লা লিগায় শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরো মজবুত করল বার্সেলোনা। মঙ্গলবার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয়ে শুধু তিন পয়েন্ট নয়, দলের আক্রমণভাগে নতুন করে নিজেদের পরিচয়ও তুলে ধরল হান্সি ফ্লিকের দল। আর এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দলের রূপ বদলে দেয়া ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া।
একসময় শুধুই উইঙ্গার হিসেবে পরিচিত রাফিনিয়া এখন বার্সেলোনার আক্রমণের হৃদস্পন্দন। লামিনে ইয়ামাল ডানদিকে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নেয়ার পর ফ্লিক রাফিনিয়াকে এগিয়ে রেখেছেন কেন্দ্রীয় আক্রমণাত্মক ভূমিকায়—যা তার খেলায় এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। আক্রমণ সাজানো, প্রেসিং শুরু করা, ডিফেন্সে পরিশ্রম—সবই এখন তার দায়িত্বের অংশ। এই বদলই তাকে পরিণত করেছে বার্সেলোনার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্লেমেকারে।
ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বার্সেলোনার জন্য সহজ ছিল না। ১৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল করে অ্যাতলেটিকোকে এগিয়ে দেন আলেক্স বায়েনা। তবে মাত্র সাত মিনিট পরই পেদ্রির দুর্দান্ত থ্রু–পাস থেকে নিয়ার পোস্টে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশে সমতা ফেরান রাফিনিয়া। গোলটি শুধু বার্সাকে ম্যাচে ফেরায়নি, বদলে দিয়েছে ম্যাচের গতি।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার ধারাবাহিক চাপ অবশেষে ফল দেয় ৬৫তম মিনিটে। বক্সে আলগা বল পেয়ে নিচু শটে গোল করেন দানি অলমো। শেষদিকে আরেক পাল্টা আক্রমণ থেকে ফেরান তোরেসের গোল নিশ্চিত করে বড় ব্যবধানের জয়। ৩–১ গোলের এই সাফল্যে আগস্টের পর লিগে প্রথমবার হারের স্বাদ পেল অ্যাতলেটিকো, যারা ম্যাচের আগে টানা সাত জয়ে ছিল দুর্দান্ত ছন্দে।
জয়ের ফলে বার্সেলোনার সংগ্রহ এখন ৩৭ পয়েন্ট, তাদের পেছনে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের থেকে চার পয়েন্ট এগিয়ে। রিয়াল বুধবার আতলেতিক বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবে। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাতলেটিকো আছে চতুর্থ স্থানে।
রাফিনিয়ার এই ভূমিকায় উত্থান শুধু বার্সেলোনার অভ্যন্তরীণ কাঠামোই পাল্টাচ্ছে না, প্রভাব ফেলছে আক্রমণ থেকে ডিফেন্স— পুরো খেলাতেই। লা লিগা এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জুড়ে মাত্র ১১ ম্যাচে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে এরইমধ্যে ছয়টি গোল এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন রাফিনিয়া, যা ইউরোপের অন্য যেকোনো সেরা প্লেমেকারের সমতুল্য। ম্যাচ শেষে ফ্লিক তার প্রশংসায় বলেন, ‘সে পরিপূর্ণ খেলোয়াড়; প্রেস শুরু করে, রক্ষণে কাজ করে, আবার কঠিন মুহূর্তে গোল বা অ্যাসিস্ট দিতেও পারে।‘
উইং থেকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আসতে প্রথমে অনাগ্রহ থাকলেও নিজেকে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন রাফিনিয়া, এবং এই অভিযোজন এখন তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। বার্সেলোনার এই জয়েও সেটাই প্রমাণ হলো।










