বর্তমানে আলোচিত অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান। সিনেমা ও ওটিটি দুই নিয়ে সমানতালে ব্যস্ত এ অভিনেতা। সম্প্রতি নাসির উদ্দিন খান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। রায়হান রাফী পরিচালিত ‘পরাণ’ সিনেমায় অভিনয় করে এ পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের এ যাত্রা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেন নাসির উদ্দিন খান। অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে চট্টগ্রামে একটি চাকরি করতেন নাসির উদ্দিন খান। যদিও অভিনয়ের শুরুটা হয়েছিল অনেক আগেই। ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামের তির্যক নাট্যগোষ্ঠীতে যোগ দেন এ অভিনেতা। এরপর কেটে গেছে কয়েকটি বছর। চাকরি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন খান বলেন, ‘বিভিন্ন সময়েই প্রায় সব মনীষী বলেছেন ধৈর্যধারণ করার কথা। আসলে প্রতিটা গাছের ফল দেয়ার সময় আছে। আমাদের জীবনেও এমন কিছু সময় থাকে। আমার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুর অনেক আগে থেকেই শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে বলেছে ঢাকায় যাওয়ার কথা। কিন্তু আমি খুব বেশি সেভাবে ভাবিনি। আমি ২০০১-১৫ পর্যন্ত চাকরি করেছি, এক পর্যায়ে আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। অন্যদিকে ২০১০-এর পর থেকে কিছু শর্টফিল্মে কাজ করেছিলাম। এরপর কয়েকটি টিভি নাটকে অভিনয় করেছি। একটি সিনেমায়ও অভিনয় করেছিলাম, যেটা এখনো মুক্তি পায়নি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০১৫ সালের দিকে আমার ভেতর থেকে আসে ঢাকায় যেতে হবে, অভিনয় করব আমি।’
ঢাকায় আসার পর অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যাত্রা খুব বেশি সহজ ছিল না বলে জানান নাসির উদ্দিন খান। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের প্রথম দিকে ঢাকা আসার ছয়-সাত মাস পর আমি বেশকিছু কাজ করেছিলাম। ২০১৬-এর শেষের দিকে দুটি সিনেমায় অভিনয় করি। একটা ‘‘হালদা’’ অন্যটা ‘‘নোনাপানি’’। বলা যায়, ২০১৭ সাল থেকে টুকটাক নিয়মিত কাজ করছিলাম। আয়নাবাজি সিরিজের ‘‘ফুল ফুটানোর খেলা’’য় একটি চরিত্র পেয়েছিলাম। এ নাটকে ১ মিনিট মতো ছিল আমার সিন। ওই কাজের প্রশংসা আমি এখনো শুনি। ওই সময়ে আমি বুঝতে পারি যে চরিত্র বড় বা ছোট বলে কিছু নেই, ঠিকভাবে অভিনয় করতে পারলে দর্শকের চোখে পড়বেই।’
নাসির উদ্দিন খান এরই মধ্যে একাধিক সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্টে কাজ করেছেন। যার বেশির ভাগেই নিজের ছাপ রেখেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ‘সিন্ডিকেট’, ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’, ‘মহানগর’, ‘গুটি’। মহানগর ও সিন্ডিকেটের পর্দায় খুব কম সময়ের জন্য থাকলেও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন। এর পেছেন নাসির উদ্দিনের এক্স ফ্যাক্টর কী প্রশ্ন করলে একটু হেসে নাসির উদ্দিন খান জবাবে বলেন, ‘অল্প আঁচে রান্না করলে সেটার স্বাদ ভালো হয়। আসলে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তাই। আমি কত সময়ের জন্য একটা চরিত্র করছি সেটা বিষয় নয়। যখন কোনো চরিত্র করছি একটু সময় নিয়ে করার চেষ্টা করি। শুটিংয়ের আগে থেকেই পরিচালকদের সঙ্গে আমার অনেকবার কথা হয়। আমি যখন শুটিংয়ে থাকি নেট ব্যবহার করি না। শুটিং সেটে হয়তো আমাকে ৮ ঘণ্টা থাকতে হয় কিন্তু পুরো সময় তো কাজ করতে হয় না, বিরতি থাকে। বিরতিতে যদি ফোন ব্যবহার না করি, তাহলে ওই চরিত্রটা নিয়ে ডিটেইলে ভাবতে পারি। সহজ করে বলা যায় মনোযোগ দিয়ে অভিনয় করলে আসলে ভালো কিছু পাওয়া যায়। অনেকে ব্যস্ত থেকেও চরিত্রে ঢুকে যেতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু সময় নিয়ে ভাবতে হয়। হয়তো বা এ কারণেই ছোট চরিত্র হলেও কিছু ডিটেইল আসে।’
নাসির উদ্দিন খান দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও সমাদর পেয়েছেন তার আসন্ন সিনেমা ‘বলী’ নিয়ে। বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের ২৮তম আসরের নিউ কারেন্টস বিভাগে বাংলাদেশের ‘বলী: দ্য রেসলার’ সিনেমার পুরস্কার অর্জন করেছে। ইকবাল হোসাইন চৌধুরী পরিচালিত বলী সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন নাসির উদ্দিন খান। এটি মুক্তির অপেক্ষায়।










