ইউরোপের ফুটবলে গ্রীষ্মকালীন দলবদল শুরু হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামকে এরই মধ্যে ১০৩ মিলিয়ন ইউরোয় দলভুক্ত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। চুক্তি হয়েছে ছয় বছরের। আর্জেন্টাইন গ্রেট লিওনেল মেসি প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) থেকে নাম লিখিয়েছেন মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মিয়ামিতে। আর রিয়াল মাদ্রিদের করিম বেনজেমা বছরে ১০ কোটি ইউরো পারিশ্রমিকে যোগ দিয়েছেন সৌদি ক্লাব আল ইত্তিহাদে। 

কিন্তু দলবদলের উত্তাপ কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আরো বহু চমক বাকি। ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় নাম পিএসজির কিলিয়ান এমবাপ্পে, টটেনহামের হ্যারি কেন ও সিরি-এ চ্যাম্পিয়ন নাপোলির ভিক্টর ওসিমেনকে ঘিরে গুঞ্জন। তারা উচ্চমূল্যে বিক্রি হতে পারেন কিংবা নতুন দলে যোগ দিতে পারেন। 

গত বছর গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রেকর্ড ১৯০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে ইংলিশ ক্লাবগুলো। এবার কি ১ সেপ্টেম্বরের ডেডলাইনের মধ্যে সেই রেকর্ড ভেঙে যাবে? 

এবার কিছু বড় নাম থাকছেন গ্রীষ্মের দলবদলের আলোচনায়, যারা আকাশচুম্বী ফিতে বিক্রি হতে পারেন। দেখে নেয়া যাক কারা?

কিলিয়ান এমবাপ্পে: ফরাসি সেনসেশনকে ঘিরে গুঞ্জন উঠেছে। এই ফরওয়ার্ড বলছেন, তিনি পিএসজিতে সুখেই আছেন। কিন্তু সেটা কি শুধুই কথার কথা? গত বছর জুলাইয়ে তিনি ক্লাবকে বলে দিয়েছেন, ২০২৪ সালের পরে আর চুক্তিটা নবায়ন করবেন না। এখন ঠিক এ কারণেই ক্লাবটি তাকে বিক্রি করে দিতে চাইছে। ক্লাবটি বুঝে গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই শুরু হলেই ফ্রি এজেন্ট হয়ে পড়বেন এমবাপ্পে, সেটি হলে তাকে বিনা ফিতে বিক্রি করতে হবে। তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না ফরাসি জায়ান্টরা। চলতি গ্রীষ্মে তাকে বিক্রি করলে ১০ থেকে ১৫ কোটি ইউরো ফি পাওয়া সম্ভব। 

স্প্যানিশ জায়ান্ট ও রেকর্ড ১৪ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ কয়েক বছর ধরেই এমবাপ্পেকে কিনতে মরিয়া। এমনকি গত বছর চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েও তাকে কিনতে পারেনি এবং শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পাল্টে তিনি থেকে যান প্যারিসে। 

আবার তাকে ঘিরে গুঞ্জন এবং তাকে কেনার এক নম্বর প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে রিয়াল। যদিও এবার তাকে কেনার রেসে নামবে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি ও জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। 

২৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রায় প্রতিটি বড় শিরোপা জিতেছেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে জিতেছেন বিশ্বকাপ। এ বছরও তিনি বিশ্বকাপ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। যদিও লিওনেল মেসির কাছে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় হেরে যান তিনি। ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও ফ্রান্সকে জেতাতে পারেননি এই বিস্ময় ফরওয়ার্ড। তবে তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বিশ্ব। 

২০১৭ সালে ধার চুক্তিতে মোনাকো থেকে পিএসজিতে নাম লেখান এমবাপ্পে। পরে ১৮০ মিলিয়ন ইউরোয় তাকে স্থায়ীভাবে কিনে নেয় পিএসজি। সেই থেকে ক্লাবটির হয়ে ২৬০ ম্যাচে ২১২ গোল করেছেন তিনি। ফ্রান্সের জার্সিতে ৬৮ ম্যাচে করেছেন ৩৮ গোল। 

হ্যারি কেন: করিম বেনজেমা চলে যাওয়ায় যে জায়গাটি শূন্য হয়েছে সেটি পূরণের জন্য এমবাপ্পের পাশাপাশি ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেনের কথাও ভাবছে রিয়াল। মূলত এমবাপ্পেকে নিয়ে গুঞ্জনটা ওঠার আগে থেকেই কেনের ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়। টটেনহাম এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্লাবটি ছাড়বেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ সুযোগে তাকে বার্নাব্যুতে উড়িয়ে নিতে চায় আলবিসেলেস্তেরা। গত বছর ম্যানইউ, চেলসি, বায়ার্ন ও পিএসজিও চেয়েছিল কেনকে। সেবার তিনি থেকে যান। যদিও এবার তাকে ধরে রাখা স্পার্সদের পক্ষে কঠিনই হবে। 

স্পার্স ও কেনকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চুক্তির এক বছর বাকি। এখন যদি চুক্তি নবায়ন না করে তবে আগামী বছর জুলাইয়ে তিনি ফ্রি এজেন্ট হয়ে পড়বেন। তাই স্পার্সদের এখনই বিক্রি করতে হবে কিংবা চুক্তি নবায়ন করতে হবে। 

কেনের মেধা ও সামর্থ্য নিয়ে কারো সংশয় নেই। স্পার্সদের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৪৩৫ ম্যাচে ২৮০ গোল করেছেন কেন। প্রিমিয়ার লিগে অ্যালান শিয়েরারের ২৬০ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতে আর ৪৭ গোল চাই তার। 

দুই বছর আগে ম্যানসিটিতে যোগ দেয়া নিয়ে যখন কথা ওঠে তখন তাকে বুঝিয়ে থাকতে রাজি করায় স্পার্সরা। যদিও এবার লিগ টেবিলের শীর্ষ চারে না থাকায় আগামী মৌসুমে লন্ডন জায়ান্টরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে পারবে না। এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে অন্যান্য ব্যর্থতাও। ক্লাবটির হয়ে কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি কেন। এই ব্যর্থতা মোচনের তাগিদ থেকেই তিনি টটেনহাম ছাড়তে পারেন। 

ভিক্টর ওসিমেন: ৩৩ বছর পর এবার ইতালির লিগ শিরোপা জিতেছে নাপোলি। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। দলের এ সফলতার নেপথ্য নায়ক ভিক্টর ওসিমেন। লিগে ৩১ ম্যাচে করেছেন ২৫ গোল। ঝড় তোলা সেই পারফরম্যান্সই তাকে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর চোখে আকাঙ্ক্ষিত এক নামে পরিণত করেছে। গ্রীষ্মের দলবদলে তিনি হয়ে উঠেছেন হট কেক। চেলসি, আর্সেনাল, ম্যানইউ, লিভারপুল, পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদ নজর রাখছে তার ওপর। বিবিসির চোখে, ওসিমেনের ট্রান্সফার মূল্য ৯০ থেকে ১৩০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। 

এছাড়া চেলসির ম্যাসন মাউন্ট, ওয়েস্ট হ্যামের ডিক্লান রাইস, ইন্টার মিলানের রোমেলু লুকাকুকে নিয়ে গুঞ্জন জোরালো। এর বাইরে নন পিএসজির ব্রাজিলীয় সুপারস্টার নেইমারও।