এটি নির্মাতার দ্বিতীয় পাম ডি’অর। ২০০৭ সালেও তিনি পাম ডি’অর পেয়েছিলেন ‘ফোর মান্থস, থ্রি উইকস অ্যান্ড টু ডেজ’ সিনেমার জন্য।

রোমানিয়ার চলচ্চিত্র ফিওডকে সেরা সিনেমা নির্বাচন প্রসঙ্গে জুরি সভাপতি পার্ক চ্যান-উক বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের জুরিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এ দ্বিস্তরীয় বৈচিত্র্য আমাকে আনন্দ দিয়েছে। ফিওড বিশ্বে বৈচিত্র্যকে সম্মান করার বিষয়টি শিল্পসম্মতভাবে অসাধারণ ভঙ্গিতে তুলে ধরেছে।’

পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে মুঞ্জিউ তার অতীতের জয়ের অভিজ্ঞতা এবং ২০১৩ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গের অধীনে কান জুরিতে কাজ করার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ‘সব পুরস্কারই সময় ও প্রেক্ষাপটনির্ভর, আর আপনারা আমাকে এ পুরস্কার দিয়েছেন—এটি আমাদের জন্য অসাধারণ ব্যাপার। আমরা খুবই আনন্দিত। কিন্তু আমাদের ১০ বা ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে, তারপর আবার এ চলচ্চিত্রগুলো দেখে বুঝতে পারব কোনগুলো সত্যিই ভালো ছিল এবং সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকতে পেরেছে।’

তিনি সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সহমর্মিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এগুলো খুব সুন্দর শব্দ, এবং আমরা এসব শুনতে অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের এগুলো আরো বেশি প্রয়োগ করতে হবে।’

এ আসরে গ্রাঁ প্রি পেয়েছে আঁদ্রে ভিয়াজিনস্তেভ পরিচালিত ‘মিনোটর’। এটি ক্লড ক্যাব্রলের ১৯৬৯ সালের নাটক ‘লা ফেমে ইনফিডেল’ থেকে অনুপ্রাণিত।

জুরি প্রাইজ পেয়েছেন জার্মান পরিচালক ভালেস্কা গ্রিজবাখ। এ পুরস্কার মূলত সাহসী ও ঝুঁকি নিয়ে নির্মিত কাজের জন্য দেয়া হয়। আসলে ভালেস্কার ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’ এ পুরস্কার পেল। সিনেমায় বুলগেরীয় প্রত্নতত্ত্ববিদের গল্প দেখা যায়। গ্রিজবাখ অঞ্চলটিতে শুটিং করার অভিজ্ঞতা এবং সেখানকার মানুষের সহমর্মিতা ও কোমলতার প্রশংসা করেন।

সেরা পরিচালকের পুরস্কার যৌথভাবে দুটি সিনেমার জন্য তিনজন পরিচালক পেয়েছেন। ‘দ্য ব্ল্যাক বল’ পরিচালক হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের অ্যামব্রোসির সঙ্গে ‘ফাদারল্যান্ড’ পরিচালক পাওয়েল পাভলিকোভস্কিকে পুরস্কার দেয়া হয়। আরেক সমালোচকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘অল অব আ সাডেন’ সেরা অভিনেত্রীর যৌথ পুরস্কার এনে দেয় ভার্জিনিয়ে এফিরা এবং তাও ওকামোতোকে। সিনেমায় তারা একে অন্যের মাতৃভাষায় অভিনয় করেছেন। ওকামোতো বলেন, ‘আমাদের জুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।’

সেরা অভিনেতার পুরস্কারও পেয়েছেন দুজন। যৌথভাবে এ পুরস্কার পেলেন ইমানুয়েল মাকিয়া ও ভ্যালেন্টিন ক্যাম্পাগনে। লুকাস ঢন্টের ‘কাওয়ার্ড’ চলচ্চিত্রে তারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়াইরত দুই সৈনিকের ভূমিকায় অভিনয় করেন, যারা যুদ্ধের মধ্যেই প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এবারের উৎসবে যুদ্ধভিত্তিক অনেক চলচ্চিত্র ছিল। ইমানুয়েল মারে ‘আ ম্যান অব হিজ টাইম’-এর জন্য সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতেছেন।

এবার আঁ সার্তে রিগা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে নেপালি চলচ্চিত্র ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অবিনাশ বিক্রম শাহ। পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি এ অর্জনের জন্য নিজের টিমকে ধন্যবাদ দেন।