আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের প্রথম ম্যাচটিতে ফল হলো না। গল টেস্টে গতকাল পঞ্চম ও শেষ দিন স্বাগতিক শ্রীলংকাকে ৩৭ ওভারে ২৯৬ রানের কঠিন টার্গেট ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। কঠিন এ টার্গেট তাড়া করতে নেমে সিংহলিজরা ৩২ ওভারে ৪ উইকেটে ৭২ রান তোলার পর ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক। ১২ বছর ও ২৬ টেস্ট পর গলে কোনো ম্যাচ ড্র হলো।
মুশফিকুর রহিমের ১৬৩ ও নাজমুল হোসেন শান্তর ১৪৮ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৯৫ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে নাঈম হাসানের ৫ উইকেটে লংকানরা ৪৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে বৃষ্টিবাধায় পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে ৬ উইকেটে ২৮৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত। ততক্ষণে দিনের খেলা বাকি থাকে ৩৭ ওভারের। এটুকু সময়ে লংকানদের অলআউট করা যায়নি, কিংবা স্বাগতিক দলও ২৯৬ রান তোলার মতো পর্যাপ্ত সময় পায়নি।
ড্র ম্যাচেই টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি বা জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন শান্ত। গতকাল পঞ্চম ও শেষ দিন ১২৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে তিনি এ কীর্তি গড়েন। এর আগে প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানের রাজসিক ইনিংস খেলেন। এর আগে ২০২৩ সালের জুনে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১৪৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে ওই টেস্টে আফগানিস্তানকে ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। এবার অবশ্য কীর্তি গড়া ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেলেন না শান্ত।
১৯০৯ সালে প্রথম কোনো ব্যাটসম্যান টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করেন। ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম এমন কীর্তি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ওয়ারেন বার্ডসলি। প্রথম ইনিংসে ১৩৬ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩০ রান করেছিলেন।
টেস্ট ক্রিকেটে ৯৬তম জোড়া সেঞ্চুরি করলেন বাংলাদেশের শান্ত। তবে ব্যাটসম্যানের সংখ্যা ৭৮ জন। শান্তসহ ১৫ জন ব্যাটসম্যান একাধিকবার জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের আবার এই কীর্তি আছে তিনবার করে। এরা হলেন ভারতের সুনীল গাভাস্কার, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার। দুবার করে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি শান্ত ছাড়াও রয়েছে ইংল্যান্ডের হার্বাট সাটক্লিফ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হেডলি ও ক্লাইভ ওয়ালকট, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল, অ্যালান বোর্ডার ও ম্যাথু হেইডেন, শ্রীলংকার অরবিন্দ ডি সিলভা ও কুমার সাঙ্গাকারা, ভারতের রাহুল দ্রাবিড়, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস ও জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলরের।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শান্ত ছাড়া জোড়া সেঞ্চুরি আছে শুধু সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভের। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে এই শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল।
জোড়া সেঞ্চুরি করা ১৬তম অধিনায়ক শান্ত। রিকি পন্টিং অধিনায়ক হিসেবেই তিনবার জোড়া সেঞ্চুরি পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি (২৫টি) জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন অস্ট্রেলীয়রা। ১৩ জোড়া সেঞ্চুরি নিয়ে দুইয়ে ইংল্যান্ড। আবার সর্বোচ্চ ১৬ বার জোড়া সেঞ্চুরি হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ বার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। টেস্টের নবীনতম দুই দেশ আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদেরই কোনো জোড়া সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ ৮ বার জোড়া সেঞ্চুরি দেখেছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ওভাল।
এদিকে ৩৬ টেস্টের ক্যারিয়ার এটা শান্তর সপ্তম সেঞ্চুরি। এই সাত সেঞ্চুরির তিনটিই করেছেন শ্রীলংকার বিপক্ষে। ২০২১ সালে পাল্লেকেলে টেস্টে করেছিলেন ১৬৩ রান। এছাড়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি এবং নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, বৃষ্টি না এলে কি আগেভাগে ডিক্লেয়ার করতেন? জবাবে শান্ত বলেছেন, ‘হ্যাঁ, কিন্তু হঠাৎই বৃষ্টি এল এবং আমাদের পরিকল্পনা পাল্টে গেল। এসবের ওপর তো আমাদের হাত নেই।’ বুধবার কলম্বোয় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৯৫ ও ২৮৫/৬ ডি. (শান্ত ১২৫*, সাদমান ৭৬, মুশফিক ৪৯; থারিন্দু ৩/১০২)। শ্রীলংকা: ৪৮৫ ও ৭২/৪ (নিশাঙ্কা ২৪; তাইজুল ৩/২৩, নাঈম ১/২৯)। ফল: ড্র। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত (বাংলাদেশ)। সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ










