বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ট্যালেন্ট হান্ট শো আমেরিকা’স গট ট্যালেন্ট। এবারের আসরে সেরা হয়েছেন থাইল্যান্ডের নেনে রয়্যাল। তিনি রক গানের শিল্পী। গত মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় রিয়ালিটি শোটির ফাইনাল। সেখানে নেনে মার্কিন রক জুটি দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের জনপ্রিয় গান সেভেন নেশন আর্মি পরিবেশন করেন। তার এ পরিবেশনা পেছনে ফেলে দেয় আরো নয়জন ফাইনালিস্টকে। নেনে রয়্যাল নামে পরিচিত হলেও ১৬ বছর বয়সী এ শিল্পীর নাম রাত্তিকান আমলোয়। ২০০৬ সালে শুরু হয়ে ২১ সিজন পার করা আমেরিকা’স গট ট্যালেন্ট শোর তিনিই প্রথম থাই বিজয়ী।
নেনের যাত্রা বেশ আগ্রহজাগানিয়া। তার জন্ম থাইল্যান্ডে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। নিজেকে তিনি ফুকেটের একজন গিটারিস্ট ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচয় দেন। ফুকেটের কাজনকিয়েট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলেও পড়াশোনা করেন নেনে।
সংগীতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেননি। একাই শিখেছেন গিটার। সাত বছর বয়সে গিটারে হাতেখড়ি। এরপর অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও দেখে গিটার বাজানো শিখেছেন। গিটারের প্রতি আগ্রহই তাকে শিখতে সাহায্য করেছে। বছরের পর বছর নিরলস অনুশীলন করেছেন। এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে তার নিজস্ব এক সংগীতধারা।
নেনের গিটারে ওঠে আবেগময় সুর। সোলো পারফরম্যান্সে তিনি অসাধারণ। এ বিষয়গুলো তাকে আলাদা করে তোলে। নিয়মিত তিনি পারফর্ম করতেন থাইল্যান্ডে। সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন কেন্দ্রের জন্য পরিচিত তার নিজ শহর ফুকেট। সেখানে নেনে নিয়মিত নাকা উইকেন্ড মার্কেটে গান গেয়ে অর্থ উপার্জন করতেন।
আমেরিকা’স গট ট্যালেন্টে অংশ নেয়ার আগেই তিনি থাইল্যান্ডে পরিচিত ছিলেন। সেখানে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সংগীত প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছেন নেনে। দেশটির মর্যাদাপূর্ণ ‘ওভারড্রাইভ গিটার কনটেস্ট’-এ রানারআপ হন। এছাড়া কিং পাওয়ার ব্যান্ড কম্পিটিশনে ‘আউটস্ট্যান্ডিং প্লেয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান সুপার টেনে অংশ নেয়া তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জন। এর মধ্য দিয়ে তিনি থাইল্যান্ডের তরুণ শিল্পীদের আইকন হয়ে উঠেছিলেন।
আমেরিকা’স গট ট্যালেন্ট জেতার পর থাইল্যান্ডে শুরু হয়েছে উৎসব। নাকা উইকেন্ড মার্কেটের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। পোস্টে লেখা হয়, ‘বিশ্বের অন্যতম বড় মঞ্চে তোমাকে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখে নাকা মার্কেটের সবাই ভীষণ গর্বিত। তোমার প্রতিভা, হৃদয় ও সাহস অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। এ জয় সুন্দরভাবে মনে করিয়ে দেয়—কেউ যখন নিজের স্বপ্ন পূরণে সত্যিকার অর্থে সবটুকু উজাড় করে দেয়, তখন কী সম্ভব হতে পারে।’
তার স্কুলও এ জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে। স্কুলের ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘আমরা তোমাকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত।’
ফুকেটের ৪৩ বছর বয়সী ট্যুর গাইড পিয়ারাত না সংখলা বিবিসিকে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি নেনেকে গান পরিবেশন করতে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘সে ভীষণ মিষ্টি। তার জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। সে এতটা পথ পেরিয়ে এসেছে, এটা অবিশ্বাস্য। আমি তাকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত।’
এখন একজন রেকর্ডিং আর্টিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন নেনে। আধুনিক রক, অলটারনেটিভ পপ ও মেলোডিক মেটালের প্রভাব মিলিয়ে নিজস্ব গান লিখছেন এবং রেকর্ড করছেন তিনি।










