লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে শুধু আটকে রাখেনি তারা, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া ৬৩তম র্যাঙ্কিংয়ের দলটি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নিয়েছে, দুইবার সমতায় ফিরেছে এবং একাধিকবার ম্যাচ জেতার সুযোগও তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ৩-২ লেখা থাকলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যে ভয়, চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছিল কেপ ভার্দে, সেটাই এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন।
মেসির ২৯ মিনিটের গোলের পর মনে হয়েছিল ম্যাচটি হয়তো স্বাভাবিক পথেই এগোবে। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মেসি যখন ভোজিনহাকে পরাস্ত করলেন, আর্জেন্টিনা তখন যেন পরিচিত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু কেপ ভার্দে ভেঙে পড়েনি। বরং বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের সুর।
৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাক থেকে দেরয় দুয়ার্তে কঠিন কোণ থেকেও এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন। সেই গোল শুধু সমতা ফেরায়নি, আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাসেও ফাটল ধরায়। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত শটে আর্জেন্টিনা আবার এগিয়ে গেলেও কেপ ভার্দে আবারও ফিরে আসে।
১০৩ মিনিটে সিডনি কাবরালের গোলটি ছিল রূপকথার মতো। বাঁ দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে তার বাঁকানো শট টপ কর্নারে জড়িয়ে যায়। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক দাঁড়িয়ে দেখেছেন শুধু। ২-২ স্কোরলাইন তখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের দরজা প্রায় খুলেই দিয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে রোমেরোর হেড, বোর্হেসের স্পর্শে আত্মঘাতী গোল—সেখানেই থামে কেপ ভার্দের স্বপ্ন। তবু শেষ মুহূর্তে কাবরাল, বেঞ্চিমোল, সেমেদোরা আর্জেন্টিনার রক্ষণে মূর্তিমান আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন।
কেপ ভার্দে হারল, কিন্তু মাথা নত করে নয়। অঘটন তারা ঘটিয়েই ফেলেছিল প্রায়—শুধু শেষ স্পর্শে রক্ষা পেয়ে যায় মেসির আর্জেন্টিনা।









