বহুল আলোচিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান গ্রুপ পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলংকার ক্যান্ডিতে। গত বুধবার এশিয়া কাপের সূচি ঘোষণা করে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। পূর্বনির্ধারিত সূচি থেকে একদিন এগিয়ে এনে ৩০ আগস্ট মুলতানে পাকিস্তান-নেপাল ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের এশিয়ান কাপ ক্রিকেট।
রাজনৈতিকভাবে টানাপড়েন থাকায় ভারত ও পাকিস্তান ২০১৩ সালের পর একে অপরের মাঠে খেলেনি। এ সময় দেশ দুটি শুধু বিশ্বকাপের ম্যাচ ও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলেছে। এশিয়া কাপেও পাকিস্তানে খেলছে না ভারত।
এশিয়া কাপে দুই আয়োজক পাকিস্তান ও শ্রীলংকার পাশাপাশি অংশ নেবে ভারত, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও নেপাল। ছয়টি দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে। ‘এ’ গ্রুপে পাকিস্তান, ভারত ও নেপাল এবং ‘বি’ গ্রুপে শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল উঠবে সুপার ৪ পর্বে।
এবারের
এশিয়া কাপের মূল আয়োজক পাকিস্তান। তবে দেশটিতে ভারত খেলতে অনীহা প্রকাশ করায় জটিলতা তৈরি হয়। তখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ‘হাইব্রিড’ মডেলের
প্রস্তাব দেয়া হয়। তখন এ-ও বলা
হয়, ভারত যদি এশিয়া কাপ পাকিস্তানে না খেলে নিরপেক্ষ
ভেন্যুতে খেলে, তবে পাকিস্তানও অক্টোবর-নভেম্বরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে খেলবে না। কিন্তু পাকিস্তানের এ দাবি ধোপে
টেকেনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সেক্রেটারি ও এসিসির প্রেসিডেন্ট
জয় শাহ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মাঠে খেলতে কিংবা ‘হাইব্রিড’ মডেলের
প্রস্তাবও ভারত মানেনি।
আবার পাকিস্তান বিশ্বকাপের ম্যাচ গুজরাটের আহমেদাবাদে খেলতে চায়নি। সেই দাবিও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। আহমেদাবাদেই গ্রুপ পর্বে ভারতের মুখোমুখি হবে বাবর আজমের দল।
সূচি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটা নিশ্চিত করা হয়েছে, ভারত তাদের সবগুলো ম্যাচই খেলবে শ্রীলংকায়। প্রথম রাউন্ডে ফল যা-ই হোক না কেন, পাকিস্তান এ-ওয়ান এবং ভারত এ-টু অবস্থানে থাকবে। আবার শ্রীলংকা বি-ওয়ান ও বাংলাদেশ বি-টু হবে। আর যদি নেপাল ও আফগানিস্তান সুপার ৪ পর্বে উত্তীর্ণ হয় তখন তারা ভারত কিংবা পাকিস্তান ও শ্রীলংকা কিংবা বাংলাদেশের জায়গা নেবে। পাকিস্তান ও ভারত উভয় দল সুপার ৪ পর্বে উঠলে ১০ সেপ্টেম্বর ক্যান্ডিতে ফের মুখোমুখি হবে। সুপার ৪ পর্বের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লাহোরে। এরপর টুর্নামেন্টের বাকি অংশ অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলংকায়।
ভারত-পাকিস্তান টানাপড়েনের কারণেই এশিয়া কাপে পাকিস্তান নামেমাত্র আয়োজক। ১৩টি ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র চারটি আয়োজন করবে, বাকি নয়টি ম্যাচ আয়োজন করবে শ্রীলকা।










