‘‌অবিস্মরণীয়’ সিলভিও বেরলুসকোনির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন ইতালির ফুটবল ক্লাব এসি মিলান, ইন্টার মিলানের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। আজ ৮৬ বছর বয়সে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছেন ইতালির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও এসি মিলানের সাবেক কর্ণধর।

 

১৯৮৬ সালে নিজ শহরের ক্লাব এসি মিলান কিনে নেন বেরলুসকোনি। এরপর ক্লাবটি হয়ে ওঠে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি। তার সময় এসি মিলান আটবার লিগ চ্যাম্পিয়ন ও পাঁচবার ইউরোপসেরা হয়। সর্বশেষ ২০০৭ সালে ইস্তানবুল ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে রোজেনারিরা। সব মিলে, এসি মিলান সাতবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন।

 

ঋণে জর্জর হয়ে পড়লে ২০১৭ সালে ৭৪ কোটি ইউরোয় এসি মিলানকে চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেন বেরলুসকোনি।

 

খ্যাতিমান এই রাজনীতিক ও ফুটবল প্রশাসকের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে এসি মিলান টুইট করেছে, ‘‌এসি মিলান গভীরভাবে মর্মাহত। অবিস্মরণীয় বেরলুসকোনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তার শোকাগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমবেদনা জানাই।’

 

এসি মিলান বিক্রির ১৮ মাস পর অবশ্য ফুটবলে ফিরে আসেন বেরলুসকোনি। তার কোম্পানি ফিনিনভেস্ট তৃতীয় বিভাগের দল মোনজার শতভাগ শেয়ার কিনে নেয়। তিনি যেন পরশপাথর। এসি মিলানে দীর্ঘ সময়ের সহচর আদ্রিয়ানো গালিয়ানিকে নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জে নামেন বেরলুসকোনি। দুজন মিলে ১১০ বছরের ইতিহাসে মোনজাকে প্রথমবারের মতো সিরি-এ লিগে নিয়ে যান!

 

তার মৃত্যুতে মোনজা শোক জানিয়ে বলেছেন: ‘‌‘‌আমাদের সঙ্গে আজীবন থাকবেন। সিলভিও বেরলুসকোনির চলে যাওয়ায় আদ্রিয়ানো গালিয়ানি ও এসি মোনজার সবাই শোহবিহ্বল। এই শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়, আমাদের সঙ্গেই থাকবেন আজীবন। সবকিছুর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ প্রেসিডেন্ট।’’

 

অধিনায়ক হিসেবে বেরলুসকোনির মালিকানাধীন এসি মিলানকে ১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা এনে দেন কার্লো অ্যানচেলত্তি। ২০০১ সালে ক্লাবটির কোচ হিসেবে ফেরেন তিনি। দায়িত্ব পালন করেন ২০০৯ পর্যন্ত। তার সময় সিরি-এ লিগ শিরোপা, দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কোপা ইতালিয়াসহ অসংখ্য শিরোপা জয় করে এসি মিলান।

 

রিয়াল মাদ্রিদ কোচ অ্যানচেলত্তির টুইট, ‘‌আমরা একত্রে যে সুখময় সময় কাটিয়েছি তা আজকের বিষাদ কোনোভাবেই কেড়ে নিতে পারে না। প্রেসিডেন্টের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। প্রথমে একজন খেলোয়াড় হিসেবে ও পরে কোচ হিসেবে তিনি ছিলেন আমার কাছে একজন বিশ্বস্ত, মেধাবী, আন্তরিক ও অপরিহার্য মানুষ। ধন্যবাদ প্রেসিডেন্ট।’

 

এসি মিলানের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলানও এক বিবৃতিতে শোক জানিয়েছে। তারা লিখেছে: ‘‌‘‌তিনি আমাদের ফুটবল ইতিহাসে অমোচনীয় এক কীর্তি গড়েছেন। ইন্টার মিলান ও এসি মিলানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে বিশ্ব ফুটবলের প্রাণেকন্দ্র হয়ে ওঠে মিলান শহর।’’