আলোচিত নির্মাতা রায়হান রাফী। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ‘পরাণ’, ‘দামাল’ ও ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা তিনটি তাকে দর্শকের আরো কাছে নিয়ে গেছে। গত দুই বছর ঈদের সেরা সিনেমাগুলোর সঙ্গে যুক্ত আছে রাফীর নাম। নতুন বছরেও সিনেমা নির্মাণে ব্যস্ত রাফী। সিনেমার নাম ‘তুফান’। ওটিটি কনটেন্টগুলো নির্মাণ করেও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।
সদ্যবিদায়ী বছরের শেষে ঘোষণা করা হয় রায়হান রাফীর তুফান সিনেমাটির। সিনেমাটা বড় পরিসরে নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের তিনটি প্রযোজনা সংস্থা। এর মধ্যে আছে চরকি, আলফা আই ও এসভিএফ। আর এ সিনেমায় দেখা যাবে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ব্যস্ত নায়ক শাকিব খানকে। ঈদুল আজহায় দুই বাংলায়ই মুক্তি পাবে তুফান। বড় বাজেটের সিনেমাটির প্রি-প্রডাকশনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রায়হান রাফী। চেন্নাইয়ের রামুজি ফিল্ম সিটিতে বাহুবলীর টেকনিশিয়ানরা সেট নির্মাণের কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। রায়হান রাফী বলেন, ‘তুফান বড় বাজেটের সিনেমা। রামুজি ফিল্ম সিটিতে সিনেমাটির সেট নির্মাণের কাজ চলছে। যাতে পর্দায় আমরা ঠিকভাবে সিনেমাটা তুলে ধরতে পারি, সেজন্য আমার অফিসে প্রি-প্রডাকশনে এমন মিনিয়েচার বানিয়েছি। এখানে যেভাবে যে কালার থাকবে পর্দায়ও সেভাবেই দেখা যাবে। আমরা নিখুঁত শুটিং করতেই এসব করছি।’
এরই মধ্যে প্রি-প্রডাকশনের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন নির্মাতা। ছবিগুলোয় দেখা যায়, সিনেমার সেটে নব্বইয়ের দশক তুলে আনা হয়েছে। বড় দালান, সিনেমা হল, আর পুরনো আমলের গাড়ির দেখা মেলে ছবিগুলোয়। আর সবচেয়ে বেশি নজরে আসে সালমান শাহর ‘মহামিলন’ সিনেমার পোস্টার। এ প্রসঙ্গে রায়হান রাফী বলেন, ‘এটা গল্পের প্রয়োজনেই করা হয়েছে। একটি দৃশ্যে দেখা যাবে, শহরের একটি সিনেমা হলে ওই সিনেমাটা চলছে। সিনেমায় আমরা নব্বইয়ের দশক দেখাচ্ছি যার অংশ এটা।’
তুফান সিনেমাটি বাংলা সিনেমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নির্মাতা। সিনেমাপ্রেমীরাও তুফান নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কলকাতার অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ। প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর ও কো-ফাউন্ডার মহেন্দ্র সোনি। ২৮ বছর ধরে মহেন্দ্র সোনির হাত ধরে মুক্তি পেয়েছে ‘রেইনকোট’, ‘চোখের বালি’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘২২শে শ্রাবণ’-এর মতো অসংখ্য সিনেমা। এবার এসভিএফ একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছে চরকি ও আফা আইয়ের সঙ্গে। অন্যদিকে শাকিব খানের সঙ্গে এটাই রায়হান রাফীর প্রথম কাজ হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে অনেক কিছুই প্রথমবার হতে যাচ্ছে সিনেমাটির মধ্য দিয়ে। ফান সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা রায়হান রাফী উচ্ছ্বসিত। এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই এক্সাইটেড। কারণ আলফা, এসভিএফ ও চরকি—তিনটা বড় প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে। দুটো সিনেমা বানাতে যাচ্ছে। অন্যদিকে শাকিব খানের সঙ্গে এটা আমার প্রথম সিনেমা। সবচেয়ে বড় তিনটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর একজন সুপারস্টার যখন এক হয়, তখন আসলে এ সিনেমা নিয়ে আশা করাই যায়। কেবল তো আমরা কাজ শুরু করলাম। সবার দোয়া চাই। তবে এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, তুফান বাংলা সিনেমার জন্য একটা মাইলফলক হতে যাচ্ছে। এর বাইরে এখন আর কিছু বলা যাবে না।’
রায়হান রাফী তার সিনেমা দিয়ে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন বারবার। পরাণ ও সুড়ঙ্গ সিনেমা দুটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এ দুই সিনেমা হলে দেখতে দীর্ঘ লাইন ধরে টিকিট কেটেছে দর্শক। তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলেছে সিনেমাগুলো। দেশের বাইরেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। রায়হান রাফীর বেশির ভাগ নির্মাণই সত্য ঘটনা অবলম্বনে করা হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় তুফানে থাকছে কিনা সে বিষয়ে এখনো কিছু স্পষ্ট করছেন না নির্মাতা। এ সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে কাকে দেখা যাবে, সেটা নিয়ে রহস্য রাখছেন নির্মাতা। নায়িকার বিষয়টি চমক হিসেবে রাখছেন বলেই এ নিয়ে এখনো কিছু জানাচ্ছেন না নির্মাতা ও প্রযোজকরা। প্রি-প্রডাকশন শেষ করে তুফানের শুটিং শুরু হলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। আর সিনেমাটি মুক্তির পর জানা যাবে নির্মাতা কী চমক আনছেন তুফানে।










