এক্সট্র্যাকশনের শেষে ধারণা করা হয়েছিল টাইলার রেক (ক্রিস হেমসওয়ার্থ) মারা গেছেন। তবে দুবাইয়ের এক হাসপাতালে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এক্সট্র্যাকশন টুতে দর্শকদের চমকে দিয়ে ফিনিক্স পাখির মতো টাইলার ফিরে আসেন। এক্সট্র্যাকশনে দেখানো হয়েছিল, এক বাংলাদেশী একজন ভারতীয়কে জিম্মি করে রেখেছে। তাকে উদ্ধারের অভিযানে নেমেছিল সে। হাসপাতাল থেকে টাইলার নিজের মার্সেনারি জীবন থেকে অবসর নিয়ে অস্ট্রিয়ায় নিভৃতে জীবন কাটাচ্ছিলেন।
কিন্তু টাইলারের জীবন তো নিস্তরঙ্গ থাকার নয়। এক্সট্র্যাকশন টু-তে তাকে জড়াতে হয়েছে নতুন মিশনে। এবার তাকে দায়িত্ব দিয়েছে রহস্যময়, অচেনা এক মানুষ। তার সাবেক স্ত্রীর বোন দুই সন্তানসহ জর্জিয়ার এক কারাগারে বন্দি। তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করতে হবে। নতুন মিশন নিয়ে রওনা হলো সে।
এক্সট্র্যাকশনের দর্শক ভালো করেই জানেন, হেমসওয়ার্থ বা টাইলার একজন ভাড়াটে সৈনিক। এক্সট্র্যাকশন টুতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। টাইলারের চরিত্রে আছেন ক্রিস হেমসওয়ার্থই। ২০২১-২২-এর শীতকালে চেক রিপাবলিকে এক্সট্র্যাকশন টুয়ের শুটিং করা হয়। সিনেমাটি ১৬ জুন থেকে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হচ্ছে। এর দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্য মুখ হা করে দেখা ছাড়া কোনো গতি নেই। এ কারণে এক্সট্র্যাকশন টু চলতি বছরে অ্যাকশন সিনেমাপ্রেমীদের জন্য ‘দেখতেই হবে’ টাইপের সিনেমায় পরিণত হয়েছে। পরিচালনায় আছে যথারীতি স্যাম হারগ্রেভ। এর আগে তিনি স্টান্ট ডিরেক্টর ছিলেন। এ অভিজ্ঞতা তিনি এক্সট্র্যাকশন টুতে চমৎকারভাবে কাজে লাগিয়েছেন। এক্সট্রাকশনের নতুন অধ্যায়ের চিত্রনাট্য আগেরটির চেয়ে আরো জমাট হয়েছে। পর্দায় তা আরো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এক্সট্র্যাকশন টুতে এর চেয়ে অনেক বেশি সাহসী হয়ে উঠেছেন পরিচালক।
এক্সট্র্যাকশন টুর দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্য শুরু হয় সিনেমার ২১ মিনিট থেকে। একবারে ধারাবাহিক দুর্ধর্ষ অ্যাকশন। রেক কারাগারে ঢুকে ডেভিডের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে, কারাগারের মধ্যে দাঙ্গা তৈরি করে প্রথমে একটি গাড়িতে, তারপর ট্রেনে করে পালিয়ে যায়। তাকে ধাওয়া করে একটি হেলিকপ্টার। পুরো দৃশ্যটি শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর ।
প্রথম সিনেমার মতো এক্সট্র্যাকশন টু কেবল টাইলার রেকের একক প্রদর্শনী নয়। আর তা সিনেমাটিতে নতুন আবেদন তৈরি করেছে। প্রায় সম্পূর্ণ সিনেমায় টাইলারের সহযোগী নিক ও ইয়াজ তার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে গেছেন। বিশেষত গোলশিফতেহ ফারাহানি (নিক) একজন শক্তিশালী অ্যাকশন স্টার হিসেবে তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। সিনেমায় বেশকিছু ক্লোজ-কোয়ার্টার মার্শাল আর্টের দৃশ্যে তাকে দেখা গেছে।
সিনেমায় আছে ইদ্রিস এলবার ক্যামিও। তিনিই এ পর্বের অভিযানের জন্য টাইলারকে রিক্রুট করেন। দ্য গার্ডিয়ানের সমালোচক বলছেন, ‘এমনিতে এক্সট্র্যাকশনের প্রথম পর্ব যথেষ্ট বিনোদন দিয়েছে, তবে দ্বিতীয় পর্ব দেখে মনে হয়েছে প্রযোজকরা আয়ের দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। অর্থাৎ সিনেমাটা খুব ভালো হয়নি। গার্ডিয়ান এক্সট্র্যাকশন টুকে দিয়েছে মোটে এক স্টার!
বন্দুকযুদ্ধের দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফি প্রশংসাযোগ্য। তবে এত মারদাঙ্গার মধ্যে সাবেক স্ত্রী মিয়ার সঙ্গে টাইলারের সম্পর্কের জটিলতাও দেখা গেছে। এবার জানা গেছে রেকের পরিবার সম্পর্কে। তবে দিন শেষে আবেগের দিক থেকে টাইলার একাকী, বিষণ্ণ।
দেখেশুনে মনে হয়েছে এক্সট্র্যাকশন টুতে আগের বারের চেয়ে বাজেট বেশি ছিল। ভিয়েনার রাস্তায় তারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। কতটা শেষমেশ কাজে লেগেছে নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে অ্যাকশন সিনেমাপ্রেমীরা এটুকু নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন যে ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে কিংবা পাঁচ তারা হোটেলে সময় নষ্ট হয়নি।
এক্সট্র্যাকশন টুয়ের মূল শক্তি রাস্তার ধুলোবালি, কাদা আর ময়লা হয়ে যাওয়া পোশাকে অ্যাকশন দৃশ্য, ঘাম আর রক্তে মাখামাখি তারকারা, কংক্রিটের মেঝেতে পড়ে শব্দ করা কার্টরিজ। আর ছবির সীমাবদ্ধতার আলোচনা উঠলে বলতে হবে ক্রিস হেমসওয়ার্থের হিউমারের কোনো সুবিধা পরিচালক নিতে পারেননি, যের থরে চরিত্রে মার্ভেল হেমসওয়ার্থকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছে।










