ওভালে দ্বিতীয় আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সামনে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে ভারত। শনিবার চতুর্থ দিন ৮ উইকেটে ২৭০ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে অজিরা। এতে ভারত পড়ে ৪৪৪ রানের বড় টার্গেটের মুখে। বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেটে ১৬৪ রান নিয়ে চতুর্থ দিন মাঠ ছাড়ে তারা। রোববার পঞ্চম ও শেষদিন ৭ উইকেট হাতে নিয়ে তাদের করতে হবে আরো ২৮০ রান।  

ট্রাভিস হেড (১৬৩) ও স্টিভেন স্মিথের (১২১) সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৬৯ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাব দিতে নেমে ৭১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভারত। সেখান থেকে আজিঙ্কা রাহানে (৮৯), শারদুল ঠাকুর (৫১) ও রবীন্দ্র জাদেজার (৪৮) লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বোর্ডে ২৯৬ রান তুলতে সমর্থ হয় ভারত। ১৭৩ রানের লিড পায় অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করে ভারতের বোলাররা। ২৪ রানের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নার ও উসমান খাজা ফেরেন সাজঘরে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা স্মিথ (৩৪) ও হেড (১৮) এদিন বড় স্কোর গড়তে পারেননি। জাদেজা ও উমেশ যাদবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে অজিরা ১৬৭ রানে হারায় ৬ উইকেট। যদিও প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১৭৩ রানের লিডকে পুঁজি করে ভারতকে চাপে ফেলতে সমর্থ হয় প্যাট কামিন্সের দল। এরপর অ্যালেক্স ক্যারি (৬৬) ও মিচেল স্টার্কের ব্যাটে (৪১) ভর করে পৌঁনে তিনশ রান তুলে নেয় অজিরা। মার্নুস লাবুশেনও করেন ৪১ রান।  

৪৪৪ রান তাড়া করতে গিয়ে রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল ঝড়ো সূচনা করেন। যদিও ১৯ বলে ১৮ রান করে স্কট বোলান্ডের শিকার হন গিল। ২০তম ওভারে রোহিতকে ফেরান নাথান লায়ন। ৬০ বলে ৪৩ রান করেন রোহিত। পরের ওভারে কামিন্সের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন টেস্ট স্পেশালিস্ট চেতেশ্বর পুজারা (২৭)।

এরপর বিরাট কোহলি (৪৪*) ও আজিঙ্কা রাহানের (২০*) লড়াই শুরু হয়। দুজন ১৯.২ ওভারে ৭১ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। তবে পথটা এখনো বহুদূর। ইতিহাস গড়ে ভারতকে জেতাতে হলে তাদের দুজনকে পঞ্চম দিন অন্তত দুই সেশন ব্যাটিং করতে হবে। টেস্টে সফলতম চেজ ৪১৮ রান, যা ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছিল ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই দুজনের পর শ্রীকর ভরত ও রবীন্দ্র জাদেজা ব্যাটার। বোলার শারদুল ঠাকুরও দলের প্রয়োজনে রান করতে সমর্থ। প্রথম ইনিংসে তিনি ফিফটি করেন।   

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই লর্ডসে প্রথম আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে ভারত। তারা দশ বছর আইসিসির কোনো ট্রফি জেতেনি।