ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনেই চাপে পড়া জিম্বাবুয়ে তাদের মূল পেসার রিচার্ড এনগারাভা পিঠে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে পড়ে যায় আরো বিপাকে। সেই মুহূর্তে কার্যত ১০ জন নিয়েই খেলছিল তারা। কারণ ফিল্ডিংয়ে বদলি এলেও ব্যাটিং বা বোলিংয়ে কাউকে নামানো যায় না।
এনগারাভা পরে কিছু সময়ের জন্য মাঠে ফিরলেও বল করতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে—চোটের কারণে টেস্টে বদলি খেলোয়াড় নামানোর নিয়ম কি চালু করা উচিত? দেখে নেয়া যাক বর্তমান নিয়ম কী বলে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, কনকাশনের (মাথায় আঘাত) বাইরে কোনো বদলি খেলোয়াড় ব্যাট বা বল করতে পারে না। কেবল ফিল্ডিংয়ের অনুমতি রয়েছে। ২০১৯ সালে কনকাশন বদলির নিয়ম চালু হয়। প্রথম কনকাশন বদলি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মারনাস লাবুশেন। তিনি স্টিভ স্মিথের বদলি হিসেবে অ্যাশেজে খেলেছিলেন। কভিড-১৯-এর সময় স্বাস্থ্যগত কারণে বদলি খেলোয়াড়ের অনুমতি ছিল। তবে তা এখন বাতিল করা হয়েছে। ক্রিকেটের আইন তৈরি করা সংস্থা এমসিসি জানিয়েছে, তারা নিয়মগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করছে।
ইনজুরির মতো বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেখছেন না অনেক ক্রিকেট পণ্ডিত। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে যদি কারো চোট গুরুতর হয় এবং মাঠে থাকা চিকিৎসক যদি সেটা নিশ্চিত করেন, তবে বদলি খেলোয়াড়ের অনুমতি দেয়া উচিত। দ্বিতীয় ইনিংসে এই সুযোগ রাখলে ফাঁকফোকর খোঁজার সুযোগ থেকে যাবে।’
বিবিসির প্রধান ক্রিকেট ভাষ্যকার জোনাথন অ্যাগনিউয়ের ভাষ্য মতে, ‘চোটের কারণে অনেক টেস্ট একপেশে হয়ে গেছে। তবে প্রমাণ করার প্রশ্ন আসে—খেলোয়াড় সত্যিই চোট পেয়েছে কিনা। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হবেই।’
কনকাশন বদলির সঙ্গে ইনজুরি বদলির তেমন একটা তফাত দেখেন না টেস্ট ম্যাচ বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন মিচেল। তিনি বলেন, ‘কনকাশনে যেহেতু বদলি আছে, তাহলে চোটে কেন নয়? অন্যথায় ছোট দলগুলোর ম্যাচে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। সব খেলায় বদলি আছে, কেবল টেস্ট ছাড়া—এটা অস্বাভাবিক। অন্তত প্রথম দুই দিনে চোটপ্রাপ্তদের জন্য বদলি দেয়া উচিত।’
তবে বিপরীত মতও আছে। বিবিসির প্রধান ক্রিকেট রিপোর্টার স্টিফেন শেমিল্ট বদলির নিয়ম তৈরি হলে সেখানে অপব্যবহারের ঝুঁকি দেখেন। তার মতে, ‘শুধু চোটের জন্য বদলি চালু করলে ভবিষ্যতে এর অপব্যবহার হবেই। বরং টসের আগে নির্দিষ্টভাবে একজনকে দ্বাদশতম খেলোয়াড় ঘোষণা করে দেয়া যাক, যাকে কৌশলগত বা চোটের কারণে মাঠে নামানো যাবে।’










