গত বছর টি২০ বিশ্বকাপ শেষেই রাসেল ডোমিঙ্গোর চাকরি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। যদিও এরপর নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি টেস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজ জেতায় চাকরিটা সেই যাত্রায় বেঁচে যায়। এবার নিজে থেকেই তিনি চলে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ এক দৈনিককে দেয়া সাক্ষাতকারে এই দক্ষিণ আফ্রিকান বিসিবির চাকরিতে আর না আসার কথাই বলেছেন।
সম্প্রতি ভারতের শ্রীরাম শ্রীধরণকে টি২০ দলের টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট নিয়োগ করে বিসিবি। তাকে নিয়েই গত ২৩ আগস্ট এশিয়া কাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাত যায় বাংলাদেশ দল। আর ডোমিঙ্গো টি২০ দলের দায়িত্ব হারিয়ে ছুটি কাটাতে চলে যান নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখান থেকেই ফোনে ওই দৈনিককে জানিয়েছেন, দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বিসিবিতে আমার সময় শেষ। আর থাকছি না।
যদিও বিসিবিতে এখন তিনি কোনো চিঠি দেননি। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, চুক্তি অনুযায়ী ডমিঙ্গো এখনো প্রধান কোচ। বুধবার পর্যন্ত ডমিঙ্গো তাদের কাছে পদত্যাগপত্র দেননি।
২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপের পর এই ফরম্যাটে ১০টি ম্যাচ খেলে মাত্র দুটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। এ কারণে টি২০ থেকে সরিয়ে শুধু টেস্ট আর ওয়ানডেতে হেড কোচ হিসেবে রাখা হয় ডোমিঙ্গোকে। ২২ আগস্ট ডোমিঙ্গোকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়া হয় এবং তিনি এটা মেনে নেন বলে সংবাদমাধ্যমে বলেছেনও। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে ভালো সময় যাচ্ছিল না তার। পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল নানা ইস্যুতে। ডমিঙ্গোর একক কর্তৃত্বও কোচিং স্টাফের বাকিরা মেনে নিতে পারছিলেন না। কোচের কথাও নাকি কোনো কোনো ক্রিকেটার শুনত না!
দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর অবস্থান সংহত হলেও জিম্বাবুয়ের মাঠে সম্প্রতি ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ পরাজয়ে ফের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় এই কোচের। টি২০ ফরম্যাটে তার মানসিকতা পছন্দ নয় বিসিবির কোনো কর্মকর্তারই। এই ফরম্যাটে দায়িত্ব হারিয়ে টেস্ট এবং ওয়ানডে দলের কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দেশে ফিরে যান ২৩ আগস্ট। কিন্তু তার মনে কি ছিল কে জানে। ক্ষোভে, দুঃখে, আর অপমানেই হয়তো বিসিবির চাকরিটা আর না করারই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।










