ন্যু ক্যাম্পে স্বস্তির নিশ্বাস। বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ১৬০ কোটি ডলারের (প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা) প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বার্সেলোনা। ফলে শিগগিরই ন্যু ক্যাম্পের সংস্কারকাজ শুরু করতে পারবে স্প্যানিশ ক্লাবটি। কাতালান ক্লাবটির কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
এ প্রকল্পে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের দরপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল ৩১ মার্চ। যদিও বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হলেও সময় বাড়ায় বার্সেলোনা। কাতালানরা জানিয়েছে, ক্লাবের সম্পদ ‘গ্যারান্টি’ হিসেবে কিংবা স্টেডিয়ামটি বন্ধক রাখার কোনো প্রয়োজন পড়েনি। মোট ২০ জন বিনিয়োগকারী এখানে বিনিয়োগ করছেন বলে জানিয়েছে ক্লাবটি, এর মধ্যে আর্থিক খাতের খ্যাতিমান কিছু বিনিয়োগকারী রয়েছেন।
আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো—গোল্ডম্যান স্যাকস, জেপি মরগ্যান, জেএলএল, পেরেজ-লরকা, ডিএলএ পিপার, কি ক্যাপিটাল পার্টনার্স, লিজেন্ডস ও আইপিজি ৩৬০।
বার্সা জানিয়েছে, কিস্তির অর্থ পাঁচ, সাত, নয়, ২০ কিংবা ২৪ বছরে পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে বার্সার জন্য এবং তারা এজন্য বর্ধিত সময়ও পাবে। স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ শেষ হলেই কিস্তির অর্থ পরিশোধ শুরু করবে বার্সেলোনা। ইউরোপের বৃহৎ এ স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ৯৯ হাজার ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আর্থিকভাবে ধুঁকছে বার্সেলোনা। এমন পরিস্থিতিতে কাতালানরা তাদের হোম ম্যাচগুলো আগামী মৌসুমে খেলবে ৫০ হাজার দর্শক ধারণক্ষম লুইস কোম্পানির অলিম্পিক স্টেডিয়ামে। বার্সার পক্ষ থেকে এরই মধ্যে অলিম্পিক স্টেডিয়ামে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। কেননা ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ম্যাচ আয়োজনে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকতে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে এক মৌসুম খেলে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আবার ন্যু ক্যাম্পে ফিরে আসবে কাতালানরা, যখন ক্লাবটি ১২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে।
১৯৫৭ সালে ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামের যাত্রা। এরপর সংস্কার করা হলেও এখন বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন পড়েছে ইউরোপের সর্ববৃহৎ এ স্টেডিয়ামের।
ফুটবল স্টেডিয়াম ঘিরে পরিকল্পনা ছাড়াও ‘এস্পাই বার্সা’ নামের এ মহাপরিকল্পনায় অন্যান্য অবকাঠামোয় খরচের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। ক্লাবের বাস্কেটবল ও হ্যান্ডবলের হোমগ্রাউন্ড পালাউ ব্লুগ্রানার সংস্কারে ব্যয় করা হবে ৪২ কোটি ইউরো। আর পুরুষ রিজার্ভ দল ও নারী ফুটবল দলের মাঠ ইয়োহান ক্রুইফ স্টেডিয়াম সংস্কারে ব্যয় হবে ২ কোটি ইউরো। ক্লাবটি আশা করছে, ২০২৬ সালের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ হয়ে যাবে।
দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বার্সেলোনা। ২০২০-২১ মৌসুমে কাতালানরা ৪৮ কোটি ১০ লাখ ইউরো লোকসান দেয়। এ সময় বাধ্য হয়ে তারা ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
গত মৌসুমে অবশ্য ২৫ বছরের জন্য লা লিগার টেলিভিশন স্বত্ব বিক্রি করে ও বার্সা স্টুডিওর ৪৯ শতাংশ বিক্রি করে ৭৫ কোটি ইউরোর সংস্থান করে কাতালানরা।
স্টেডিয়াম নিয়ে কর্মযজ্ঞের মধ্যে বার্সা আরেক মহাপরিকল্পনায় হাত দিচ্ছেন। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসিকে ফিরিয়ে আনার মিশনে নামছে লা লিগা জায়ান্টরা। এজন্য বিভিন্ন খাত থেকে অর্থের সংস্থানও শুরু করে দিয়েছে ক্লাবটি। মেসিকে নিয়ে সমর্থকদের খুশির খবর দিয়েছেন স্প্যানিশ সাংবাদিক আদ্রিয়ান সানচেজ। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে বার্সেলোনায় পুরনো স্কুলে সন্তানদের ভর্তির বিষয়টি পাকা করে ফেলেছে মেসি পরিবার। বার্সা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে যাত্রার আগে এ স্কুলেই পড়েছে মেসির বড় দুই সন্তান।
মেসিকে আনা ও অন্যান্য ব্যয়ের সংস্থান করতে বার্সার অন্তত ২০ কোটি ইউরো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থের সংস্থান করতে হলে খরচের খাতও কমাতে হবে কাতালানদের। যেমন মূল দলের খেলোয়াড়দের বেতনও খানিকটা কমাতে হবে। যদিও এরই মধ্যে ম্যাতিউ অ্যালেমানির কঠোর চেষ্টায় বেতন খানিকটা কমানো গেছে। আতোয়াঁ গ্রিজম্যান অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে চলে যাওয়ায় ও জেরার্ড পিকের চুক্তি বাতিলের পর ক্লাবের বেতনের ওপর চাপ অনেকটা কমেছে।
অধিনায়ক সার্জিও বুসকেটসের চুক্তির মেয়াদ এ মৌসুমেই শেষ হয়ে যাবে। তার বেতন আগেই কমানো হয়েছে। তিনি যদি থেকে যান, তবে বেতন আরো এক-তৃতীয়াংশ কমানো হতে পারে। সেটিও ক্লাবের মোট বেতনের ওপর চাপ কমাবে।
বর্তমানে দলের মোট বেতন ৪৫ কোটি ইউরোর (৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা) কাছাকাছি। এ খাতেই সবচেয়ে বেশি ব্যয় ক্লাবের। চলতি মৌসুমে তাদের অন্তত ২০ কোটি ইউরো লোকসানের পূর্বাভাস রয়েছে। তাই উয়েফার আর্থিক নিয়ম প্রতিপালনে কাতালানদের খেলোয়াড় বিক্রি, বেতন কমানোসহ অন্যান্য খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে জরুরিভিত্তিতে।
এপি ও এনডিটিভি, মার্কা










