সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। বছর ঘুরে আসা এ উৎসব নিয়ে চলে নানা আয়োজন। দেশের তারকারাও অন্য দশ জনের মতো মেতে উঠেছেন এ উৎসবকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারা প্রকাশ করছেন পূজার নানা আনন্দের মুহূর্ত। আবার অনেকেই পূজার মধুর স্মৃতি নিয়ে চলতি বছরের দুর্গোৎসবে আবেগে ভাসছেন। পূজাকে ঘিরে কথা হয় দেশের কয়েকজন তারকার সঙ্গে। 

জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। পূজার স্মৃতি নিয়ে বলতে গিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘ছোটবেলায়ই পূজাটা উপভোগ করতাম। নতুন পোশাক ছিল আনন্দের উৎস। পূজায় নতুন পোশাকের খোঁজ নিতে বারবার দর্জির দোকানে যেতাম। সময়ের পরিবর্তনে সে শৈশব-কৈশোর পার হয়ে এসে এখন আমার সন্তান পূজা উৎসবের দিনগুলোয় আনন্দ করবে। এখন সে আনন্দ পূরণ করার দায়িত্বটা আমার। এখন নিজের জন্য সেভাবে আনন্দ করা হয় না। ছোটবেলায় এক মাস আগ থেকে অপেক্ষা করতাম পূজার জন্য।’

গত বছরের শেষে বাবাকে হারিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। তাই এবারের শারদীয় উৎসব আলাদা এ অভিনেতার জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাই আবেগ নিয়েই লেখেন ‘এবারো নিজের হাতে সবার জন্য নতুন কাপড় কেনার লিস্ট তৈরি করতে গিয়ে প্রথমেই বাবার নামটা লিখে ফেলেছি। হঠাৎ মনে হলো, আরে বাবা তো নেই। চুপ করে বসে থাকলাম অনেকক্ষণ।

চোখের জল কোনোভাবেই বন্ধ করতে পারছিলাম না। গত বছর বাবা চলে গেছেন পরলোকে। জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত বাবা-মাকে ছাড়া কোনো দুর্গা পূজা পালন করিনি। এবারই প্রথম বাবা নেই। বাবার জন্য কিছু কেনাও হয়নি।’

বিদ্যা সিনহা মিম পূজার স্মৃতি নিয়ে বলেন, ‘আসলে পূজার স্মৃতি নিয়ে বললে বলতে হবে ছোটবেলার পূজার কথা। তখন অনেক আনন্দ হতো। আমরা পূজায় মামা বাড়ি যাওয়ার অপেক্ষায় থাকতাম। মামার বাড়িতে পূজার আনন্দ একটু অন্য রকম হতো। আমার কাছে পূজা মানেই সকাল বেলা উঠে অঞ্জলি দেয়া। সারা দিন নতুন পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানো। ছোটবেলার পূজা খুব মিস করি।’

এবারের পূজা কেমন কাটছে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিম জানান, সব মিলিয়ে আনন্দেই সময় কাটছে তার। তবে অভিনেত্রীর বাবা-মা কানাডায়, পূজায় তাদের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে, যা তাকে কিছুটা কষ্ট দিচ্ছে। তারকা হওয়ার আগের এবং পরের পূজায় কোনো পার্থক্য আছে কিনা জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘হ্যাঁ, পার্থক্য তো আছেই। আগে লম্বা সময় নিয়ে পূজায় মণ্ডপে ঘুরতাম, কেউ তেমন চিনত না। কিন্তু এখন সবাই চেনে। অনেকেই কাছে এসে কথা বলেন। আবার অনেকে সেলফি তোলেন। আমি সবটাই উপভোগ করি।’

নিয়মিত বড় পর্দা ও ছোট পর্দায় অভিনয় করছেন মনোজ প্রামাণিক। সঙ্গে চলছে তার শিক্ষকতা। পূজা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মণ্ডপে যাওয়া, সবার সঙ্গে দেখা করা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এসব নিয়েই কাটে পূজা। এবারের পূজার ছুটিতে প্রথমে রাজশাহী যাই। সেখানে আমার বাবা-মা থাকেন। তারপর বাবা-মার সঙ্গে গ্রামে যাওয়া। নবমী-দশমীতে গ্রামে কাটবে।’

দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ। পূজায় দেশে নেই তিনি। অপর্ণা ঘোষের স্বামী সত্রাজিৎ দত্ত জাপানে থাকেন, তার সঙ্গেই আছেন এখন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানে ঘুরে বেড়ানোর একাধিক ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি। পূজায় দেশে না এলেও ছোটবেলার স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। এ নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘ছোটবেলা ছাড়া আমার কাছে সেভাবে স্মরণীয় পূজা নেই। ছোটবেলার পূজায় অনেক আনন্দ করতাম। বড় হওয়ার পর পূজায় মজা পাই না এবং ঢাকায় পূজার রেশ খুঁজেও পাই না। চট্টগ্রামের পূজা খুব উপভোগ করতাম। আমার কাছে দুর্গা পূজা মানেই চট্টগ্রাম। আমি এখনো সেখানকার পূজা মিস করি। পূজা মানেই আমার কাছে ছেলেবেলা।’

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা অপু বিশ্বাস। পূজায় তার এবারের ব্যস্ততা নিয়ে বলেন, ‘অষ্টমীর দিন অঞ্জলি দিয়েছি। পূজা ট্র্যাডিশনাল একটি বিষয়। সাজপোশাকে তাই ট্র্যাডিশনাল লুকটা থাকে। পূজার বিকালগুলো পরিবারের সঙ্গে কাটছে। জয়কে নিয়ে এবার অনেক আনন্দ করছি। ওকে নিয়েই এবারের সব পরিকল্পনা। পূজায় পরিবারের সদস্যদের সুন্দর সুন্দর উপহার দিয়েছি। আমি নিজেও পূজার উপহার পেয়েছি। দুর্গা পূজা উপলক্ষে সবাইকে জানাই শারদীয় শুভেচ্ছা।’