ইন্টার মায়ামির সঙ্গে আড়াই বছরের চুক্তি হয়েছে লিওনেল মেসির। পরে আরো এক বছর চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে তার। এ চুক্তিতে বহু পক্ষ জড়িত। মেজর লিগ সকার, ইন্টার মায়ামি, অ্যাপল, এডিডাস ও মেসির মধ্যে হয়েছে চুক্তিটা। এখানে মেসি মূল বেতন ছাড়াও পাবেন বোনাস। আমেরিকান বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার মূল বেতন হবে ১২৫ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। আর তিনি কত বোনাস পাবেন, সেটি এডিডাস ও অ্যাপল কত আয় করে, তার ওপর নির্ভর করে দেয়া হবে।

রোনালদোর সঙ্গে মেসির বেতনের তুলনা

পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গত জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে নাম লেখান। ক্লাবটিতে খেলে তিনি বছরে পাচ্ছেন ২২১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৭৭ মিলিয়ন ডলার তিনি পাচ্ছেন মূল বেতন হিসেবে। বাকিটা আসরে ছবিস্বত্ব ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে। সৌদি আরব ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায়। আয়োজক স্বত্ব পাওয়ার মিশনে প্রচারণায় সাহায্য করার চুক্তি থেকে রোনালদোকে দেয়া হবে আরো প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। সৌদির আল হিলালে গেলে মেসি বছরে পেতেন ৪০০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু এখন তিনি রোনালদোর চেয়ে অনেক অনেক কম পাবেন। 

ইন্টার মায়ামিতে নাম লেখানোর পর মেসি বলেছেন, অর্থের কারণে হলে তিনি সৌদি আরবেই যেতেন। উল্লেখ্য, ইনসাইডারের তথ্যমতে, মেসি এখন ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক। 

লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে কত পেতেন বেকহ্যাম?

২০০৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে নাম লেখান ডেভিড বেকহ্যাম। পেলের মতোই তিনি মেজর লিগ সকারের প্রোফাইল জাগিয়ে তোলেন, খ্যাতি পায় লিগটি। ক্লাবটির সঙ্গে তার পাঁচ বছরের চুক্তি হয়েছিল, তিনি এ সময় পেয়েছেন ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। মেসির মতো বেকহ্যামকেও ক্লাবের ও লিগের আয়ের ভাগ দেয়ার চুক্তি হয়েছিল। সব মিলিয়ে তিনি ২৫৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলেন বলে জানা যায়। 

সে সময় বেকহ্যাম এ শর্তও দিয়েছিলেন, তিনি অবসর গ্রহণের পর মাত্র ২৫ মিলিয়ন ডলারে মেজর লিগ সকারের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনতে পারবেন। সেই মতে, তিনি পরবর্তী সময়ে ইন্টার মায়ামির যুগ্ম মালিকানায় নাম লেখান, যে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মূল্যমান অন্তত ৫৮০ মিলিয়ন ডলার!

ইন্টার মায়ামির মালিক কারা?

ইন্টার মায়ামির মালিক হিসেবে তিনজনের নাম নিবন্ধন করা। এরা হলেন ডেভিড বেকহ্যাম, জর্জ ম্যাস ও তার ভাই হোসে ম্যাস। এই ম্যাস ভ্রাতৃদ্বয় আবার ইউএস ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোভাইডার কোম্পানি ম্যাস-টেকের চেয়ারম্যান ও সিইও হিসেবে কর্মরত।