উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অল-ইতালিয়ান সেমিফাইনালে
মুখোমুখি হচ্ছে এসি মিলান ও ইন্টার মিলান। স্যান সিরোয় আজ বুধবার প্রথম লেগের
ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
দীর্ঘ দুঃসময় কাটিয়ে উঠে ফের বড় মঞ্চে
ফিরেছে মিলান জায়ান্টরা। প্রথমে দুই দল ইতালির ফুটবলে মুকুট জিতেছে, এবার চ্যাম্পিয়ন্স
লিগেও ফাইনালের কাছাকাছি। যদিও দুই দলের মধ্যে মাত্র একটি পাবে ফাইনালের টিকিট। দ্বিতীয়
ফাইনালিস্ট আসবে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির দ্বৈরথ থেকে।
সবশেষ ইতালির কোনো দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স
লিগ জিতেছে ইন্টার মিলান। ২০১০ সালে হোসে মরিনহোর সময় তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ট্রেবল
জয় করে। সাতবারের ইউরোপজয়ী মিলান সর্বশেষ মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব পায় ২০০৭ সালে।
এসি মিলানের ডিফেন্ডার ফিকায়ো তোমোরি চ্যাম্পিয়ন্স
লিগে খেলা নিয়ে বলেন, ‘এমন একটি ক্লাবের অংশ হতে পারাটা স্বপ্নের
মতো। এমন আইকনিক ক্লাবের হয়ে স্যান সিরোর মতো আইকনিক স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের
বড় ম্যাচ খেলতে যাওয়াটা সত্যিই বিশেষ কিছু। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ইতালির দুটি দল সেফিাইনালে...এটা
লিগের জন্য ও ইতালির ফুটবলের জন্য অবশ্যই ভালো কিছু। আমরা অবশ্যই নিজেদের নিয়ে ভাবছি।
আমরা সেরা হতে চাই।’
স্যান সিরো দুই দলেরই হোম ভেন্যু। তবু
আজ মিলানই স্বাগতিক। আগামী মঙ্গলবার রাতে ইন্টার আতিথ্য দেবে মিলানকে।
তোমোরি বলেন, ‘আমরা দুটি উত্তেজনাপূর্ণ
ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। এ দুটি ম্যাচে আমরা নিজেদের তুলে ধরতে, প্রমাণ করতে পারব। আশা
করি, আমরা মিলানের ইতিহাসে আরো কিছু যোগ করতে সমর্থ হবো।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মোট চারবার মুখোমুখি
হয়েছে এসি মিলান ও ইন্টার মিলান। এতে ইন্টার কখনো জিততে পারেনি। এসি মিলান দুটিতে জিতেছে,
বাকি দুই ম্যাচ ড্র ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২০০২-০৩ মৌসুমে প্রথম দেখায় সেমিফাইনালে
দুই দলের প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র থাকে। দ্বিতীয় লেগটা ড্র হয় ১-১ গোলে। ২০০৪-০৫ মৌসুমে
কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগেই এসি মিলানের বিজয় নিশান ওড়ে। প্রথম লেগে ২-০ গোলে ও দ্বিতীয়
লেগে ৩-০ গোলের জয় তুলে নেয় ওই সময়কার পরাশক্তি এসি মিলান।
মিলানের কোনো দলের সর্বশেষ ইউরোপ জয়ের
পর দুই ক্লাবের মাঠে ও মাঠের বাইরে বড় খারাপ সময় গেছে। এ সময় একের পর এক কোচ বদল হয়েছে,
এমনকি ক্লাবের মালিকানাও। ২০১০ সালে মরিনহোর অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর ইন্টারে
১৪ বার কোচ বদল হয়েছে। আর ২০০৭ সালের পর এসি মিলানে এসেছেন মোট ১০ জন কোচ। এখন ইন্টারের
কোচ সিমোনে ইনজাগি, আর মিলানের কোচ স্তেফানো পিওলি।
মাঝের এ অন্ধকারাচ্ছন্ন দশকে মালিকানায়ও
একাধিকার পরিবর্তন এসেছে। ইন্দোনেশিয়ান ব্যবসায়ী এরিক তোহিরের তিন বছরের অধ্যায়ের অবসান
করে ২০১৬ সালে ইন্টার মিলানের কর্তৃত্ব নেয় চীনের সার্নিং হোল্ডিংস গ্রুপ। তোহিরের
কাছে বেশির ভাগ শেয়ার বিক্রির আগে ১৯৯৫ সাল থেকে ক্লাবটির ক্ষমতায় ছিলেন মাসিমো মোরাত্তি।
সানিং মালিকানায় আসার পাঁচ বছর পর লিগ শিরোপা জয় করে ইন্টার। সেটা ২০১১ সালের পর তাদের
প্রথম কোনো শিরোপা ও ২০১০ সালের পর প্রথম লিগ শিরোপা। এখন মালিকানায় সানিংয়ের (৬৮.৫৫%)
সঙ্গে আছে লিনরক ক্যাপিটালও (৩১.০৫%)।
এসি মিলানের মালিকানায় এখন রেডবার্ড ক্যাপিটাল
পার্টনার্স (৯৯.৯৩%)। ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির ৩০ বছরের কর্তৃত্বের
অবসান ঘটে ২০১৭ সালে। তখন এক চীনা কনসোর্টিয়াম কিনে নিলেও ক্লাবের আগের ঋণ পরিশোধ করতে
ব্যর্থ হয় এবং ক্লাবটিতে আসে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ট ম্যানেজমেন্ট। এরই মধ্যে ১১ বছরের
প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে লিগ শিরোপা জিতে নেয় এসি মিলান। এর কিছুদিন পরই মালিকানা
আসে আরেক আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স। তাতে অবশ্য মাঠের
পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, ক্লাবটি বরং ক্রমেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে।
দুই মিলানের প্রত্যাবর্তনে স্যান সিরোয়
ফিরে আসছে হারানো গৌরব।










