‘হাউজ অব ড্রাগন’-এ তরুণ রেইনিরা টারগারিয়েন চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান এই অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী। এবার যোগ দিয়েছেন ডিসি স্টুডিওজের নতুন সুপারহিরো জগতে। আসন্ন সুপারগার্ল সিনেমায় তিনি অভিনয় করছেন কারা জোর-এল বা সুপারগার্ল চরিত্রে। তবে এ পথচলা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। আলোচনার পাশাপাশি তাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে ভয়, মানসিক চাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ধরনের তীব্র ট্রলিং।
মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটিকে দেয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মিলি জানান, নারী সুপারহিরো চরিত্রগুলোকে ঘিরে অনলাইনে প্রায়ই সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নতুন সুপারগার্ল হিসেবে তার নাম ঘোষণার পরও নানা ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। তবে ধীরে ধীরে তিনি বুঝেছেন, সব সমালোচনার জবাব দেয়ার প্রয়োজন নেই। তার ভাষায়, ‘শুধু এগিয়ে যাও, যা হওয়ার হোক।’ এ নীতিতে অটল থেকে তিনি অগ্রসর হন। এখন তিনি নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে দেন না।
নতুন এ সুপারগার্ল আগের পরিচিত সংস্করণগুলোর মতো নয়। সিনেমাটি নির্মাণ হচ্ছে টম কিংয়ের জনপ্রিয় কমিক সিরিজ ‘সুপারগার্ল: উইমেন অব টুমরো’ অবলম্বনে। এখানে কারা জোর-এলকে দেখানো হবে এক মানসিকভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিদ্রোহী ও অন্ধকার আবহের চরিত্র হিসেবে। পরিচালক জেমস গান। পরিচালক চেয়েছেন, সুপারগার্লকে নিখুঁত বা কোমল নায়িকা হিসেবে নয়, বরং জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এক তরুণী হিসেবে তুলে ধরতে। ডিসি স্টুডিওজ-এর সহপ্রধান পিটার সাফরানের ভাষায়, ‘এ সুপারগার্ল “অনেক কিছু সহ্য করেছে” এবং সে অভিজ্ঞতাই তাকে আলাদা করে তুলেছে।’
মিলির ব্যক্তিগত জীবনও ছিল সংগ্রামে ভরা। জনপ্রিয় অস্ট্রেলীয় সিরিজ ‘আপরাইট’-এ অভিনয়ের পরও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে তিনি পরিবারের বাড়ির চিলেকোঠায় থাকতেন। এমনকি অতিরিক্ত আয়ের জন্য সিডনির একটি রেস্তোরাঁয় থালা ধোয়ার কাজও করেছেন। সে সময়ের কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, জীবন তখন কঠিন ছিল, কিন্তু সে অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তববাদী থাকতে সাহায্য করেছে।
২০২৪ সালে সুপারগার্লের অডিশন দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় মিলি অ্যালকক ভীষণ নার্ভাস ছিলেন। কারণ চরিত্রটি কেবল একটি সিনেমার নয়, বরং ডিসি স্টুডিওজ এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শেষ পর্যন্ত জেমস গান মিলির মধ্যেই খুঁজে পান প্রয়োজনীয় বিদ্রোহী মানসিকতা ও চরিত্র উপযোগী যোগ্যতা।
আগামী জুনে মুক্তি পাবে সুপারগার্ল। এরই মধ্যে সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এ সিনেমার মাধ্যমে ডিসি স্টুডিওজ আরো মানবিক, জটিল এবং বাস্তবধর্মী সুপারহিরো গল্প বলার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
সুপারগার্ল চরিত্র মানেই নিখুঁত, নির্ভীক ও অতিমানবীয় উপস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরে দর্শক এমন ধারণায়ই অভ্যস্ত। তবে মিলি অ্যালককের সুপারগার্ল সে চেনা ধারা ভাঙতে চলেছে। এভাবে মিলি অ্যালকক নিজেও ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন হলিউডের নতুন প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
সূত্র: ভ্যারাইটি










