ড্যানিয়েল মুনোজের একমাত্র গোলে ডিআর কঙ্গোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে টরন্টোয় আন্তে বুদিমিরের গোলে পানামাকে একই ব্যবধানে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রেখেছে ক্রোয়েশিয়া। টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে পানামার।
গ্রুপ ‘কে’-তে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কলম্বিয়ার হাতে। উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা দক্ষিণ আমেরিকার দলটি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষেও আক্রমণের পর আক্রমণ চালায়। কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্ট এবং প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা।
ম্যাচের ১১ মিনিটে শক্তিশালী শটে এমপাসিকে পরীক্ষা নেন হামেস রদ্রিগেস। বিশ্বকাপে নিজের দশম ম্যাচ খেলতে নামা এ অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কলম্বিয়ার হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করেন। এরপর জন আরিয়াস ও লুইস দিয়াজও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও এমপাসি বারবার রুখে দেন।
প্রথমার্ধেই ১৫টি শট নেয় কলম্বিয়া, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। মাঠের খেলায় আধিপত্য থাকলেও গোল না পাওয়ায় হতাশা বাড়ছিল তাদের। অন্যদিকে পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করা ডিআর কঙ্গো মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে ওঠে। এদো কায়েম্বে, সেদ্রিক বাকাম্বু ও ইয়োয়ানে উইসা কয়েকবার হুমকি তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। লুইস দিয়াজের শট ঠেকিয়ে আবারো দলকে বাঁচান এমপাসি। তবে ৭৬ মিনিটে শেষ পর্যন্ত ভাঙে প্রতিরোধ। ডান দিক থেকে পেনাল্টি এলাকার ভেতরে বল পেয়ে দারুণ ফিনিশে গোল করেন ড্যানিয়েল মুনোজ। সেটিই ম্যাচের একমাত্র গোল হয়ে থাকে। পরে দিয়াজ আরেকবার জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
এ জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। অন্যদিকে ১ পয়েন্ট নিয়ে থাকা ডিআর কঙ্গোকে শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জিততেই হবে।
এর আগে গ্রুপ ‘এল’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন বিরতির পর মাঠে নামা আন্তে বুদিমির। ৫৪ মিনিটে যোসিপ স্তানিসিচ ও মার্কো পাসালিচের চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে গোলটি করেন ৩৪ বছর বয়সী এ ফরওয়ার্ড। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল।
গোলের পর ম্যাচে গতি বাড়ে। ৩ মিনিট পর লুকা মদরিচের লম্বা পাস থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন পাসালিচ। কিন্তু পানামার গোলরক্ষক অরল্যান্ডো মস্কেরা দারুণভাবে তা রুখে দেন।
শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে ঘানাকে হারাতে পারলে সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করবে ২০১৮ সালের রানার্সআপরা।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে এখনো কোনো পয়েন্টের দেখা পেল না পানামা। ২০১৮ ও ২০২৬ মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলেও জয় বা ড্র কোনোটিই পায়নি মধ্য আমেরিকার দেশটি। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। গ্রুপটির অন্য ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ঘানা গোলশূন্য ড্র করায় উভয় দলের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। ফলে শেষ ম্যাচের আগে গ্রুপ ‘এল’-এ নকআউটের লড়াই জমে উঠেছে আরো বেশি।









