শারজায় বুধবার রাতে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই করে পাকিস্তানের কাছে ১ উইকেটে হার মেনেছে ক্রিকেটের অপেক্ষাকৃত নবীনতম আর টি২০ ক্রিকেটের লড়াকু দল দল আফগানিস্তান। ২০তম ওভারের প্রথম দুই বলে টানা দুই ছক্কায় নাটকীয়ভাবে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান নাসিম শাহ। এর আগ পর্যন্ত দারম্নণভাবে ম্যাচে টিকে ছিল আফগানিস্তান এবং তারা টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে সম্ভাব্য সব শক্তিই ব্যবহার করেছে। 

এই জয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে এবারের আসরে ফাইনালে উঠল পাকিস্তান। সেসঙ্গে ভারত ও আফগানিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হলো। ১১ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে শ্রীলংকা-পাকিস্তান ফাইনাল। 

শারজায় কাল টস জিতে বোলিং নেয় পাকিস্তান, যদিও এই সিদ্ধান্ত্মটি এ মাঠে অনেকটা আত্মঘাতীই। তবু পাকিস্তান বোলাররা দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানদের ১২৯ রানের বেশি তুলতে দেয়নি। ইব্রাহিম জাদরান আফগানিস্তানের পড়্গে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন, রশিদ খানের ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান। 

১৩০ রানের সহজ লক্ষে ব্যাটিং করতে নেমে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে পাকিস্তান। বাবর আজম মাত্র ১ রানের মাথায় ফজলহক ফারুকীর বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ফখর জামান হন রানআউট। পাকিস্তানের রান যখন ৪৫ তখন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে রশিদ খান জমিয়ে দেন ম্যাচ। শাদাব খান (৩৬) আর ইফতিখার আহমেদদের ছোট ছোট লড়াই চলছিল, আর তারই মধ্যে আফগানদের উইকেট উত্সবও চলছিল। বিশেষকরে, ফারম্নকি আর ফরিদ আহমেদ মিলে আরো ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে খাদের কিনারে ঠেলে দেন।

শেষ ১২ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন পড়ে ২১ রান, হাতে তিন উইকেট। ১৯তম ওভারে পেসার ফরিদ আহমেদ দুটি উইকেট তুলে নিলে পাকিস্তানের পরাজয় মনে হচ্ছিল শুধুই সময়ের অপেক্ষা। কেননা মাত্র এক উইকেট হাতে নিয়ে বাবর আজমের দলের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। কিন্তু তরুন নাসিম শাহ মোহাম্মদ নবীর দলের সব আশা শেষ করে দেন দুই ছক্কায়। 

হার শেষে আফগান দলনায়ক নবী বললেন, ছেলেরা বল হাতে ও ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত করেছে। কিন্তু আরেকবার আমরা কাজ সম্পন্ন করতে পারলাম না, শেষ পর্যন্ত স্নায়ু শক্ত রাখতে পারিনি। 

আজ সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। নবী বলেছেন, তার দল একই প্রাণশক্তি নিয়ে খেলবে এই ম্যাচটি। যদিও দুই দলেরই আর ফাইনালে খেলার কোনো আশা নেই।   

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আফগানিস্তান: ১২৯/৬ (ইব্রাহিম ৩৫, রশিদ ১৮*; হারিস রউফ ২/২৬)। পাকিস্তান: ১৯.২ ওভারে ১৩১/৯ (শাদাব ৩৫, ইফতিখার ৩০; ফারুকী ৩/৩১, ফরিদ ৩/৩১, রশিদ ২/২৫)। ফল: পাকিস্তান ১ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: শাদাব খান (পাকিস্তান)।