গুণী নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। প্রায় দুই বছর ধরে এ নির্মাতা ব্যস্ত আছেন ‘কাজল রেখা’ সিনেমা নিয়ে। মৈমনসিংহ গীতিকার কাজল রেখা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এ সিনেমা। এটি ৪০০ বছর পুরনেv গল্প। কাজল রেখার শুটিং পর্ব শেষ, এখন অপেক্ষা প্রেক্ষাগৃহে আসার। এরই মধ্যে সিনেমার প্রচারণা শুরু করেছে কাজল রেখা টিম। পরিচালনার পাশাপাশি এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ বিন্যাস করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম।
কবে মুক্তি পাবে এ সিনেমা, এ নিয়ে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে নির্মাতা বলেন, ‘আমাদের সিনেমার শুটিং আগেই শেষ হয়েছিল। পোস্টপ্রডাকশনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা সিনেমা মুক্তির। কাজল রেখা অনুদানের সিনেমা, তাই অনুদান কমিটি আগে সিনেমাটা দেখবে, এরপর এটি সেন্সরে যাবে। আমরা আগামী ফেব্রুয়ারিতেই সিনেমাটা মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের মানুষকে কাজল রেখা দেখানোর অপেক্ষায় আছি আমি। দর্শক যাতে আমাদের সিনেমাটা নিয়ে জানতে পারে তার জন্য এর ফেসবুক পেজ করেছি। কাজল রেখার মুক্তিসহ এর অন্যান্য খবর আমরা এখানে পোস্ট করব, দর্শকের সঙ্গে আমাদের সংযোগ স্থাপন করতে।’
কাজল রেখার শুটিং পর্ব শেষ হয়েছে কয়েক মাস আগেই। শুটিং নিয়ে বলতে গিয়ে গিয়াস উদ্দিন সেলিম জানান, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে। ৪০০ বছর আগের গল্প নিয়ে এটি নির্মাণ হয়েছে। তাই শুটিং সেট সেভাবেই করা হয়েছিল। পিরিয়ডিক সিনেমা নির্মাণ করার চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে পিরিয়ডিক সিনেমা করায় চ্যালেঞ্জ আছে। এটা সত্যি অনেক কঠিন একটা কাজ। আমাদের কাজল রেখা টিমও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েই সিনেমাটা করেছে। ৪০০ বছর আগে আমরা কেমন পোশাক পরতাম, কী ধরনের বাড়িতে বসবাস করতাম সে বিষয়গুলো নিয়ে আসতে হয়েছে। সে সময় আমাদের আর্কিটেকচার, রীতিনীতিসংক্রান্ত নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে নজর দিতে হয়েছে। পর্দায় এসব নিয়ে আসতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে এ সিনেমায় আমরা যতটুকু তুলে ধরেছি, তা নিয়ে আমি খুশি। ৭০-৮০ জন গারো ও হাজং মিলে কাজল রেখার সেট তৈরি করেছেন। এটা আসলে মহাযজ্ঞ। কাজল রেখা আমার করা এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট। আমার ধারণা দর্শক বিষয়টা গ্রহণ করবে। পিরিয়ডিক সিনেমার পাশাপাশি কাজল রেখা কিন্তু একটা মিউজিক্যাল ফিল্ম। এ সিনেমায় ২০টির বেশি গান আছে। গানগুলো আমাদের পূর্ব বাংলার গান।’
কাজল রেখার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করবেন শরিফুল রাজ ও নবাগত চিত্রনায়িকা মন্দিরা চক্রবর্তী। বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, ইরেশ যাকের, আজাদ আবুল কালাম, খায়রুল বাশার, সাদিয়া আয়মানসহ অনেকে। এ সিনেমায় কংকন দাসী চরিত্রে অভিনয় করছেন মিথিলা আর সুচ কুমার চরিত্রে শরিফুল রাজ। ক্রিকেট বিশ্বকাপের মঞ্চে শুরু হয়েছে সিনেমাটির প্রচারণা। বাংলাদেশ বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচ হয়েছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। ম্যাচটি ঘিরে প্রচারণা চালায় কাজল রেখা টিম। নির্মাতা ও নায়ক-নায়িকা শরিফুল রাজ ও মন্দিরা চক্রবর্তী হাজির হয়েছিলেন ইডেন গার্ডেনে।
২০০৯ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিম নির্মাণ করেন তার প্রথম সিনেমা ‘মনপুরা’। চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলি অভিনীত সিনেমাটি সে সময় দর্শককে হলে ফিরিয়ে এনেছিল। গত বছর ‘গুণিন’ ও ‘পাপ পুন্য’ সিনেমা দুটি দিয়ে দর্শক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। চলতি বছর নতুন সিনেমা মুক্তি না পেলেও কাজল রেখা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন এ নির্মাতা। তাই নতুন বছরের শুরুতে সিনেমাটি মুক্তি দিতে চান তিনি। নির্মাতা একাধিকবার বলেছেন, কাজল রেখা তার স্বপ্নের সিনেমা। একে ঘিরে আশাবাদী তিনি ও কলাকুশলীরা। বছরের শুরুতে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের কাজল রেখা সিনেমাটি মুক্তি হলে নতুন বছরে ঢাকাই সিনেমা দর্শকের আগ্রহ জাগায় কিনা, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে এটি মুক্তি পর্যন্ত।










