ডেথ অন দ্য নাইল নির্মিত হয়েছে আগাথা ক্রিস্টির একই নামের উপন্যাস থেকে। তথ্যটি সবারই জানা। মিস্ট্রি সিনেমার ভক্তদের পাশাপাশি এ সিনেমা তাই আগ্রহ জাগিয়েছে ক্রিস্টি ভক্তদেরও। এটি ডেথ অন দ্য নাইল উপন্যাসের তৃতীয় স্ক্রিন অ্যাডাপটেশন। এর মধ্যে ১৯৭৮ সালে হয়েছিল সিনেমা। এবারের ডেথ অন দ্য নাইল পরিচালনা করেছেন কেনেথ ব্রানা।

পুরনো গল্প, পরিণতি জানার পরও সিনেমাটি দর্শকদের হতাশ করেনি। চোখ ফেরানো কিংবা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসার অবকাশ পাননি দর্শকরা। ২০১৭ সালে আগাথা ক্রিস্টির উপন্যাস নিয়ে কেনেথ ব্রানা নির্মাণ করেছিলেন মার্ডার অব দি ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস। ডেথ অন দ্য নাইল নির্মিত হয়েছে এর সিকুয়াল হিসেবে।

কভিড আতঙ্কের কারণে ডেথ অন দ্য নাইল মুক্তি পেয়েছে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই বছর পর। এমনকি সিনেমাটির মুক্তি পেছানোর এ সময়টাতে কেনেথ ব্রানা সাদা-কালোয় বেলফাস্ট নামের একটি আত্মজীবনীধর্মী সিনেমা বানিয়ে ফেলেছেন। বেলফাস্ট মুক্তি পেয়েছে ডেথ অন দ্য নাইলের আগে এবং এটি এ বছরের অস্কার আসরের অন্যতম সিনেমা হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

ডেথ অন দ্য নাইলে কেনেথ ব্রানা নিজেই অভিনয় করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্র গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোর চরিত্রে। একদল পর্যটকের সঙ্গে এরকুল যোগ দেন মিসরে। এ দলে ছিলেন এক সম্পদশালী উত্তরাধিকারী লিনেট রিজওয়ে (গ্যাল গাদোত) ও তার স্বামী সাইমন ডোয়েল (আরমি হ্যামার)। নীল নদের তাদের ভ্রমণ ধীরে ধীরে নিছক আনন্দভ্রমণ হয়ে থাকে না, একের পর এক ঝামেলা তৈরি হতে থাকে। অনেকে তাদের লক্ষ্য পূরণে আগ্রাসী হয়ে ওঠে।

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসে ব্রানা আগাথা ক্রিস্টির নিজস্ব স্টাইলকে বড় পর্দায় আধুনিক দর্শকদের সামনে ঠিকঠাক উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন। ক্রিস্টির লেখায় অ্যাকশন দৃশ্য কিংবা সহিংস মৃত্যুর ঘটনা তেমন পাওয়া যায় না। এখন এ যুগে এমন গল্পকে বড় পর্দায় তুলে আনাটা সহজ নয়। গোয়েন্দা কাহিনীতে দর্শক তো একটু মারদাঙ্গা অ্যাকশন দেখতেই চাইবেন। ক্রিস্টি বরং রহস্যটা নীরবে জমিয়ে তুলতে চান। তার চরিত্রগুলো বাস্তব দুনিয়ার অনুকরণে নির্মিত, তাদের ব্যক্তিত্ব বিশ্বাসযোগ্য। ডেথ অন দ্য নাইল উপন্যাসে শুটআউট, কার চেজ কিংবা রোমাঞ্চকর কোনো দৃশ্য নেই। বরং আছে ধীরে ধীরে রহস্য উন্মোচনের উত্তেজনা। কেনেথ ব্রানা মার্ডার অন দি ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস থেকে ডেথ অন দ্য নাইলেও আগাথা ক্রিস্টির বৈশিষ্ট্যগুলোকে ধরে রাখতে পেরেছেন। সঙ্গে তা আধুনিক দর্শকের জন্যও উপযুক্ত করে তুলেছেন।

কেনেথ ব্রানা ডেথ অন দ্য নাইলে মূল উপন্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই অক্ষত রেখেছেন। অভিনয় ও সিনেমা পরিচালনায় তিনি সমান্তরাল দক্ষতা দেখিয়েছেন। উপন্যাসটি সংলাপনির্ভর। তাই দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে তিনি মুভিং ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন। এছাড়া এখনকার দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে আর ভালো কোনো বিকল্প তার সামনে ছিল না। ফটোগ্রাফি পরিচালক হ্যারিস জ্যাম্বারলোকোসকে নিয়ে ব্রানা সিনেমায় বেশ জীবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছেন।

এ সিনেমায় দেখা গেছে বলিউড অভিনেতা আলি ফজলকে। তার অভিনয় চরিত্রটিকে সফল করেছে, তার চোখের ভাষা আর হাসি মার্ডার মিস্ট্রির জন্য একেবারে মানানসই ছিল। তবে সিনেমাটি দর্শক-সমালোচকদের মন ভরাতে পেরেছে এমন নয়। হলিউড রিপোর্টার, ভ্যারাইটি নাইলের বেশি প্রশংসা তারা করেনি। দি অবজারভার ৫-এ মোটে ৩ স্টার দিয়েছে।