এশিয়া কাপে আগামীকাল মঙ্গলবার উজ্জীবিত আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে মনস্তাত্ত্বিকভাবে বেশ এগিয়ে থাকবে আফগানরা। এমনিতে টি২০ রেকর্ডটা তাদেরই পক্ষে, এর সঙ্গে যোগ হবে সাম্প্রতিক ফর্ম। এই ফরম্যাটে দুর্বল রেকর্ড নিয়ে এশিয়া কাপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে দুর্বার এক আফগানিস্তান, যারা সদ্যই শ্রীলংকাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপে শুভসূচনা করেছে।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম টি২০ মোকাবেলা আফগানিস্তানের। সেবার মিরপুরে টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচে সাকিব ৮ রানে তিন উইকেট তুলে নিলে ৭২ রানে অলআউট হয়ে যায় নবীন দল আফগানিস্তান। ওই ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
এরপর ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটে আফগান কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়। পরের সাত ম্যাচের মধ্যে তারা পাঁচটিতেই বাংলাদেশকে হারানোর কৃতিত্ব দেখায়। সব মিলে, আট ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জয় নিয়ে এগিয়ে রয়েছে রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীদের দল। সর্বশেষ এ বছর মার্চে মিরপুরে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১-এ ড্র হয়। শেষ ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় আফগানরা।
২০১৮ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া আফগানিস্তান পাঁচদিনের ক্রিকেটেও বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে খেলা একমাত্র টেস্টটিতে তারা ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায়।
তিন ফরম্যাটের মধ্যে বাংলাদেশ শুধু ওয়ানডেতেই এগিয়ে। ১১ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশের জয় সাতটি, আর আফগানদের চারটি।
পাঁচ বছরে আফগানিস্তান টেস্ট খেলেছে মাত্র ছয়টি। দীর্ঘ সংস্করণে খেলার মতো দল গঠন, অর্থনৈতিক সংকট এবং অবকাঠামোসহ অনেক কিছুই গোছাতে পারেনি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। ওয়ানডে সংস্করণেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে খুব বেশি সিরিজ খেলা হয় না আফগানদের। তবে টি২০ সিরিজ নিয়মিতই খেলছে। তাদের রেকর্ডও ভালো।
আফগান ব্রিগেডে বেশ কিছু বিগ হিটার রয়েছে, যা টি২০তে বেশ কার্যকর হয়। মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, হজরতউল্লাহ জাজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজসহ আরো কিছু ক্রিকেটার আইপিএল, বিগ ব্যাশ, পিএসএলসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি২০ লিগে খেলে থাকেন বলে এই ফরম্যাটে ভয়ংকর এক দল গড়ে উঠেছে আফগানিস্তানের।
শক্তি, সামর্থ্য, বৈচিত্র্যের দিক থেকে কাল বোলিংয়ে এগিয়েই থাকবে আফগানিস্তানই। রশিদ, মুজিব, নবীর মতো স্পিনার আছেন। সঙ্গে দুই তরুণ পেসার ফজলহক ফারুকি ও নবীন-উল-হক।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পর লংকান অধিনায়ক দাসুন শানাকার কথায়ও এটি ফুটে ওঠে। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম শক্তিশালী। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতে তারা প্রতিযোগিতার সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন।
তবে আফগানিস্তানের ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবে কি বাংলাদেশ? রোববার দুবাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বললেন, আফগান বোলিং আক্রমণ সামাল দেয়ার সামর্থ্য
ভালোভাবেই আছে আমাদের। একটা জিনিস দেখেন, ওদের বোলিং আক্রমণ খুবই ভালো। আমাদের ব্যাটসম্যানরাও অনেক ভালো। শেষ কয়েক দিন আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি ওদের বোলারদের নিয়ে। ওদের যে কয়জন বোলার আছে, তাদের কীভাবে খেলতে হবে, এটা নিয়ে সবাই পরিষ্কার। সে অনুযায়ী আমরা অনুশীলন করেছি। দেশেও করেছি, এখানেও করেছি। এখন স্রেফ বাস্তবায়ন করতে হবে মাঠে। মাঠে খেলতে হবে, প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা এর আগেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলেছি। ভালো ক্রিকেট খেলেছি, জিতেছি। সব মিলিয়ে এমন না যে, আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। হ্যাঁ, ওদের বোলিং লাইনআপ অনেক শক্তিশালী। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানরাও অনেক অভিজ্ঞ ও ভালো কাজ করছে। সবাই এখন ভালো টাচে আছে।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামীকাল রাত ৮টায় ম্যাচটি শুরু হবে।









