অথচ সেটাই করতে হলো প্রায় শুরুতে। জন করডোবা চোটে পড়লে অষ্টম মিনিটেই মাঠে নামাতে হয় লুইস সুয়ারেজকে। ১৪ মিনিটে সেই সুয়ারেজের দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়েছেন জন আরিয়াস। এ গোলটিই শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়াকে তুলে নেয় চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়।
আফ্রিকার দলটিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
কানসাস সিটিতে বাংলাদেশ সময় গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচের শুরুতেই প্রথম সুযোগটা পেয়েছিল ঘানা। নিজেদের অর্ধে হামেশ রদ্রিগেজের ভুলে বল পেয়ে থমাস পার্তেই দূরপাল্লার শট নিলেও অল্পের জন্য তা পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কলম্বিয়া। চলে একের পর এক আক্রমণ। ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় আসে একমাত্র গোল। বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে লুইস সুয়ারেজ ক্রস দেন। সেমেনিও সেটি ব্লক করলেও ফিরতি বলে আবারো ক্রস করেন তিনি। লুইস দিয়াজের হালকা হেড বলের দিক বদলে দেয়, আর দূরের পোস্টে অপেক্ষায় থাকা আরিয়াস প্রথম ছোঁয়ায় জালে বল জড়িয়ে কলম্বিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এর পরও আক্রমণের ধার কমায়নি কলম্বিয়া। দিয়াজ, রদ্রিগেজ ও মোহিকার জোটবদ্ধ আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে ঘানার রক্ষণভাগ। সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি ঘানা।
দ্বিতীয়ার্ধে লুইস দিয়াজ দুটি দারুণ সুযোগ পান। একটি গোল অল্পের জন্য অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, আরেকটিতে গোলকিপারকে প্রায় একা পেয়েও পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে আক্রমণে ধার দেখাতে পারেনি ঘানা। পুরো ৯০ মিনিটে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি এবং গোলমুখে কার্যকর শটও নিতে ব্যর্থ হয়।
প্রায় একপেশে ম্যাচে ঘানা মাত্র আটটি শট নেয়, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। অন্যদিকে কলম্বিয়া ২০টি শট নেয়, যার মধ্যে আটটি ছিল অনটার্গেট। সাতটি গোল সেভ করে ঘানাকে ম্যাচে রাখেন গোলকিপার আতি জিগি। বিপরীতে কলম্বিয়ার গোলকিপার ক্যামিলো ভার্গাসকে কোনো সেভই করতে হয়নি। তিনি মোটামুটি নির্ভারই থেকেছেন।
হার শেষে ঘানার ডিফেন্ডার জেরোম ওপোকু বলেন, ‘গ্রুপ পর্ব পেরোনো দারুণ ব্যাপার। তবে আমরা চেয়েছিলাম আরো কিছুদূর যেতে। ফুটবলে কখনো কখনো এমন ঘটে। সবকিছু আপনার পক্ষে যাবে না।’
শেষ ষোলোয় কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। এর আগে ২০১৮ সালে শেষবার বিশ্বকাপে খেলেও শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়ানরা। বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল হামেশ রদ্রিগেজের দল। এবার উত্তর আমেরিকার আসরে নতুন আশা জেগেছে কলম্বিয়ার। ম্যাচ শেষে দলটির কোচ নেস্তর লরেঞ্জো জোর দেন দলগত প্রচেষ্টার ওপর। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ফুটবল একটা টিম গেম। নির্দিষ্ট এরিয়ায় আপনার হয়তো কোনো গ্রুপ থাকবে, তবে সামগ্রিকভাবে আমরা একটা ইউনিট। আমি মনে করি আমাদের দলটি তেমনই একটা ইউনিট হিসেবে খেলায় অংশ নেয়। শুরু থেকে আমাদের লক্ষ্য তেমনই।’
কলম্বিয়া যে জিতবে তার একটি শুভলক্ষণ ছিল—শুরুতেই গোল করা। বিশ্বকাপে কলম্বিয়া আগে গোল করেছে এমন টানা ১১ ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে। ৭ জুলাই রাতে ভ্যাঙ্কুভারে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কি আগে গোল করতে পারবে ‘লস ক্যাফেটেরোস’রা?
কলম্বিয়ার তারকা লুইস দিয়াজ বলেন, ‘আসলে আমরা এখনো কিছুই জিতিনি। এসব ম্যাচ খুবই কঠিন হয়ে থাকে। আমরা যতগুলো ম্যাচ খেলেছি তার সবই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল।’









