উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার সেফেরিন বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব তিনি ইউরোপিয়ান ফুটবলে বেতনসীমা নির্ধারণের বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে চান। স্লোভেনিয়ান এ আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, গুটিকয়েক ক্লাব বছরের পর বছর কোনো ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে না পড়েই সব ট্রফি জিতে নিয়ে যাচ্ছে। তাই ২০২৪ সাল থেকে ফিফা এমন নিয়ম করবে, যাতে কোনো দল তাদের আয়ের ৭০ শতাংশের বেশি বেতন ও দলবদলের পেছনে খরচ করতে পারবে না। 

বেতনের পেছনে বিশ্বে যে কয়টি ক্লাব বেশি খরচ করে তাদের মধ্যে অন্যতম ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আয়ই এখানে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। এ লিগের আয়ের ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো লিগ। তেমনি স্পেনে লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ, ফ্রান্সে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের মতো ক্লাব খরচে আধিপত্য করে। সেফেরিন এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন যে বর্তমান আর্থিক নীতিমালা দিয়ে গুটিকয়েক ক্লাবের আধিপত্য থামানো সম্ভব নয়। এ কারণে তাদের থামাতে নতুন নীতিমালা নিয়ে আসার পরিকল্পনা তার সংস্থার। 

মেন ইন ব্লেজার্সকে সেফেরিন বলেন, ‘‌ভবিষ্যতে বেতনসীমা নিয়ে আমাদের গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে। বাজেট যদি আকাশছোঁয়া হয় তবে সেটা আমাদের প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করবে। এটা মালিকের সমস্যা নয়, এটা প্রতিযোগিতার গুরুত্ব নষ্ট করে, কারণ শীর্ষ পাঁচটি ক্লাবই যদি সব সময় জিততে থাকে, তবে তার কোনো মানে নেই।’

বেতনসীমা নির্ধারণ করার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ৫৯ বছর বয়সী সেফেরিন। তিনি বলেন, ‘‌বিস্ময়কর হলেও সত্য, প্রত্যেকেই রাজি। বড় ক্লাব, ছোট ক্লাব, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ক্লাব, বিলিয়নেয়ার মালিকানাধীন ক্লাব প্রত্যেকেই রাজি। আমি যতটা দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়নের পক্ষে। আমি সবে এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। আমি মনে করি, এতেই সমাধান নিহিত।’

এদিকে, প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানিয়েছে, উয়েফার বেতনসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তে রেগে যেতে পারে খেলোয়াড়রা। পিএফএর প্রধান নির্বাহী মাহেতা মোলাঙ্গো বলেছেন, ‘‌এটাই সমাধান নয়। এ আলোচনায় খেলোয়াড়দেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় স্টেকহোল্ডার হিসেবে রাখতে হবে। খেলোয়াড়রা যখন শুনবে প্রত্যেকেই এ বিষয়টিতে রাজি, আমি নিশ্চিত, তারা ক্ষেপে যাবে। আমি তো জানি, সঠিক যোগাযোগ কিংবা আলোচনা ছাড়াই খেলোয়াড়দের নিয়মিতভাবে আরো অধিক ম্যাচ খেলার কথা বলা হয়। নতুন নতুন টুর্নামেন্ট আসছে, বর্তমান টুর্নামেন্টগুলোর ব্যাপ্তিও বাড়ছে। এসব টুর্নামেন্ট ফুটবলের মধ্য থেকেই কিন্তু আয় বাড়াচ্ছে। তাদের দিয়ে আপনি আয় করে নিচ্ছেন, তাদের বেতনসীমা নির্ধারণ করাটা কোনো সমাধান হতে পারে না।’

পিএফএ হলো ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পেশাদার ফুটবলারদের ট্রেড ইউনিয়ন, যার সদস্য পাঁচ হাজারেরও বেশি। 

বিবিসি, ম্যানচেস্টার ইভেনিং।