হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে মাসব্যাপী নানা আয়োজন শুরু হয়েছে। প্রদর্শনী, বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও স্মারক নিলামের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। খবর এএফপি।
আজ সোমবার হলিউডে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন শুরু হয়েছে। বিখ্যাত চাইনিজ থিয়েটারে ভক্তরা তাকে স্মরণ করে জন্মদিনের গান গাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সেখানে ১০০টি গোলাপ ও একটি কেকও রাখা হবে। এ থিয়েটারেই সংরক্ষিত রয়েছে তার হাতের ছাপ।
মেরিলিন মনরোর জন্মদিন সোমবার হলেও রোববারই শ্রদ্ধা জানানো শুরু করেন ভক্তরা। অ্যাকাডেমি মিউজিয়াম অব মোশন পিকচারস ‘মেরিলিন মনরো: হলিউড আইকন’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এতে তার চলচ্চিত্রজীবন ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
১৯৫০ এর দশকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া মনরো ১৯৬২ সালের আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে নিজের বাড়িতে মারা যান। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৩৬ বছর।
পুরো জুন মাসজুড়ে একাডেমি জাদুঘরে তার বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য অ্যাসফল্ট জাঙ্গল’, ‘নায়াগ্রা’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’, ‘সাম লাইক ইট হট’ এবং ‘দ্য মিসফিটস’। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এ প্রদর্শনীতে মনরোকে ঘিরে শত শত স্মারক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তার বিখ্যাত গোলাপি পোশাক অন্যতম আকর্ষণ।
আগামী ৪ জুন ‘১০০ ইয়ার্স অব মেরিলিন’ শিরোনামে একটি বিশেষ নিলামের আয়োজন করবে নিলাম প্রতিষ্ঠান জুলিয়েন্স অকশনস। সেখানে মনরো-সংক্রান্ত প্রায় ২০০টি স্মারক বিক্রির জন্য তোলা হবে। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে আগে প্রকাশ না হওয়া আলোকচিত্র, তার শেষ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যে লেখা ব্যক্তিগত নোট, হাতে লেখা রান্নার রেসিপি এবং ব্যবহৃত লিপস্টিক।
১৯২৬ সালের ১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন মনরো। শৈশবে তাকে অনাথ আশ্রম ও পালক পরিবারের মধ্যে বেড়ে উঠতে হয়েছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি প্রথম বিয়ে করেন।
১৯৪৪ সালে একটি কারখানায় কাজ করার সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত নারীদের ছবি তুলতে আসা এক আলোকচিত্রীর মাধ্যমে তার বিনোদনজগতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। পরে তিনি মডেলিং শুরু করেন। এরপর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে নিজের বাদামি চুল স্বর্ণালি রঙে রাঙিয়ে নেন, যা পরে তার অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়। ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগেই তিনি আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি অর্জন করেন।
পর্দার বাইরেও মনরো ছিলেন ব্যতিক্রমী। তিনি নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘অ্যাক্টরস স্টুডিও’তে প্রশিক্ষণ নেন এবং নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
১৯৫০-এর দশকে হলিউডের বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকা অবস্থায় ‘দ্য গার্ল ইন পিঙ্ক টাইটস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। তার মতে, চিত্রনাট্য দুর্বল ছিল এবং সহ-অভিনেতার তুলনায় তার পারিশ্রমিকও কম ছিল।
এছাড়া বিশ্বব্যাপী হ্যাশট্যাগ মিটু আন্দোলনের বহু দশক আগেই মনরো হলিউডে নারী শিল্পীদের শোষণ ও হয়রানির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন।










