পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া। অর্থনৈতিক দৈন্যদশাগ্রস্ত দেশটি কখনো ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কিন্তু এ দেশেরই একজন কিংবদন্তি ফুটবলার ছিলেন জর্জ উইয়াহ। যিনি বর্তমানে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট। পিতা-মাতার রাখা নাম জর্জ টাওলন মান্নেহ ওপ্পং ওসমান উইয়াহর চেয়ে কিং জর্জ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। বিশ্বের একমাত্র ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার তিনি, যিনি পরবর্তী সময়ে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এবং যার দেশ কখনো ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি।

১৯৯৫ সালে ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন তিনি। এখন পর্যন্ত এ দুটি পুরস্কার জেতা একমাত্র আফ্রিকান ফুটবলার তিনি। খেলোয়াড় ও রাজনৈতিক জীবনে খ্যাতি কুড়ালেও লাইবেরিয়ার ফুটবলের জন্য প্রেসিডেন্ট উইয়াহ তেমন কিছুই করতে পারেননি। যার ফল, বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে লাইবেরিয়ার অবস্থান ১৫০ নম্বরে। অথচ আফ্রিকারই দেশ সেনেগাল ১৮ আর মরক্কো ২২ নম্বরে রয়েছে।

ক্যারিয়ার শেষে কোনো দলের ম্যানেজার হতে চাননি। তিনি চাইলেন দুটি গৃহযুদ্ধে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া লাইবেরিয়ার মানুষের সেবা করতে। ২০০৫ সালে গঠন করলেন ‘কংগ্রেস ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জেস’ নামে একটি রাজনৈতিক দল। ওই বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলেন। কিন্তু বিরোধী দল উইয়াহর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালত তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা দেন। সেবার তিনি হেরে যান জনসন শিরলিফের কাছে। ছয় বছর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও হার।

পরে লন্ডনের পাকউড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের ওপর বিএ ডিগ্রি ও মায়ামির দেভরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৪ সালে সিনেট নির্বাচনে তার কাছে হেরে যান তত্কালীন প্রেসিডেন্টের পুত্র রবার্ট শিরলিফ। ২০১৭ সালে জোসেফ বোয়াকাইকে হারিয়ে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন উইয়াহ!

২০১৮ সালে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ছয় বছরের জন্য শপথ নেন উইয়াহ। এরপর দেশটির ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করার পরও এই কিংবদন্তি দেশটির ফুটবলে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি। আর এটি পরবর্তী নির্বাচনে তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে তার সমর্থকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ফুটবলের উন্নতি হচ্ছে না। এছাড়া বিনিয়োগের অভাব, উন্নয়ন এবং অবকাঠামো তৈরির জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তা মিলছে না।

লাইবেরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এলএফএ) কারিগরি পরিচালক হেনরি ব্রাউন বলেছেন, অন্যান্য খাতের চেয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বেশি গুরুত্ব দেয় সরকার। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে প্রতিটি সরকার ফুটবলের জন্য অর্থ দিয়েছিল, যা এখন হয় না।