ঢাকার মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংগীতাঙ্গনের শিল্পীরা। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ধরনের ঘটনা শিল্পীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন তারা।

গত ২৪ অক্টোবর ভোর পৌনে ৫টার দিকে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে পার্ক করে রাখা আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না আসিফ। তিনি তখন ভবনের তৃতীয় তলায় নিজের কার্যালয়ে ছিলেন। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

আসিফ আকবর জানান, দুই-আড়াই মাস ধরে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন স্ত্রী। মেয়েকে নিয়েও হুমকি আসছিল। এ কারণে ধীরে ধীরে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি না করে গানে মনোযোগী হতে চেয়েছিলেন আসিফ।

ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে আসিফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যারা কাজটি করেছে, তারা জানত আমি কখন আসি, কখন বের হই। সেদিন আমি একা ছিলাম। সৌভাগ্যবশত, আমার বড় ছেলে কানাডা থেকে ফোন করে নামাজ পড়ে আমাকে আবার ফোন দিতে বলেছিল। তখন আমি আর বাইরে বের হইনি। এ সময় একটি ছেলে পিঠে ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাচ্ছিল। তারা ভেবেছিল, আমি বের হয়েছি। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাওয়া ছেলেটি আমি নই।’

কেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন আসিফ। তিনি জানান কাউকে সন্দেহ করছেন না। কেউ তাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন চিন্তা কখনো করেননি। আসিফ বলেন, ‘আমি একজন গায়ক, আমাকে কে মারবে? আমি এমন কিছু করিনি যে আমাকে মেরেই ফেলতে হবে। আমার মনে হয়, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ নেয়ার চেষ্টা হতে পারে। তবে আমি অনুমাননির্ভর কোনো কথা বলতে চাই না।’

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারও। শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানান তিনি। বাপ্পা বলেন, ‘ব্যাপারটা শুনে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। কেন এমন ঘটনা ঘটল, কিছুই বুঝতে পারছি না। এটা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমার মনে হয়, পুরো সমাজের পরিস্থিতি নিয়েই আমরা এখন উদ্বিগ্ন।’

এদিকে আসিফ আকবরের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সংগীতশিল্পী মনির খান। তার মতে এমন ঘটনাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আসিফ আকবর বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সর্বজনস্বীকৃত একজন মানুষ। তিনি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।’ এ ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মনির খান।

অন্যদিকে ঘটনার তদন্তে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংগীতশিল্পী ইথুন বাবু। আসিফ আকবরের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ইথুন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা শুধু শিল্পীদের নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের। বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে এবং আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। আশা করি, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করতে হবে আইনের মাধ্যমে।’