সৌদি আরবে গতকাল ডমিনিকান রিপাবলিকের বক্সার ক্রিস্টাল গার্সিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি হন সোমালিয়ার রামলা সাইদ আহমেদ আলী। সৌদি আরবে এই প্রথম নারীদের বক্সিং ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো। এ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অংশ হলেন এরই মধ্যে একাধিক ইতিহাস গড়া রামলা আলী। তিনি প্রথম মুসলিম বক্সার হিসেবে সৌদিতে রিংয়ে নামেন।
সোমালিয়ার ইতিহাসে প্রথম পেশাদার নারী বক্সার। ফিদারওয়েটে তিনি কখনো হারেননি। কৃতী এই বক্সার একজন মডেল, লেখক ও জাতিগত সমতাকর্মীও। ক্যারিয়ারের শুরুতে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে সোমালিয়ার হয়ে খেলছেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সোমালিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে আফ্রিকান বক্সিং টাইটেল এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক জিতেছেন। এছাড়া একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে। ২০২১ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে মহিলাদের ফেদারওয়েট ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম লড়াইয়ে হেরে যান। তবু তিনি অলিম্পিক মঞ্চে সোমালিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম বক্সার।
ইন্টারন্যাশনাল মডেল এজেন্সির (আইএমজি) প্রতিনিধি তিনি। ডিওর, নাইকি, কার্টিয়ার ও প্যান্টিনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর রামলা। জীবন ও অর্জনের জন্য ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ব্রিটিশ ভোগ’
কভারে বেছে নিয়েছিল রামলাকে। লেখিকা হিসেবেও সুখ্যাতি আছে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দশটি লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে রামলা প্রথম উপন্যাস লিখেন ‘নট উইদাউট আ ফাইট’। উপন্যাসটি একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।
১৯৮৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মোগাদিসুতে জন্ম রামলার। ১৯৯০ সালে গৃহযুদ্ধের সময় পরিবারের সঙ্গে সোমালিয়া থেকে কেনিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন রামলা। ওই বছর তার ১২ বছর বয়সী বড় ভাই গৃহযুদ্ধের সময় একটি মর্টারের আঘাতে নিহত হন। তার পরিবার মোগাদিসু থেকে পালাতে সক্ষম হয়। এরপর লন্ডনে আশ্রয় পায় তারা। সাগর পথ পাড়ি দেয়ার সময় খাদ্যের অভাবে অনেক শরাণার্থী ওই সময় মারা যায়। তবে বেঁচে ছিলেন আলী ও তার পরিবার।
কৈশোরে অতিরিক্ত ওজন ছিল আলীর। এজন্য স্কুলে টিজিংয়ের শিকার হতেন। তাই স্থানীয় জিমে গিয়ে বক্সারসাইজ ক্লাস শুরু করেন। কিন্তু তার পরিবারকে জানাননি। কারণ তিনি ভেবেছিলেন তারা একজন মুসলিম মেয়ের জন্য খেলাটিকে গ্রহণ করবে না। এখান থেকেই শুরু বক্সিং। গত বছর টোকিও গেমসে সোমালিয়ার পতাকাবাহী ছিলেন ও অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম বক্সার। এ নিয়ে তিনি বলেন, এটি আমার জীবনের অন্যতম গর্বিত মুহূর্ত ছিল। কেউ কখনো আমার কাছ থেকে এটি কেড়ে নিতে পারবে না। বিশ্বের জনসংখ্যার ০.০০১ শতাংশ যারা নিজেদের অলিম্পিয়ান বলতে পারে।
জেদ্দার লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি ও নোভা তরুণদের বক্সিংয়ে উৎসাহিত করতে চান। সংবাদ সম্মেলনে রামলা বলেন, এটা বড় এক সম্মান। আমি ও আমার প্রতিদ্বন্দ্বী অসংখ্য তরুণী ও নারীকে বক্সিং গ্লোভস হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করব, তা শুধু এই দেশেই নয়, সারা বিশ্বে।










