর বললেন আরেকবার। তার কথায়, ‘তারা খুবই ভালো খেলেছে, ভালো বল করেছে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে তারা শিশিরের সুবিধা পেয়েছে। তারা তেমন আতঙ্কিত হয়নি, তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।’

এ সিরিজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা। তার জায়গায় কাউকে নেয়নি বিসিবি। এছাড়া চোটে পড়েছেন সৌম্য সরকার। তার জায়গায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি পিএসএল খেলতে লাহোরে অবস্থান করছেন। আর আইপিএল খেলে দিল্লি থেকে লাহোর যাবেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ দলের বাকি সদস্যদের শারজা থেকে সরাসরি লাহোরে পৌঁছার কথা।

একজন ওপেনারের বদলি হিসেবে অলরাউন্ডার মিরাজকে দলে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যায় বিসিবির প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে স্কোয়াডে থাকা ওপেনারদের নিয়ে খুশি তারা। সৌম্যর বিকল্প হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্ত তো আছেনই। সঙ্গে মিরাজ সাদা বলের অনুশীলনে ও পাকিস্তানেই রয়েছেন। এটাও সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে নির্বাচকদের।

গাজী আশরাফ হোসেন বলেছেন, ‘পাকিস্তান যে দলটা ঘোষণা করেছে, টপ অর্ডারে দুইটা বামহাতি, নিচের দিকে তিনটা বামহাতি আছে। মনে হচ্ছে তিনটা বামহাতি খেলবে একাদশে। সে কারণে বাড়তি একজন অফ স্পিনারের অপশন তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকতার অভাবও মিরাজকে নেয়ার একটা কারণ।’

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সিরিজই বাতিল হতে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত বিসিবিকে রাজি করাতে সমর্থ হয়েছে পিসিবি। বাংলাদেশ দলের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদ ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। নাকভী তাদের জানিয়েছেন, লাহোরে বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা দেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। কিন্তু টাইগারদের পারফরম্যান্সের নিরাপত্তা কি দিতে পারবেন তারা?

পাকিস্তানের মাঠে এখন পর্যন্ত তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে করাচিতে ১০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। ২০২০ সালের সফরে লাহোরে দুটি ম্যাচ খেলে যথাক্রমে ৫ উইকেটে ও ৯ উইকেটে হেরে যায় মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন দল। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১৯ বারের মুখোমুখিতে ১৬টি জিতেছে পাকিস্তান, বাকি তিনটি জিতেছে বাংলাদেশ।