ক্ষুদিরাম বসুকে নতুন করে চেনানোর কিছু নেই। ১৮ বছর বয়সে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে গিয়ে শঙ্কাহীন চিত্তে ফাঁসির দড়ি গলায় পরেছিলেন। বাঙালির বিদ্রোহ, আবেগ, ইতিহাসে স্মরণীয় এক নাম ক্ষুদিরাম বসু। এমন ঐতিহাসিক মানুষটির ছবি সম্প্রতি দেখা গেছে থানার সন্ত্রাসীদের তালিকায়। জি-ফাইভের ওয়েব সিরিজ ‘অভয় ২’-এর এক দৃশ্যে এমনটা দেখা গেছে। দৃশ্যটির ছবি হয়েছে ভাইরাল। ইন্টারনেটে সরব হয়েছে বহু মানুষ।
সৈয়দ নাজিয়া হাসান নামের এক টুউটার আইডি থেকে ‘অভয় ২’-এর একটি দৃশ্যের ছবি টুইট করা হয়। দৃশ্যটিতে দেখা যায় থানায় বসে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পুলিশ অফিসার অভয় প্রতাপ সিং (কুণাল খেমু)। এ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু পাশের অপরাধীদের আঁকা ছবি টাঙানো বোর্ডের দিকে তাকাতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। অপরাধীদের তালিকায় দেশের কনিষ্ঠতম বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ছবি। নিজের টুইটের ক্যাপশনে নাজিয়া লিখেছেন, ‘‘বাঙালি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু জি-ফাইভের ওয়েব সিরিজ ‘অভয় ২’-তে পলাতক অপরাধীর তালিকায়। অবশ্য সিবিএসই কিংবা আইসিএসইর পড়ুয়ারা চিনতে পারবেন না। তবে এখানে যদি আন্নাদুরাই, এমজি রামচন্দ্রণ কিংবা এনটি রামা রাওয়ের ছবি থাকত, তাহলে দাক্ষিণাত্য কেমন ক্ষোভে ফেটে পড়ত বলুন তো!’’
নাজিয়ার টুইটের মাধ্যমেই জি-ফাইভের এ কেলেঙ্কারি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। সোস্যাল মিডিয়ায়, বিশেষত ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তাদের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন বাঙালি বলেই কি এই অবহেলা?
শেষমেশ ইন্টারনেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া, বয়কটের হুমকিতে ভুল স্বীকার করেছে ওয়েব প্লাটফর্ম জি-ফাইভ। ওয়েব সিরিজ ‘অভয় ২’-এর একটি দৃশ্যে দুষ্কৃতীদের তালিকায় বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ছবি থাকার জন্য টুইট করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে এই স্ট্রিমিং জায়ান্ট। তাদের কথায়, ভুলটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। কারও ভাবাবেগে আঘাত করার কোনো অভিপ্রায় প্রযোজক, পরিচালক বা ওয়েব প্লাটফর্মের ছিল না। দৃশ্যটি ব্লার করে দেয়া হচ্ছে। করজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনার ইমোজি পোস্ট করে জি-ফাইভের টুইট শেয়ার করেছেন পরিচালক কেন ঘোষ। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—সেই অনিচ্ছাকৃত ভুলটি আসলে কীভাবে হয়েছিল, যা ক্ষুধিরাম বসুকে থানার অপরাধীদের ছবিসংবলিত বোর্ডে হাজির করেছে?
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে










