সেরেনা উইলিয়ামসের টেনিসে আসার গল্প তার জন্মেরও আগে শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে তার বাবা রিচার্ড উইলিয়ামস টিভিতে মেয়েদের টেনিস খেলা দেখেছিলেন। ওই সময় রোমানিয়ান খেলোয়াড় ভার্জিনিয়া রুজিসিকে ৪০ হাজার ডলার প্রাইজমানি জিততে দেখেন তিনি। যা তার বার্ষিক বেতনের চেয়েও প্রায় ৪ হাজার ডলার বেশি। এটি তাকে বিস্মিত করে দেয়।

রিচার্ডের তিন কন্যা। তাদের টেনিস শেখাননি। ভার্জিনিয়ার খেলা এবং পুরস্কার দেখে স্ত্রী ওরাসিন প্রাইসকে রিচার্ড বলেন, আমাদের আরো দুটি মেয়ে থাকতে হবে এবং তাদের টেনিস খেলোয়াড় বানাতে হবে। রিচার্ড স্মৃতিচারণ করে বলেন, তখন আমার বয়স ছিল ৩৭ বছর। কিন্তু টেনিস সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তবে আমি ভেবেছিলাম আমরা তাদের টেনিস শেখাতে পারি এবং তারা ইউএস ওপেন জিততে পারে।

১৯৮০ সালের জুনে ভেনাস উইলিয়ামসের জন্ম হয়। ১৫ মাসের ব্যবধানে সেরেনারও আগমন ঘটে পৃথিবীতে। ১৯৯৯ সালে সেরেনাই তাদের প্রথম ইউএস ওপেন এনে দেন। সেটাই ছিল তার প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়। পরবর্তী সময়ে টেনিসে রূপকথা লিখে একের পর এক রেকর্ড গড়েন দুই বোন ভেনাস ও সেরেনা। এই দুই কন্যাই রিচার্ড-প্রাইসকে এনে দেন ৩০টি সিঙ্গেল গ্র্যান্ড স্লাম। ডাবলস তো আছেই। ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতে সেরেনা নারীদের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী টেনিস তারকা। একক ছাড়াও ভেনাসের সঙ্গে জুটি বেঁধে ডাবলসে ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন সেরেনা। এছাড়া তিনি সিঙ্গেল ও ডাবলসে চারবার অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতেন।

১৯৮১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্য পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঞ্চলের সাগিনাও শহরে জন্মগ্রহণ করেন সেরেনা। প্রাইসের আগের ঘরে তিন মেয়ে। সর্বশেষ রিচার্ডের ঘরে দুজন। এই পাঁচ মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সেরেনা। একদিন তাদের এ মেয়েই বিশ্বসেরা হলেন। বড় বোন ভেনাসও বিখ্যাত টেনিস খেলোয়াড়, যিনি সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন। তবে অর্জন ও খ্যাতিতে বড় বোনকেও ছাড়িয়ে যান সেরেনা।

তিনবার বিয়ে করেছেন রিচার্ড। তিন স্ত্রীর গর্ভে জন্ম আট সন্তানের, আর বিয়ের বাইরেও তিনি এক পুত্রসন্তানের জনক। অস্থিতিশীল জীবনেও তিনি ভেনাস ও সেরেনাকে লক্ষ্যে পৌঁছতে ছিলেন অবিচল। চার বছর বয়স থেকেই টেনিস খেলা শুরু করেন সেরেনা। মা ছিলেন তাদের অফিশিয়াল কোচ। রিচার্ড উইলিয়ামস ছিলেন পরামর্শদাতা। দুজনের চেষ্টায় দুই কৃষ্ণকলি টেনিসে ইতিহাস তৈরি করেছেন।

৪২ বছর বয়সী ভেনাস সোনালি সময় পেছনে ফেলে এলেও এখনো খেলে যাচ্ছেন। সেরেনাও দিয়েছেন বিদায়ের ঘোষণা। আজ সোমবার শুরু হচ্ছে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম ইউএস ওপেন। এ টুর্নামেন্ট খেলেই বিদায় নেবেন তিনি।

চোটের জন্য গত কয়েক বছরই কোর্টে নিয়মিত নন ৪০ বছর বয়সী তারকা। ফর্মও হারিয়েছেন। সম্প্রতি আমেরিকার ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি রেখা টেনে দেয়ার কথা জানান তিনি। তবে সেরেনার সামনে আরো একবার সুযোগ এসেছে নারী এককে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী অস্ট্রেলিয়ান টেনিস কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টের রেকর্ড ছোঁয়ার। কোর্ট ২৪ বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেন। কিন্তু সেটি কি সম্ভব হবে?

কোর্ট থেকে বিদায় নিয়ে পরিবার ও ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিতে চান সেরেনা। কয়েক বছর আগে সেরেনা ভেঞ্চার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়েন তিনি। দ্য ভেনাস অ্যান্ড সেরেনা উইলিয়ামস নামে একটি টেনিস একাডেমিও আছে তাদের। ক্যারিয়ারে ৪৪ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছেন সেরেনা।

এদিকে কভিড-১৯ টিকা না নেয়ায় ইউএস ওপেন খেলা হচ্ছে না নোভাক জোকোভিচের, যিনি একই কারণে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলতে পারেননি। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় সরে গেছেন জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কেরবার। নিরপেক্ষ পতাকার অধীনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন রাশিয়া ও বেলারুশের প্রতিযোগীরা।

এবারের ইউএস ওপেনের প্রাইজমানি ৬০ কোটি ১ লাখ ২ হাজার ডলার, যা গতবারের চেয়ে প্রায় আড়াই কোটি ডলার বেশি।