উইম্বলডন টেনিসের নতুন রানি অবাছাই চেক খেলোয়াড় মারকেতা ভন্দ্রোউসোভা। আজ শনিবার নারী এককের ফাইনালে তিউনিস খেলোয়াড় ওন্স জাবেরকে ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে তিনি শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েন। উন্মুক্ত এই প্রথম কোনো অবাছাই খেলোয়াড় হিসেবে নারী এককে উইম্বলডন জিতলেন।

 

অস্ত্রোপচার করানোয় হাতে ব্যান্ডেজ বাধা অবস্থায় উইম্বলডন ফাইনাল দেখেছেন গতবার। এক বছর পর সেই সেন্টার কোর্টে তার হাতে উঠল শিরোপা! কব্জির চোটের কারণে গত বছর প্রায় ছয় মাস কোর্টের বাইরে ছিলেন মারকেতা। ফলে র‍্যাংকিংয়ে তার অবনমন ঘটে। উইম্বলডন শুরু করেন ৪২ নম্বর র‍্যাংকধারী হিসেবে। আজ ফাইনালে তিনি স্নায়ুর যুদ্ধে জয়ী হয়ে হারান ষষ্ঠ বাছাই জাবেরকে।

 

টানা দ্বিতীয়বারের মতো হৃদয় ভাঙল তিউনিসিয়ান তারকার। গতবার ফাইনালে হেরেছেন কাজাখস্তানের এলিনা রিবাকিনার কাছে, এবার ভন্দ্রোউসোভার কাছে। স্বপ্ন দেখছিলেন আজ সেন্টার কোর্টে শিরোপায় চুমু খাবেন। সেখানে চোখের জলে বিদায় নিলেন দর্শকদের কাছ থেকে। অবশ্য অল ইংল্যান্ড ক্লাবের হাজারো দর্শকের ভালোবাসায় তিনি সিক্ত হয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ইগা সিয়ানতেকের বিপক্ষে কিংবা সেমিফাইনালে আরিনা সাবালেঙ্কার বিপক্ষে তাকেই সমর্থন দিয়েছিলেন বেশিরভাগ দর্শক। আজও প্রচুর দর্শক সমর্থন পান। তবে কোর্টে জয় পাননি ২৮ বছর বয়সী খেলোয়াড়টি।

 

আগামীকাল মারকেতার বিয়েবার্ষিকী। স্টেডিয়ামেই ছিলেন তার স্বামী। সেটি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‌অবিশ্বাস্য। আগামীকাল আমাদের প্রথম বিয়েবার্ষিকী। তোমার মতো মানুষকে পাশে পেয়ে আমি অভিভূত। এই দুটি সপ্তাহ আমি ভীষণ উপভোগ করেছি। আমি যেন নিঃশেষ, তবে নিজেকে নিয়ে এখন গর্বিত।’

 

বিমর্ষ জাবের বলেন, ‘‌কথা বলেই আমার জন্য কঠিন, কারণ এটা খুবই কঠিন সময়। আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর হার।’ তিনি আরো বলেন, ‘‌আমি প্রথমেই মারকেতাকে অভিনন্দন জানাই। তার টিমকেও। অবিশ্বাস্য টুর্নামেন্ট ছিল তার। অসাধারণ এক খেলোয়াড়। অনেক চোটের মধ্য দিয়ে গেছে, আমি তার জন্য আনন্দিত।’

 

গত বছর উইম্বলডনের পাশাপাশি ইউএস ওপেনের ফাইনালেও হেরেছেন জাবের।